বৃহস্পতিবার , এপ্রিল ৯ ২০২০
সংবাদ শিরোনাম
Home » আইন-আদালত » আমতলী থানায় সন্দেহভাজন গ্রেপতারকৃত আসামীর রহস্যজনক মৃত্যু, ওসিসহ-২ জন প্রত্যাহার

আমতলী থানায় সন্দেহভাজন গ্রেপতারকৃত আসামীর রহস্যজনক মৃত্যু, ওসিসহ-২ জন প্রত্যাহার

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বরগুনার আমতলী থানায় একটি হত্যা মামলার গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজন আসামী শানু হাওলাদারের থানা হাজতে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ থানার ওসি আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির দাবীকৃত তিন লক্ষ টাকা না দেয়ায় নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও ডিউটি অফিসার এএসআই আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬ টায় আমতলী থানা হাজতে। জানাগেছে, উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কলাগাছিয়া গ্রামে গত বছর ৩ নভেম্বর ইব্রাহিম নামের একজন কৃষককে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই হত্যা মামলায় শানু হাওলাদারের সৎ ভাই মিজানুর রহমান হাওলাদার এজাহারভুক্ত আসামী। ওই মামলায় শানু হাওলদারকে গত সোমবার রাত সাড়ে এগারটার দিকে সহেন্দভাজন আসামী হিসেবে আমতলী থানা পুলিশ ধরে নিয়ে আসে। তাকে ধরে নিয়ে আসার পর আমতলী থানার ওসি আবুল বাশার এবং ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি আসামীর পরিবারের কাছে তিন লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকার করে তার পরিবার। টাকা না পেয়ে আসামী শানু হাওলাদারকে থানা হাজতে রেখে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করে। নির্যাতন সইতে না পেরে আসামীর ছেলে সাকিব হোসেন মঙ্গলবার ওসি আবুল বাশারকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দেয়। কিন্তু তাতে তিনি তুষ্ট হয়নি। নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। বুধবার পরিবারের লোকজন এসে আসামী শানু হাওলাদারের সাথে দেখা করতে চাইলে পুলিশ দেখা করতে দেয়নি উল্টো পরিবারের লোকজনের সাথে অশ্লীল আচরন করে তাড়িয়ে দেয় এমন অভিযোগ নিহতের ছেলে সাকিব হোসেনের। বৃহস্পতিবার সকাল  সোয়া ছয়টার দিকে আসামী শানু ওয়াস রুমে যাওয়ার কথা বললে পুলিশ তাকে ওয়াশ রুমে নিয়ে যায়। পরে এক ফাঁকে আসামী শানু হাওলাদার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির কক্ষে ফ্যানের সাথে রশি পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে এমন দাবী ওসি আবুল বাশারের। এ ঘটনা পুলিশ ধামাচাপা দেয়ার জন্য চেষ্টা করছে। তারা নিহত স্বজনের পরিবার ও সংবাদ কর্মীদের থানার ভিতরে প্রবেশ করতে বাঁধা এবং থানা ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। পরে নিহতের স্বজনরা থানা ফটকের সামনে আহাজারি করে। আধা ঘন্টা পরে পুলিশ ফটক খুলে দেয়। এ সময় থানার ভিতরে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বরগুনা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন পিপিএম আমতলী থানায় আসেন। ঘটনা তদন্তে জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোঃ তোফায়েল আহম্মেদকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট্য কমিটি গঠন করেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বরগুনা সদর) মোঃ মহব্বত আলী ও সহকারী পুলিশ সুপার (আমতলী-তালতলী সার্কেল) সৈয়দ রবিউল ইসলাম। ঐদিন বেলা সাড়ে ১০ টায় বরগুনা জেলার সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসাদুজ্জামান ও আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতার শংকর প্রসাদ অধিকারী নিহত শানু হাওলাদারের সুরাতহাল করেন। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে তাৎক্ষনিক বরগুনা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও ডিউটি অফিসার এএসআই আরিফুর রহমানকে  সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। নিহত শানু হাওলাদারের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরন করেছে পুলিশ। নিহত শানু হাওলাদারের ছেলে সাকিব হোসেন বলেন, বিনা অপরাধে আমার বাবাকে ওসি ধরে এনে তিন লক্ষ টাকা ঘুষ দাবী করেছে। আমি ওসির দাবীকৃত ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমার বাবাকে নির্যাতন করেছে। বাবার নির্যাতন সইতে না পেরে মঙ্গলবার দুপুরে আমি ওসিকে ১০ হাজার টাকা দেই। তিনি আরো বলেন, বুধবার সকালে আমি বাবার সাথে দেখা করতে থানায় আসি কিন্তু আমাকে দেখা করতে না দিয়ে ওসি আবুল বাশার এবং ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি গালাগাল করে তাড়িয়ে দেয়। সারাদিনে আমাকে বাবার সাথে দেখা করতে দেয়নি। ওসি বলেন টাকা নিয়ে আস তারপর দেখা করতে দেব। নিহত শানু হাওলাদারের শ্যালক রাকিবুল ইসলাম বলেন, দুলাভাইকে ধরে আনার পর থেকে আমি থানায় প্রাঙ্গণে ছিলাম। পুলিশ তাকে টাকার জন্য বেধরক মারধর করেছে। তার ডাক চিৎকার শুনেছি। বহুবার চেষ্টা করেছি তার সাথে দেখা করতে কিন্তু পুলিশ দেখা করতে দেয়নি। উল্টো আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছে। নিহত শানু হাওলাদারের স্ত্রী মোসাঃ ঝড়না বেগম বলেন, পাঁচজন পুলিশ যাইয়্যা সোমবার রাইতে মোর স্বামীরে বাড়ী গোনে ধইর‍্যা আনছে। আনার সময় মোর কাছে টাকা চাইছে। মুই টাকা দেতে রাজি অই নাই হেইয়্যার লইগ্যা মোর স্বামীকে পুলিশে পিডাইয়্যা মাইর্র্যা হালাইছে। মুই এইয়্যার বিচার চাই। থানার ভিতরে ঝড়না বেগম এই বিলাপ করে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিল। গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. আলহাজ্ব মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, শানু হাওলাদারকে বাড়ী থেকে ধরে এনে নির্যাতন করেছে। আত্মহত্যার ঘটনা পুলিশের সাজানো। থানার ওসি মোঃ আবুল বাশার টাকা না পেয়ে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবী করছি। আমতলী থানার ওসি মোঃ আবুল বাশার বলেন, আসামী শানু হাওলাদার বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬ টার দিকে ওয়াস রুমে যাওয়ার জন্য বলে। সে ওয়াস রুম থেকে ফিরে এসে এক ফাঁকে হাজত খানার ফ্যানের সাথে গলায় রশি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু হাজত খানায় কোন ফ্যান নেই সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পূর্বের কথা পাল্টে বলেন ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জনের কক্ষে ফ্যানের সাথে রশি পেঁচিয়ে আত্মত্যা করেছে। টাকা না দেয়ায় তাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকতা শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, নিহত শানু হাওলাদারের শরীরে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। তবে ময়না তদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারন বলা যাবে না। বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মারুফ হোসেন পিপিএম বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও সংবাদ

বাউফলে প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদীর কড়াল গ্রাসে ধূলিয়ার নতুন বাজার

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী বাউফলের প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদীর কড়াল গ্রাসে ১ ঘন্টার ব্যবধানে নদী গর্ভে …