শিক্ষা তথ্য

মণিরামপুরে মাদ্রাসার ৪ ছাত্রের তৈরী কাগজের শহীদ মিনারেই পালন হলো কর্মসূচি

উত্তম চক্রবর্তী,মণিরামপুর অফিস॥ প্রবাদ রয়েছে প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোন দু:সাধ্য কাজ সাধ্য করা সম্ভব। তার ব্যত্যয় ঘটেনি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ”শ্যামকুড় যমযমিয়া দাখিল মাদ্রাসার” শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও। অর্থাভাবে শহীদ মিনার নির্মান করা সম্ভব হয়নি। তাই বলে কি শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো থেকে বঞ্চিত হবে। না তারা বঞ্চিত হয়নি। মেধা এবং প্রবল ইচ্ছা শক্তি থেকেই মনের মাধুরি মিশিয়ে শিক্ষার্থীরা রাতজেগে ইটের ওপর বাঁশ এবং কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরী করে সকালে পুষ্পার্ঘ অর্পন করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে। আর এ কাজটি করেছে মাদ্রাসার চারজন শিক্ষার্থীরা। এরা হলো দশম শ্রেণির তৌহিদুর রহমান, ইয়াহুয়া রহমান, গোলাম রসুল এবং নবম শ্রেণির সুমন হোসেন। মাদ্রাসার সুপার নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ মাদ্রাসাটির উন্নয়নকল্পে এ পর্যন্ত সরকারি অথবা ব্যক্তি উদ্যোগে কোন অনুদান দেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষকদের অনুদানে টিনের ছাউনির ১২ টি কক্ষে এবতেদায়ী (প্রাথমিক) থেকে দাখিল (মাধ্যমিক) শাখা পর্যন্ত মাদ্রাসাটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সব মিলিয়ে ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী দেড়শতাধীক শিক্ষার্থীরাকে পাঠদান করে আসছে। কিন্তু দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও অর্থাভাবে মাদ্রাসায় একটি শহীদ মিনার নির্মান করা সম্ভব হয়নি। দাখিল (দশম) শ্রেণির ছাত্র তৌহিদুর রহমান জানান, প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়না শহীদ মিনার না থাকায়। ফলে মাদ্রাসার সুপার নজরুল ইসলাম, সহকারি শিক্ষক আনিচুর রহমান ও জোহরা খাতুনের সার্বিক সহযোগীতায় দশম শ্রেণির ছাত্র তৌহিদুর রহমান ও তার সহপাঠি ইয়াহুয়া, গোলাম রসুল এবং সুমনের উদ্যোগে ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে মাদ্রাসার মাঠে ইট এবং বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মান করা হয়। ইটের বেদির ওপর বাঁশের মিনারে নিপুনহাতে খবরের কাগজ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। দূর থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই এটা কাগজের তৈরী। রাতভর পরিশ্রম করে অস্থায়ী শহীদ মিনারটি নির্মানের পর সকালে সব শিক্ষার্থীরা, শিক্ষক, অভিভাবকরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুল অর্পন করেন। পালন করা হয় বিভিন্ন কর্মসূচী। মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান জানান, এ পর্যন্ত সরকারি অনুদান পাওয়া যায়নি। ফলে শহীদ মিনার নির্মান করা সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন