বুধবার , এপ্রিল ৮ ২০২০
সংবাদ শিরোনাম
Home » সারাদেশ » রাজশাহী » প্রযুক্তি না থাকলেও অনিয়ম করে ২৯ লাখ টাকার বায়োমেট্রিক শিক্ষক হাজিরা মেশিন ক্রয়

প্রযুক্তি না থাকলেও অনিয়ম করে ২৯ লাখ টাকার বায়োমেট্রিক শিক্ষক হাজিরা মেশিন ক্রয়

সেলিম রেজা, নিজস্ব প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল (বায়োমেট্রিক) হাজিরা মেশিন অনিয়ম করে কেনা হলেও তা কোন কাজেই আসছে না। গত দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব মেশিন লাগানোর পর শিক্ষকরা তাতে আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে হাজিরা দিলেও সে হাজিরা কোনদিন দেখেনি উপজেলা শিক্ষা অফিস। কেবল মাত্র নিজেদের পকেট ভারি করতে শিক্ষা কর্মকর্তারা একটি উপজেলার ২৭৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন মেশিন কিনেছেন। অথচ শিক্ষকদের এসব ডিজিটাল হাজিরা দেখার প্রযুক্তিই উপজেলা শিক্ষা অফিসের কাছে নেই। শিক্ষা বিভাগের কোন নির্দেশ ছাড়াই এসব মেশিন কেনার নামে শিক্ষকদের জিম্মি করে স্লিপ ফান্ডের ২৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা অপব্যবহার করে পানিতে ফেলে দিয়েছেন শিক্ষা কর্মকর্তারা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাগানো এসব মেশিনের বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনার নামে সরকারি অর্থ পানিতে ফেলে দেওয়ার এমন অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায়। জানা যায়, উল্লাপাড়া উপজেলায় ২০১৮ সালে ২৭৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা নেওয়ার জন্য মেশিন কেনা হয়। ১০ হাজার ৫ শত টাকা দরে উল্লাপাড়া পৌরশহরের ইনটেক কম্পিউটার নামের প্রতিষ্ঠান থেকে এসব মেশিন কেনা হয়। শিক্ষকদের অভিযোগ, উল্লাপাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা নির্দেশ দিয়ে স্কুল গুলোর স্লিপ ফান্ডের বরাদ্দের অর্থ থেকে এই মেশিন কেনায়। শিক্ষা কর্মকর্তারা ইনটেক কম্পিউটার নামের প্রতিষ্ঠানকে উপজেলার ২৭৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেশিন লাগানোর নির্দেশ দেন। পরে শিক্ষা কর্মকর্তারা প্রতিটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে শিক্ষা অফিসে ডেকে চেক ও নগদে মেশিনের দাম বাবদ ১০ হাজার থেকে ১০ হাজার ৫ শ টাকা করে গ্রহণ করেন। শিক্ষকরা আরো অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানে লাগানো এসব মেশিন ঠিকমতো কাজ করে না। বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেশিনগুলো অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। সরবরাহকৃত মেশিনের দাম বাজার দরের চেয়েও দ্বিগুন হারে নেওয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে। প্রথমে শিক্ষকরা উল্লিখিত দামে এসব মেশিন কিনতে অপরাগতা প্রকাশ করলে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা তাদের হুমকি-ধামকি দিয়ে মেশিনের বিপরীতে দাবিকৃত টাকা দিতে বাধ্য করেন। উপজেলার ২৭৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাগানো এসব মেশিনে কর্মরত শিক্ষকদের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মেশিন লাগানোর পর শিক্ষকরা যথারীতি তাতে আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে হাজিরা দিলেও সে হাজিরা গত দুই বছরে কোনদিন দেখেনি উপজেলা শিক্ষা অফিস। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষকদের এসব হাজিরা দেখার কোন প্রযুক্তিই নেই উপজেলা শিক্ষা অফিসে। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব মেশিন লাগানোর কোন নির্দেশনাই নেই শিক্ষা বিভাগের। অথচ আগ বাড়িয়ে এসব মেশিন কেনার নামে দ্বিগুন দাম ধরে নিজেদের পকেট ভারি করেছেন শিক্ষা কর্মকর্তারা। শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনার নামে সরকারি অর্থের অপচয় হয়নি দাবি করে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এম, জি মাহমুদ ইজদানী জানান, উপজেলার ২৭৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের দৈনিক হাজিরা নিশ্চিত করার লক্ষে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন লাগানো হয়েছে। শিক্ষকদের হাজিরা দেখার প্রযুক্তি না এনে এবং শিক্ষা বিভাগের নির্দেশ ছাড়া এসব মেশিন কেন কেনা হয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, হাজিরা দেখার প্রযুক্তি আমরা এখনও পাইনি। তবে শিক্ষকদের হাজিরা প্রিন্ট কপি নেওয়া হয়। তবে সকল প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল করার লক্ষ্যেই এসব মেশিন কেনা হয়েছে। তবে কোন অনিয়ম দুর্নীতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। সরেজমিনে উপজেলার ভাটবেড়া মাহমুদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকদের হাজিরা মেশিনটি অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। স্কুলের পক্ষ থেকে মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বার বার সেটি ঠিক করে দেওয়ার কথা জানানো হলেও তা ঠিক করে দেওয়া হয়নি। শিক্ষকরা হাজিরা খাতায় যথারীতি আগের নিয়মেই স্বাক্ষর করছেন। এ নিয়ে জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফরিদ উদ্দিন জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশে এই মেশিন লাগানো হয়েছে। সচল অবস্থায় আমরা ওই মেশিনে হাজিরা দিলেও তা কোনদিন শিক্ষা বিভাগ দেখেনি এবং নেয়নি। এ মেশিনটি কেবল মাত্রই তার স্কুলের ডিজিটাল শোভাবর্ধক। একই চিত্র দেখা যায় উপজেলার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ নিয়ে কথা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, স্লিপ ফান্ডের টাকা কেবল মাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খরচ করার বিধান থাকলেও উপজেলা শিক্ষা অফিস উল্টো নির্দেশ দিয়ে এসব মেশিন কিনিয়েছেন। একই সাথে দ্বিগুন দাম ধরে শিক্ষা কর্মকর্তারা প্রতিটি মেশিন কিনতে তাদের বাধ্য করে আদায় করা বাড়তি টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। এসব মেশিনের কোন কার্যকারিতা না থাকলেও শিক্ষা কর্মকর্তাদের পকেট ভারি হয়েছে ঠিকই। এ নিয়ে উপজেলার শিক্ষক মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রশ্ন উঠেছে এসব ডিজিটাল মেশিনের হাজিরা দেখার প্রযুক্তি না থাকলেও কোন স্বার্থে এসব মেশিন কেনা হলো ? এ ব্যাপারে মেশিন সরবরাহকারী ইনটেক কম্পিউটার প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী সারথী কুন্ডু পার্থ জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশে তিনি এসব মেশিন সরবরাহ করেছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বনিন্ম দরদাতা হিসেবে তিনি এসব মেশিন উল্লিখিত দামে সরবরাহ করেছেন। তিনি দাবি করেন, সরবরাহকরা মেশিনের দামের এখনো ২ লাখ টাকা তিনি পাননি।

আরও সংবাদ

তাড়াশে করোনা উপসর্গ নিয়ে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু নমূনা সংগ্রহ ১০ বাড়ি লকডাউন

সেলিম রেজা, নিজস্ব প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জঃ সিরাজগঞ্জের তাড়াশে উপজেলায় করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর উপসর্গ জ্বর, সর্দি …