শিক্ষা তথ্য

পঞ্চগড়ে ছিটমহল নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা

সাইদুজ্জামান রেজা, পঞ্চগড়ঃ পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার ছিটমহল বিনিময় কমিটির সভাপতি মফিজার রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করেছে আদালত। সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় বিজ্ঞ আমলী আদালত (১) এর বিচারক হুমায়ুন কবীর একটি জি. আর মামলায় এ আদেশ দেন। এর আগে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি মফিজার রহমানকে প্রধান করে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলাটি করেন মমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। পরে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তারা আদালতে জামিন আবেদন করেন। ১০ জনকে স্থায়ী জামিন দিলেও মামলার প্রধান আসামী মফিজারকে বাদীপক্ষের সাথে আপোষ করতে সাত দিন সময় দেয়া হয়। সাত দিনেও আপোষ করতে না পেরে মফিজার সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) আদালতে হাজির না হয়ে আবারো সময়ের আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন না মঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবি এ্যাড. মেহেদী হাসান মিলন। বাদি ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিলুপ্ত ছিটমহলটিতে গড়ে ওঠা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আলিম মাদ্রাসার সভাপতি হলেন, মামলার প্রধান আসামী মফিজার। আর অধ্যক্ষ হলেন, তার ভাই মোজাম্মেল। মাদ্রাসার শিক্ষক আজিমুল ইসলামের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি মাদ্রাসাটিতে তদন্তে আসেন রংপুর বিভাগীয় শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আখতারুজ্জামান। যেখানে স্বাক্ষী হিসেবে ছিলেন মামলার বাদী মমিনুল। তদন্ত শেষে উপ পরিচালক চলে গেলে মফিজারের নেতৃত্বে অন্যরা মমিনুলকে আক্রমণ করে। এক পর্যায়ে মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করে। মামলার বাদী মমিনুল জানান, ২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময় হবার পর পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত এই ছিটমহলটিতে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আলিম মাদ্রাসা, মফিজার রহমান কলেজ, রাজমহল উচ্চ বিদ্যালয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুল প্রতিবন্ধী স্কুল’ নামের চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজি করে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করে মফিজার রহমান বিরুদ্ধে এলাকার লোকজন। বিভিন্ন কৌশলে চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই সভাপতি পদ দখল করে আছেন তিনি। প্রতিষ্ঠান গুলোতে ছিটমহলের শিক্ষিত বেকারদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার থাকলেও মফিজার নিজের পছন্দ মত যোগ্যতা যাচাই না করেই তিনি নিয়োগ দিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনদের।
মমিনুল বলেন, ‘মফিজারের এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আমি সোচ্চার ছিলাম। ছিটমহলবাসীর হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি। এদিকে, আজিমুল ইসলাম নামের মাদ্রাসার এক শিক্ষককে মৌখিক ভাবে চাকুরিচ্যুত করে মফিজার এবং তার ভাই মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক। এঘটনায় আজিমুল ইসলাম আমাকে স্বাক্ষী করে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। গত ৪ জানুয়ারি একটি অভিযোগের ভিত্তিতে মাদ্রাসাটিতে তদন্তে আসেন রংপুর বিভাগীয় শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আখতারুজ্জামান। তদন্ত শেষে উপ পরিচালক চলে গেলে মফিজারসহ তার লোকজন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় আমার উপর হামলা করে। এক পর্যায়ে আমাকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে বেধরক মারপিট করে এবং তারা নিজেরাই বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ বিষয়ে মফিজার রহমানের সাথে যোগাযোগ করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাদী পক্ষের আইনজীবি এ্যাড. মেহেদী হাসান মিলন বলেন, ‘আসামীরা গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে জামিন আবেদন করেন ১১ জনের মধ্যে ১০ জনের স্থায়ী জামিন হলেও প্রধান আসামী মফিজারকে আপোষ শর্তে সাত দিনের জামিন দেয়া হয়। মফিজার আপোষ করতে পারেনি। এমনকি আদালতে হাজির না হয়ে আবারো সময়ের আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন না মঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি করেছেন।

শেয়ার করুন