বৃহস্পতিবার , এপ্রিল ৯ ২০২০
সংবাদ শিরোনাম
Home » গণমাধ্যম » মানবতার মা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা’র নিকট ডেসটিনির ৪৫ লাখ পরিবারের খোলা চিঠি

মানবতার মা প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা’র নিকট ডেসটিনির ৪৫ লাখ পরিবারের খোলা চিঠি

সেলিম রেজা, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে বিনা বিচারে দীর্ঘ আট বছরের বেশি কাল জেলে বন্দী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বৈশাখী টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দৈনিক ডেসটিনির সম্পাদক এবং ডেসটিনি ২০০০ লিঃ এর এমডি ও চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল আমিন আজ অসুস্থ। তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এবং ভয়াবহ করোনা ভাইরাস আতঙ্কে আতঙ্কিত। সারাদেশ যখনই স্থবির। সকলেই যখন গৃহবন্ধি। ঠিক তেমনি ভাবে রফিকুল আমিনের স্ত্রী ও সন্তানরা তাদের একমাত্র অভিভাবকের জন্য চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ফলে মনবতার প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণে বিচার বঞ্চিত রফিকুল আমিনের মুক্তির দাবিতে তার পরিবার সহ ডেসটিনির ৪৫ লক্ষ পরিবারের পক্ষে স্যোসাল মিডিয়ায় দৈনিক ডেসটিনি সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক শেখ মোসলেহ উদ্দিন বাদশার লেখা খোলা চিঠিটি নিন্মে তুলে ধরা হলো।

“মানবতার প্রধানমন্ত্রী”
আপনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না। কারণ আপনি মানবতার মানসকন্যা এবং সফল প্রধানমন্ত্রী। বিনা বিচারে জেলবন্দি মোঃ রফিকুল আমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে ডেসটিনির ৪৫ লাখ পরিবার সহ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের পক্ষে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বৈশাখী টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দৈনিক ডেসটিনি সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন বিনা বিচারে প্রায় সাড়ে আট বছর জেলের অন্ধকার কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে চলমান বিচারকার্যে দুদকের কথিত মানি লন্ডারিং মামলার সত্যতা আজও প্রমাণিত হয়নি। অথচ রফিকুল আমিনকে যেখানে বন্দি করে রাখা হয়েছে সেই ঘরটির পরিবেশ কেমন সেটি আপনি জানেন কিনা জানিনা। তা’ছাড়া রফিকুল আমিন নানা রোগে আক্রান্ত। ইতিমধ্যে আপনি জানেন তার হার্টের দুটি রিং বসানো হয়েছে। তাছাড়া তিনি ডায়াবেটিস সহ নানা রোগে আক্রান্ত। সম্প্রতি সময়ে তিনি সর্দি- কাশিতে ভুগছেন। সেই কারণেই ভয়াবহ মরণব্যাধি করোনা আতঙ্ক তার মাঝে বিরাজ করছে। তিনি সেখানে নিরাপদ নয়। আর আল্লাহ না করুক সত্যিকার অর্থে যদি কোন ঘটনা ঘটে তাহলে গোটা হাসপাতালে এর ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়বে। সেই কারণেই তাকে শর্তসাপেক্ষে দ্রুত মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসার নিশ্চিত করা হোক। ইতোমধ্যে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। আর আপনিতো মানবতার প্রধানমন্ত্রী। আপনার নির্দেশে গতকাল ২৫ মার্চ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে নিরাপদে অবস্থান করছেন। আপনি এদেশে বারবার মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সেই জন্য আপনি রফিকুল আমীনসহ বিনাবিচারে যারা জেলেবন্দি আছেন তাদের সহ ভয়াবহ করোনা ভাইরাস থেকে দেশবাসীকে রক্ষার্থে স্বাধীনতা এই মহান মাসে তাদেরকে মুক্ত করে দিন। এতে করে সমগ্র জাতি আজীবন আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে যোজন-যোজন কাল। আর ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, “মানবতার প্রধানমন্ত্রী” শেখ হাসিনা।

আপনি আমাদের মা, বোন বা অভিভাবক। আমরা দেখেছি, আপনি সব সময় অসহায় মানুষের পক্ষের একজন দরদী বন্ধু। তাদের কষ্ট যেন আপনার কষ্ট। তাইতো আপনি তাদের দুঃখে বা কষ্টে কাঁদেন। আপনার চোখের পানিতে আমরাও কেঁদেছি। আপনার সহযোগীতায় ঐসব পরিবার গুলি আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মানবিকবোধ বা মানবিকতা আপনার আদর্শ। সত্য বা ন্যায়ের পক্ষে আপনার সংগ্রাম। বাংলাদেশের গনতন্ত্রকে নতুন দিশারী বা নতুন করে গনতন্ত্রের যাত্রা শুরু করার পথ দেখিয়েছেন আপনি। অথচ আজ আমরা আপনার দেশের বৃহ জনগোষ্টির একটি অংশ। আমরা বাঁচার জন্য বা ভাল থাকার জন্য ডেসটিনিতে বিনিয়োগ করেছিলাম। আমরা ডেসটিনিতে ভালই ছিলাম। আমরা সর্বদাই ছিলাম আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দেশের সংবিধান ও সরকারের প্রতি আনুগত্য। দেশের উন্নয়নে আপনার সহযোগী হিসাবে কাজও করছিলাম। অথচ দেখুন আমাদের প্রতি একটি বিশেষ মহল ঈর্ষানীত হয়ে তাদের নিয়ন্ত্রিত দু’ চারটি হলুদ মিডিয়ায় আমাদের তথা আমাদের প্রাণের কোম্পানী ডেসটিনি বা এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে মনগড়া ভিত্তিহীন কাল্পনিক সংবাদ প্রচার করে এবং ঐ সংবাদের উপর ভিত্তি করে কোন প্রকার তদন্ত ছাড়াই কাল্পনিক মামলা সাজিয়ে আমাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন আমাদের স্বাধীন দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফলে আমরা আজ ৪৫ লাখ ক্রেতা পরিবেশক ও বিনিয়োগকারী বেকার হয়ে পড়েছি। বন্ধ হয়ে গেছে রুটি-রুজির পথ। বেকারত্বের দৈন্যদশার শিকার আমাদের পরিবারগুলি। আমাদের বিনিয়োগকৃত অর্থে আমাদের কোম্পানীর প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার স্থাবর ভূ-সম্পত্তি ভূমিদস্যুরা আত্নসাৎ বা গ্রাস করার পায়তারায় লিপ্ত। অথচ আমরা বাংলাদেশের নাগরিক, আমরা দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আমরা দেশের সকল সাংবিধানিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহন করি। আমরা ভোট দিয়ে শাসনতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করি। তাই আমাদেরও অধিকার আছে সাংবিধানিক অধিকার বা ন্যায় বিচার পাওয়ার। বিনিয়োগকৃত অর্থ বা সম্পদ রক্ষার। এবং ডেসটিনির কর্ম পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার।

“মাননীয় গনতন্ত্রের মানবকন্যা”

আমাদের কান্না যেন কেহ শুনতে পারছে না। আমাদের দাবি যেন আপনার নিকট পৌছাচ্ছে না। তাই আজ বড় আশা নিয়ে আপনার কাছে এই খোলা চিঠি লিখছি। জানিনিনা এই চিঠিটিও আপনার নজরে আসবে কিনা। তবুও মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, আপনি বা আপনার নিয়োজিত দায়িত্বশীল কোন মহাৎ ব্যক্তির হয়তো বা আমাদের এই করুন আর্তির বিষয়টি আপনাকে অবহিত করবেন। আপনিও জানেন, আমাদের কোম্পানীর এম,ডি ড. মোঃ রফিকুল আমীন বলেছেন, ডেসটিনি একটি প্রতিষ্ঠান। এটি কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়। আমরা কোন দিন রাজনীতিও করবো না। তা’হলে কেন আমরা কাদের স্বার্থের শিকার হয়েছি?। আজ কেনইবা ৪৫ লাখ মানুষ বাঁচার জন্য কাঁদছি। আপনিও দেখেছেন আমাদের লাখ লাখ সদস্য থাকা স্বর্থেও ডেসটিনি সহ আটক শীর্ষ কর্মকর্তাদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করে আসছি।আমাদের প্রতিটি আন্দোলন হচ্ছে অহিংসক। আমারা কোথাও রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট বা জ্বালাও পোড়াও এমনকি সহিংসক কোন কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়নি। তা’হলে আমাদের অপরাধ কোথায়? আমরা কার কাছে ন্যায় বিচার পাবো? আপনিই বলে দেন?। আজ আমাদেরকে অপরাধী সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ সহ কোম্পানীর এম,ডি ও চেয়ারম্যানকে আটক রেখে আমাদেরকে বেকার করে রাখা হয়েছে। আমরা ৪৫ লাখ ক্রেতা পরিবেশক ও বিনিয়োগকারী বিশেষ করে ২৫ লাখ যুবক আর ১৩ লাখ নারী সদস্যরা কোথাও কোন অভিযোগ বা মামলা করেনি ডেসটিনি তথা এর এম,ডি / চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। আমরা আমাদের টাকা ডেসটিনিতে বিনিয়োগ করেছি। কারন ডেসটিনি ছিল আমাদের জন্য নিরাপদ। একজন মায়ের কোলে তার সন্তান যেমন নিরাপদ ঠিক তেমনই ডেসটিনিতে আমাদের সঞ্চয় ছিল নিরাপদ।অথচ দেখুন আমাদেরকে অন্যায়ভাবে আটক রেখে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। আমরা জানি আপনি কোখনও অন্যায়কে সমর্থন করেন না। আবার বিনা বিচারে কেউ শাস্তি পাক সেটিও আপনি চান না। তাইতো আপনার কাছে আমাদের শেষ চাওয়া আমরা যেন ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত না হই। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় দেখেছেন, ডেসটিনির বিরুদ্ধে দুদক যে মামলা করেছে ঐ মামলায় দুদক দাবি করেছে, ডেসটিনি মানিলন্ডারিং এর মাধ্যমে টাকা বিদেশে পাঁচার করেছে। দুদুকের সেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ডেসটিনির বিরুদ্ধে চার্জশীটে অবৈধ ব্যাংকিংয়ের কোন কথাই নেই।ডেসটিনির বিরুদ্ধে ঐ চার্জশীটে অভিযোগে লেখা হয়েছে মানিলন্ডারিং করেছে ডেসটিনি। অন্যদিকে ঐ চার্জশীটের অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, ডেসটিনি’র বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে ডেসটিনির ৪৫ লাখ ক্রেতা পরিবেশক ও বিনিয়োগকারী সহ এর সাথে জড়িত দেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষের বিশ্বাস ডেসটিনি আইনের মাধ্যমে মুক্তি পাবে। আপনি জেনেছেন আটক কোম্পানীর এম,ডি মোঃ রফিকুল আমীন গ্রাহকদের প্রাপ্য টাকা ফেরত দেবার কথা কোর্টে জবানবন্দি দিয়েছেন। তা’ছাড়া ডেসটিনি ১২ বছরে ৪১০ কোটি টাকা ট্যাক্স, ভ্যাট সরকারী কোষাগারে প্রদান করেছে এবং সরকারী নিয়োমনীতি মেনে নিয়ে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। অথচ কেন তাকে বন্ধ রেখে আমাদেরকে কষ্ট দেয়া হচ্ছে আমরা বুঝতে পারছিনা।

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী”
ডেসটিনির সাথে জড়িত আজ ১৩ লক্ষ নারী। তাই নারীর ক্ষমতায়ন বা নারী অধিকার বাস্তবায়নে বড় বাঁধা হয়ে গেছে। ডেসটিনিতে কাজ করে ঐসব নারীদের পরিবার গুলি সুখে ছিল। কিন্তু আজ বহু পরিবারের অভাবের তাড়নায় ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছে। মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। তাদের খবর যেমন কেউ রাখে না। তেমনই তাদের বোবা কান্নাও শুনছে না কেহ। ঠিক তেমননিভাবে মানব পাঁচারের শিকার দেশের বৃহৎ যুব সমাজ। বেকারত্ব জীবন থেকে বাঁচতে তারা ঐপথে হাটছে। অথচ ঐসব এলাকায় ডেসটিনি বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান বা বননায়ন গড়ে তুলতে চেয়েছিল। আজ যদি ডেসটিনিকে বন্ধ করে না রাখা হতো তা’হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠতো শিল্প প্রতিষ্ঠান। আর কর্মসংস্থার সৃষ্টি হতো লাখ লাখ মানুষের। পরিশেষে খোলা চিঠির মাধ্যমে ভয়াবহ মরণব্যাধি করোনা থেকে বাঁচতে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে বিনা বিচারে দীর্ঘ আট বছরের বেশি কাল জেলে বন্দী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বৈশাখী টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দৈনিক ডেসটিনির সম্পাদক এবং ডেসটিনি ২০০০ লিঃ এর এমডি ও চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল আমিনকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিন।

আরও সংবাদ

তালতলীতে খাদ্য সহায়তার নাম দিতে গিয়ে ইউপি সদস্যর ধর্ষণের শিকার দিনমজুরের মেয়ে

মোঃ হাইরাজ, বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলীতে করোনা ভাইরাসের কারনে বেকার হয়ে খাদ্য সংঙ্কটে পড়ে একটি …