বৃহস্পতিবার , মে ২৮ ২০২০
সংবাদ শিরোনাম
Home » ফিচার » কিছু যোদ্ধা এবং জাগোনারী

কিছু যোদ্ধা এবং জাগোনারী

রাজিব হাসানঃ প্রবেশ করলে কয়েক সেকেন্ডে জীবানুমুক্ত করে দেবে, বরগুনা সদর হাসপাতালে কোয়ারান্টাইন ইউনিটের সামনে জীবানুনাশক গেটটি। একটু সামনে এগোলেই চোখে পরবে আরো একটা বুথ দেখে মনে হবে কোন বিজ্ঞান গবেষনাগার। নিরাপদে করোনা নমুনা সংগ্রহের বুথ। দুইটা বুথ আধুনিক কাজ করলেও তৈরি লোকাল উপায়ে আর এই কর্মের গর্বিত দাবিদার বরগুনার পুরনো বন্ধু “জাগোনারী”। করোনা মোকাবেলায় এমন বেশ কিছু উদ্যোগ প্রসংশার দাবিদার তারা।

এছারাও বরগুনা ও বেতাগী উপজেলায় “স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ”এর সহোযোগিতায় ৬৫০ বিধবা, প্রতিবন্ধী ও অস্বচ্ছল পরিবারের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে করোনা মোকাবিলায় হাইজিন উপকরন বিতরন করেছে জাগোনারী।

কৃষক বাঁচলে বাচবে দেশ এই শ্লোগানে কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে কৃষকের পাশে করোনা মোকাবেলায় “অক্সফাম” এর সহায়তায় জাগোনারীর রি কল প্রকল্প থেকে সহায়তা প্রাপ্ত কৃষকদের কৃষি পন্যের বিক্রি সহ তাদের খোঁজ খবর নিতে জাগোনারী কর্মীদের নিয়মিত যোগাযোগ ও সহায়তা অব্যাহত রেখেছে জাগোনারী।

কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বরগুনা সদর উপজেলায় পিছিয়ে পড়া চার শত পরিবারকে হাইজিন সামগ্রী বিতরন করেছে। বয়স্ক নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী মানুষগুলো ব্যবহার শুরু করেছে বিতরনকৃত মালামাল এবং তারা নিয়মিত হাত ধোয়ার পাশাপাশি ব্যবহার করছে সার্জিকাল মাক্স।

ঘূর্নিঝড়ে_ক্ষতিগ্রস্ত ১১৫ পরিবারকে ৫,১৭,৫০০ টাকা (প্রতি পরিবার ৪৫০০ টাকা) বিতরন সম্পুর্ন হয়েছে। করোনা ভাইরাস লকডাউনের মধ্যেই গত ৫ এপ্রিল ২০২০ তারিখ বরগুনা সদর উপজেলার কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় ৫০০ বাড়ি সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। “স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ” এর সহায়তায় জাগোনারী ১১৫ পরিবারকে ৪৫০০ টাকা করে সহায়তা প্রদান করে।

করোনা কালিন জাগোনারী কাজ করেছে তিন জেলার আট উপজেলায় এবং মোট ২১ টা ইউনিয়নে। নগদ দান কৃত টাকার পরিমান ৫১৭৫০০/-হাইজিন কিট ২১০০ পরিবারকে, যার মধ্যে ছিল ৫০৯০০ সার্জিকাল মাস্ক, ২২৪৫০ গোসলের সাবান, ১৬৯৬০ মহিলাদের ব্যবহারের স্যানিটারি কাপর, ১৮ ইউনিয়নে মাইকিং এবং ৪৫০০০ হাজার লিফলেট বিতরন।

এনজিও বা তাদের কর্মীরা কখনই হাত তালি পায়না, কখনই বড় বড় টিভি ক্যামেরাও ছোটে না তাদের কাজের গুরুত্ব তুলে ধরতে। তবুও রাতের পর রাত নির্ঘুম চলে যায় তাদের কাজে। সময়মত অসহায় পরিবারগুলোর হাতে সহায়তা পৌঁছে দেয়ার জন্য যেন কোন বিরাম নেই। মহামারী করোনা থামাতে পারেনি লোকগুলোর কাজের গতি। করোনার ভয়ে সবাই জখন ঘরে তখন জাগনারীর মাস্তুল দেখেছে বরগুনা বাসি।

দুঃক্ষজনক হলেও কখনো জাগোনারীর এই কর্মীদের রাস্তায় থামিয়ে একটা ধন্যবাদ দেওয়া হয়নি, যদিও তারা প্রর্তেকটা মানুষ এক একটা যোদ্ধা, আমাদের নিরাপদে রেখে ঝুঁকিটুকু তারাই নিচ্ছে।

তাই ধন্যবাদ নয় স্যালুট জাগোনারীর সকল নিবেদিত কর্মী/সেচ্ছাসেবকদের, যারা দিনের পর দিন পরিবার থেকে দূরে থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে অসহায় মানুষগুলোর হাতে সহায়তা পৌছে তাদের হাতগুলকে করেছেন মজবুত। ধন্যবাদ সে সকল দাতা সংস্থাদের যারা মানুষের পাশে দাড়াতে জাগোনারীকে দিয়েছেন সহায়তা। বরগুনার মানুষ জাগোনারী এবং তাদর পার্টনার সংগঠনগুলোর এই অবদান কৃতজ্ঞতার সহিত মনে রাখবে।

আরও সংবাদ

পটুয়াখালী সোনালী ব্যাংক সংলগ্নে বৃদ্ধের মৃত্যু, পৌরসভা কতৃক দাফন সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালী সোনালী ব্যাংক সংলগ্নে হাবিবুর রহমান (৭৫) নামে এক-বৃদ্ধ মৃত্যু বরন করেছে। সদর …