সোমবার , মার্চ ৩০ ২০২০
সংবাদ শিরোনাম
Home » সাহিত্য » অর্জিত সম্মান ১৯৭১ রাজনীতির গ্যাড়াকলে

অর্জিত সম্মান ১৯৭১ রাজনীতির গ্যাড়াকলে

লেখক, মোঃ ফরহাদ হোসেন বাবুঃ- বাংলাদেশ, স্বাধীন বাঙ্গালী জাতির রক্তের অর্জিত একটি সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র। মায়ের কোলের আদর দোলনায় দোলানো স্নেহের ভালবাসা দিয়ে স্বাধীনতার সূর্য উদয় হয়নি। মাতৃক্রোড় দুরে ঠেলে পিতৃ স্নেহ ঘনিষ্ঠজনের ভালোবাসা উপেক্ষা করে পৈশাচিক নির্জাতনের দাবানলে নিজেকে জ্বালিয়ে একটি মহানুভবতার জাতি আমাদেরকে দিয়েছে সোনায় মোড়ানো অমূল্য স্বাধীনতা। আত্মমর্যাদা, নিজ সার্থ, জশ, খ্যাতি, লোভ লালসাকে প্রাধান্য দিয়ে নিজেকে বিসর্জন দেননি মুক্তি বাহিনী। সমস্ত বাঙ্গালী জাতিকেই হানাদারদের কড়াল গ্রাস থেকে মুক্ত করার জন্যই তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন মুক্তি যোদ্ধারা। বলা বাহুল্য ৯ মাস রক্তক্ষয়ি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারি যোদ্ধাদের ভিতর কোন দলের সিল ছিলনা, কোন জাতিগত মার্কা ছিলনা, কোন বাঙ্গালী বিরোধী মনোভাব ছিলনা এদেশের মানুষকে মুক্ত করতে হবে এটাই ছিল আদর্শিক চিন্তাধারা।

যুদ্ধ হলো, স্বাধীনতার সূর্য উদয় হলো কিন্তু জাতি কি মুক্তি পেয়েছে?

বাঙ্গালী জাতি মুক্তি পেয়েছে আন্তর্জাতিক নিগ্রহ থেকে, কিন্তু এই জাতি আজ জাতীয় নিগ্রহের শিকার হয়ে পড়েছে রাজনৈতিক কড়াল গ্রাসে। যানিনা সেসময় বাংলার সূর্য সন্তানেরা কোন আদর্শকে বুকে ধারন করে বিনা সার্থে নিজ জীবন বিসর্জন দিয়েছে বাঙ্গালী জাতিকে মুক্ত করার জন্য? পাঠক নিশ্চয়ই বলবেন এখানে কোন আদর্শ নেই আছে ত্যাগ, অথবা দুটিই বিদ্যামান ছিল তাদের মধ্যে, আমিও তাই বলব।

আজ জাতিগত ভেদাভেদ বৈষম্য কতটা তা হয়ত অনেকেই জানে, কিন্তু একটি দেশে কয়েকটি বৈষম্য বর্তমানে দৃশ্যমান এবং চলমান থাকলে তা ভবিষ্যত জাতি বা প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত।

সূরাঃ- ইউসুফ, আয়াত ২৬-২৭ প্রথম পর্ব তাফসির। এই আয়াতের তর্যমায় হযরত ইউসুফ এবং জুলেখার ছোট্ট একটু আলোচনা করতে চাই। স্বামির সামনে নিজের গোপন বিষয় প্রকাশিত হয়ে যাওয়ায় জুলেখা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। কোন উপায় না দেখে সব দোষ ইউসুফ (আঃ) এর ওপর চাপিয়ে দেন। তিনি এ অন্যায়ের প্রতিবাদ সহ নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন। তিনি বলেন এই নারী মিথ্যে বলছে। তিনি অনেক দিন যাবৎ আমার সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে কিন্তু আমি কখনোই তাকে প্রশ্রয় দিইনি। পাঠক উল্লেখিত আলোচনা থেকে আরো যে গুরুত্বপূর্ন বিষয় জানা যায় তা হলো (কেউ অপবাদ দিলে চুপ থাকা ভদ্রতা নয় বিনয়ও নয়।)

আপনারা একজন রাজনৈতিক কিংবদন্তি নেলসন ম্যান্ডেলার নাম শুনে থাকবেন। তিনি আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সশস্ত্র সংগঠনের নেতা হিসেবে বর্নবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। এরপরে দক্ষিন আফ্রিকার গনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট। ছোট্ট গ্রামের তেম্বু গোত্রে ১৯১৮ সালের ১৮ ই জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তার গোত্রের দেওয়া মাদিবা নামেই তিনি পরিচিতি। স্কুলে ভালো লেখা পড়ার কারনে এক শিক্ষক আদর করে তার ইংরেজি নাম দেন নেলসন। ৯ বছর বয়সে নেলসনের বাবার মৃত্যু হয় তেম্বু গোত্রপ্রধানের তত্ত্বাবধায়নে বড় হন তিনি। আফ্রিকার উইস্টওয়াটারান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৩ সালে আইন বিষয় ডিগ্রি লাভ করেন। সেখানে নানা বর্ন গোত্রের মানুষের সাথে আলাপ আলোচনা, মেলামেশার ফলে বর্নবাদ, বৈষম্য নিয়ে ভাবতে শুরু করেন তিনি যা তাকে আস্তে আস্তে ধাবিত করে রাজনীতির দিকে। একই বছরে নেলসন ম্যান্ডেলা যোগদেন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস এ এনসিতে। পরে তিনি অনেক পরিশ্রমে প্রতিষ্টা করেন এ এনসি ইয়ূথ লীগ। ১৯৫২ সালে আইন ব্যবসা শুরু করেন কিন্তু তার বর্নবাদবিরোধী আন্দোলন থেকে বিন্দুমাত্র পিছপা হইনি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে রাষ্ট্রদ্রোহ অভিযোগ আনা ম্যান্ডেলা সহ ১৫৫ জনের বিরুদ্ধে। একাধারে ৪ বছর মামলা চলার পরে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়। ১৯৬০ সালে এ এনসি রাষ্ট্রীয় ভাবে নিষিদ্ধ হলে ম্যান্ডেলা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যান এবং ১৯৬২ সালে দক্ষিন আফ্রিকার সরকার তাকে গ্রেফতার করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২৭ বছর কারাদণ্ড ভোগ করার পর ১৯৯০ সালে ১১ ফেব্রুয়ারী কারামুক্ত হন। পরে শ্বেতাঙ্গ সরকারের সাথে শান্তি আলোচনায় বসেন তিনি।এর ফলেই বর্নবাদের অবসান ঘটে এবং বর্নের মানুষের অংশগ্রহনে ১৯৯৪ সালে দক্ষিন আফ্রিকায় সুস্পষ্ট গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৯৯ সালে তিনি অবসরে যাওয়াকালিন সময়ে এমবেকির কাছে শাসনভার হস্তান্তর করেন। এর আগে ১৯৯৩ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরুস্কার পান। ২০১৩ সালের ৫ ই ডিসেম্বর এই কিংবদন্তি মৃত্যু বরন করেন।

মূল প্রসঙ্গে আসি, দেশে স্বাধীনতার সময় যদি উপর লেবেল থেকে মিম্ন আয়ের যে মানুষ গুলো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল তাদের কারোরই হৃদয়ে সার্থকতা লোভ লালসা না থাকে। তাহলে বাংলাদেশে আজ শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর ভিতর কেন এত বৈষম্য বিভেদ হিংসা বিদ্বেষ? এই রাজনীতিতে ব্যক্তি স্বার্থ এবং ক্ষমতা আকড়ে রাখার প্রাধান্য দিতে গিয়ে বাঙ্গালী জাতির অর্জিত স্বাধীনতা আজ যাতাকলে পিষ্ট। আমি বলব দেশে কোন রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা নেই, আছে শুধু ক্ষমতা আকড়ে রাখার জন্য মিথ্যের কথার ফুলঝুরি। একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন একটি দল ক্ষমতায় গেলে বিরুদ্ধ দলসহ আরও যেসব ছোট খাট দলগুলো থাকে সেখানেও জনসমর্থন আছে এবং ছিল সে পরিমান কত হতে পারে তা যারা নির্বাচিত হয় তারা যানেন নিশ্চয়ই। তারাও মানুষ তারা ভিনগ্রহের কেউ নয় তাদেরকে রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকলে বাধা যাবেনা। অবৈধ ক্ষমতা, দমন পীড়ন নির্যাতন থেকে স্থায়ীভাবে শান্তিতে জীবন যাপন করতেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে বাঙ্গালীকে মুক্ত করা হয়েছিল। এদেশের চিরচরিত রেওয়াজ অনুযায়ী ক্ষমতায় যাওয়ার সাথে সাথেই বিরুদ্ধ দলগুলোর উপর দমন, পীড়ন, নির্যাতন, মামলা, হামলা, জেল জরিমানা শুরু হয়ে যায়। এদেশের রাজনৈতিক নেতারা গনতন্ত্র চর্চা করেন প্রতিদিন মিডিয়ার সামনে মিথ্যে ও পরনিন্দা দিয়ে।এদেশের জনগনকে প্রতিদিন একই বার্তা শুনতে হয় তা হলো উন্নয়ন। আমিও বলব উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু মানবিক উন্নয়ন আজ ভূলুণ্ঠিত। মানুষের জন্য উন্নয়ন। আর আজ সেই ইট পাথরের মহাসড়কের উন্নয়নে দাড়িয়ে বাঙ্গালী চিৎকার করে বলে আমি বাচতে চাই, নারী বলে নিরাপত্তা চাই, নির্দোষি বলে আমি বিচার চাই, কেউবা বলে নিরাপদ যাতায়াত চাই, দল মুক্ত শাসন ব্যবস্থা চাই, সাংবাদিকদের উপর প্রতিনিয় মামলা হামলা নির্যাতন বন্ধ চাই, ঘুষ, দুর্নিতি বন্ধ চাই। বাংলাদেশকে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্প্রীতির দেশ বলা হত কিন্তু রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরা তাদের নিজস্ব সার্থ ও ক্ষমতা আকড়ে রাখতে দলগুলোর সাথে একটি বৈষম্য তৈরী করে রেখেছে যার বেড়াজালে আটকে আছে অসহায় জনগন। কোন নির্বাচিত এম পি, মন্ত্রীর, প্রশাসনিক লোকের অন্যায় অনিয়ম ও অযোগ্যতার বিষয় জনগন মুখ খুলে কিছু বলতে পারবেনা এই স্বাধীনতাই অর্জন করেছিল বাঙ্গালী জাতি? আবারো বলতে চাই নেলসন ম্যান্ডেলার মত কিংবদন্তিদের মত মানুষকে অনুসরণ করুন আর বাংলাদেশের সমস্ত রাজনীতিবিদগন আপনাদের ক্ষমতার কাড়াকাড়ি বন্ধ করে ১৯৭১ সালে বাঙালী জাতির অর্জনকৃত সাধনার ফল স্বসম্মানে বাঙ্গালী জাতিকে ফিরিয়ে দিন।

আরও সংবাদ

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

মোঃ সাইফুল ইসলাম হাফিজ   চারিদিকে হেরি নব্য সাজ, কী কাণ্ড আজ ঘটছে ধরামাঝ, আসমান, …