সোমবার , মে ২৫ ২০২০
সংবাদ শিরোনাম
Home » অনিয়ম » বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার পদে অবৈধভাবে কর্মরত আছেন মোহেববুল্লাহ খান

বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার পদে অবৈধভাবে কর্মরত আছেন মোহেববুল্লাহ খান

মো: শাহাদাত হোসাইন শিমুল, শিক্ষা বিষয়ক প্রতিনিধিঃ সরকারি কর্মকমিশন প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি ২০০৬ সনে ১০ শতাংশ কোটায় সরাসরি সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্তে সত্যতা মেলে।

২০১৮ সনের ১৮ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয় অধিদপ্তরে। যা পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে। পরে দুই দফা শোকজ করা হয় অবৈধ এই শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকে।

কিন্তু সে প্রক্রিয়ার বছর পার হলেও বর্তমানে স্বপদে বহাল আছেন শিক্ষা ক্যাডারে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া মোহেববুল্লাহ খান।

বাড়ির পাশের ‘গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত কলেজ’ এ লিয়েনে অধ্যক্ষ পদে কর্মরত আছেন তিনি।

এ কলেজের অভিজ্ঞতা দেখিয়েই তিনি অবৈধভাবে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছিলেন বলে জানা যায়। তার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে ২০১৯ সনের ২ এপ্রিল সর্বশেষ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে ২য় দফায় শোকজ করা হয়েছিল শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খানকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো শোকজ নোটিশে বলা হয়েছিল, শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আসলে তাকে ‘সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ২০১৮’ এর ৩(খ) ও ৩ (ঘ)(ই) মোতাবেক অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার জবাব দেননি। তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ তদন্ত করা হয়। তদন্তে মোহেববুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে আসা ‘অসদাচরণ ও দুর্নীতির’ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

নোটিশে ‘অসদাচরণ ও দুর্নীতির’ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ‘সরকারি কর্মচারী বিধিমালা ২০১৮’ এর ৪(৩)(ডি) অনুসারে কেন তাকে ‘চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ দণ্ড বা অন্য কোনো দণ্ড দেয়া হবে না’ তার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে মোহেববুল্লাহ খানের কাছে। কিন্তু এ শোকজ নোটিশের বিরুদ্ধে একটি রিট মামলা দায়ের করা হয়। তারপর থেমে যায় অবৈধ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া।

জানা গেছে, মোহেববুল্লাহ খান ১০ শতাংশ কোটায় পূর্বের অভিজ্ঞতা প্রদর্শনপূর্বক পিএসসি’র মাধ্যমে ২০০৬ সনে সরাসরি সহকারী অধ্যাপক পদে ক্যাডারভুক্ত হয়েছেন।

বর্তমানে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ পদে লিয়েনে কর্মরত আছেন তিনি। সরকারি কর্মকমিশন প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ইতিহাস বিভাগে ১০ শতাংশ কোটায় সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খান। আগের যে অভিজ্ঞতা প্রদর্শন করে তিনি নিয়োগ পেয়েছেন, সে চাকরিতে তার নিয়োগ অবৈধ ছিলো। এ বিষয়ে অভিযোগ আসলে তদন্ত করা হয়।

অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খান ১৯৯৮ সনের ৩০ জুলাই গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত কলেজে ইতিহাস বিষয়ের প্রভাষক পদ নিয়োগের জন্য আবেদন করেন। সে প্রেক্ষিতে ১৯৯৮ সনের ২২ অক্টোবর তাকে সাময়িকভাবে নিয়োগ দেয়া হয়। যথাসময়ে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেয়া হবে বলে সাময়িক নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সনের ১৪ মার্চ তাকে নিয়োগপত্র দেয়া হয়।
সে বছরের ২২ মার্চ প্রভাষক পদে যোগদান করেন তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদনে কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা ১৯৯৮ সনের ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই নিয়োগ পরীক্ষায় দুইবার নিয়োগপত্র দেয়ার কোনো বিধি প্রচলিত নেই।

পরবর্তীতে ২০০৩ সনের ২৮ মার্চ তারিখের নিয়োগের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল এবং একই বছর ৩০ মার্চ দেয়া নিয়োগ পত্রের ভিত্তিতে মোহম্মদ মোহেববুল্লাহ খান ২০০৩ সনের ১ এপ্রিল কলেজটিতে উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন।

তিনি ২০০০ সনে প্রভাষক পদে এবং পরে ২০০৩ সনের মে মাসে উপাধ্যক্ষ হিসেবে প্রথম এমপিওভুক্ত হন। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে উপাধ্যক্ষ পদ না থাকা সত্ত্বেও মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খান নিয়ম বহির্ভূতভাবে উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করে এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খানের প্রভাষক পদে নিয়োগ পরীক্ষার রেজাল্ট শীটে মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে চাঁদপুর সরকারি কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবু তাহেরের যে স্বাক্ষর রয়েছে তা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

এছাড়া মহাপরিচালকের প্রতিনিধি নিয়োগের কোনো চিঠি নেই।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ফলাফল শীটে বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে চাঁদপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রনব কান্তি চৌধুরীর যে স্বাক্ষর রয়েছে তা কোনোভাবেই সত্য নয়। কারণ, ওই সময়ে চাঁদপুর মহিলা কলেজে প্রনব কান্তি চৌধুরী নামের কোনো সহকারী অধ্যাপক কর্মরত ছিলেন না বলে কলেজে কর্তৃপক্ষ তদন্ত দলকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তাই বিশেষজ্ঞের স্বাক্ষরটি যথাযথ নয়।
এছাড়া তদন্তে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল শীটে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির স্বাক্ষর ও সিল নেই। অর্থাৎ সভাপতি নিয়োগের বিষয়ে একমত নন।

তদন্ত প্রতিবেদন বলেছে, যেহেতু নিয়োগ পরীক্ষার রেজাল্ট শিটে ডিজির প্রতিনিধির স্বাক্ষরে গড়মিল রয়েছে।

বিষয় বিশেষজ্ঞের স্বাক্ষর সঠিক নয় এবং গভর্নিং বডির সভাপতির সিল ও স্বাক্ষর নেই। তাই মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খানের ইতিহাস বিষয়ের প্রভাষক পদে নিয়োগ সঠিক নয়।
যেহেতু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ খানের নিয়োগ সঠিক নয় তাই ওই প্রতিষ্ঠানে অর্জিত অভিজ্ঞতা দেখিয়ে ২০০৬ সনে ১০ শতাংশ কোটায় সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে তার নিয়োগ বৈধ হতে পারে না।

আরও সংবাদ

আজকের সাংবাদিকতা: সকালে সংবাদ দুপুরে মামলা রাতে গ্রেফতার বিকেলে কারাগার

স্টাফ রিপোর্টারঃ প্রতিনিয়ত দেশের কোথাও না কোথাও সাংবাদিক আক্রান্ত, রক্তাক্ত, লাঞ্ছিত, হামলা-মামলা শিকার হচ্ছেই। তাইতো …