সোমবার , মে ২৫ ২০২০
সংবাদ শিরোনাম
Home » সারাদেশ » চট্টগ্রাম » লক্ষ্মীপুর কমলনগরে ইউপি সদস্য সেলিমের বিরুদ্ধে বিধবা ও বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর কমলনগরে ইউপি সদস্য সেলিমের বিরুদ্ধে বিধবা ও বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

ইমরান হোসেন, জেলা প্রতিনিধিঃ সরকারী পরিপত্রকে অগ্রাহ্য করে রেশন কার্ডের সুবিধাভোগীর তালিকা প্রনয়ন, বিধবা ভাতার কার্ড দেওয়ার নাম করে ঘুষ নেওয়া, বয়স্ক ভাতা দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়া, করোনা ক্রান্তিকালে সরকারী ত্রাণ বিতরণে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাথে সমন্বয় না করা, নিজে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আ স ম রবের সাথে একাধিক বৈঠক করে দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা, সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকার পক্ষে ভোট না করা,ইয়াবা সেবনের ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়া, পূর্ব জাঙ্গালিয়া তালিমূল কুরআন কাওমী মাদ্রাসার উন্নয়নের টাকা আত্মসাত করা, আলী আকাব্বর মুন্সি জামে মসজিদের নামে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে ১ লাখ ১১ হাজার টাকা অফিস খরচের নামে আত্মসাত করা। এমন সব অনিয়ম, অপকর্ম এবং মসজিদ ও মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাত করার অভিযোগ নিয়েও বহাল তবিয়তে আছেন লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার হাজির হাট ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ সেলিম।
সরেজমিন পরিদর্শন করে এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ ও ভূক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের চর জাঙ্গালিয়া গ্রামের দরবানী বাড়ীর আলী হায়দারের পুত্র মোঃ সেলিম ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও অত্র ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। করোনা ক্রান্তিকালে একটি পরিপত্র অনুসারে হাজিরহাট ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডে ১০০ জনের নামে রেশন কার্ড করার দায়িত্ব পাওয়ার নিজ ওয়ার্ডে দরিদ্র ও কর্মহীনদের নাম তালিকাভূক্ত না করে সামনের ইউপি নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়ার জন্য প্রভাবশালী ও স্বাবলম্বীদের নাম তালিকাভূক্ত করেন ইউপি সদস্য সেলিম। তালিকার বিরুদ্ধে ইউএনও মহোদয়কে অভিযোগ করা হয়। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে তালিকা যাচাই করে পরিপত্রের সাথে সাংঘর্ষিক ১৫ জনের নাম ঐ তালিকা থেকে সংশোধন করা হয়। ইউপি সদস্য সেলিম কেনো পরিপত্রকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে তালিকা করেছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে ইউপি চেয়ারম্যান তালিকা হালনাগাদের কৌশলী উত্তর দিয়েছেন। বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতা কার্ড করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ইউপি সদস্য সেলিমের বিরুদ্ধে। দুই বছর পূর্বে আমেনার বাপের বাড়ীর মৃত নুর নবীর স্ত্রী বিধবা জাহানারা বেগমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা সরাসরি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কার্ড করতে দেরী হওয়ার কারণ হিসেবে স্বামীর মৃত্যু সনদের কথা বলে মৃত্যু সনদের জন্য ইউপি সচিবকে ১২ শত টাকা দিতেও জাহানারা বাধ্য হয়েছেন। দিন গড়িয়ে মাস ও দুই বছর গেলেও জাহানারার বিধবা ভাতার কার্ড জুটে নাই। একই ওয়ার্ডের আশার বাপের বাড়ীর মৃত সালাহ উদ্দীনের স্ত্রী পিয়ারা বেগম থেকে ৩ হাজার টাকা, বেকের বাড়ীর ইদ্রিছ মিয়ার ছেলে সাহাবুদ্দিনের থেকে বয়স্ক ভাতা করে দেওয়ার জন্য ৩ হাজার টাকা, লেডুন্যা বাড়ীর মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে আব্দুল আলীকে বয়স্ক ভাতা করে দেওয়ার জন্য ৩ হাজার টাকা স্থানীয় সাইফুলের মাধ্যমে নিয়েছেন ইউপি সদস্য সেলিম। সাইফুল বলেন, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা কার্ড করার জন্য ৪ হাজার টাকা করে সংগ্রহ করার প্রস্তাব দেয় ইউপি সদস্য সেলিম। ৪ হাজার টাকার মধ্যে অগ্রিম ৩ হাজার টাকা পরে কার্ড হাতে পাওয়ার পর বাকী ১ হাজার টাকা সাইফুলের কমিশন বলে আশ্বস্ত করা হয়। তিনজনের মধ্যে এক জনের কার্ড হলেও বাকী দুইজনের কার্ড দুই বছরেও না হওয়ায় সুজা মাঝি বাড়ীর মৃত মফিজ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিশিষ্ট জনদের অবগত করার কথা বললেও ইউপি সদস্য সেলিম কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, কার্ডের বিনিময়ে কাউকে টাকা না দেওয়ার ঘোষণা বার বার দেওয়া হয়েছে। পরিষদ ও সরকারী কোন সুযোগ সুবিধার তালিকা প্রনয়নে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আলী মিয়া ও সহযোগী সংগঠনের সাথে সমন্বয় না করে স্থানীয় বিএনপি সমর্থক সেলিম হাওলাদারের সাথে সমন্বয় করার অভিযোগ রয়েছে ইউপি সদস্য সেলিমের বিরুদ্ধে।
ইউপি সদস্য সেলিম ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি হলেও বিগত সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের ভোট না কর এবং ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সাথে করুনানগর বাজারে ধানের শীষের নির্বাচনী কার্যালয় ও আ স ম আব্দুর রবের বাড়ীতে একাধিক বৈঠক করার অভিযোগ থাকলেও ইউপি সদস্য সেলিম বৈঠকের কথা অস্বীকার করলেও জাতীয় নেতা হিসেবে আ স ম আব্দুর রবের সাথে দেখা হলে কথা বলা কি অপরাধ? এমন প্রশ্ন করেন সাংবাদিককে। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনেও ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি সেলিম নৌকার ভোট না করে ভাইস চেয়ারম্যান আলা উদ্দিন সবুজের পানির কলের পক্ষে ভোটের ময়দানে সময় দিয়েছিলেন।
নিজে টেনশন হলে শুধু সিগারেট টানার দাবী করলেও তার ইয়াবা সেবনের ভিডিও সামাজিক যোাগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়াকে ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেন বিতর্ক নিয়ে বসবাস করা ইউপি সদস্য সেলিম। ভিডিও ষড়যন্ত্র নাকি ছবি ষড়যন্ত্র? এমন প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে আমি বুঝতেছিনা,কিভাবে কি হলো বলে তিনি অন্য প্রসঙ্গে চলে যান। ইয়াবা সেবনসহ বিভিন্ন ভাতার নামে ঘুষ সংগ্রহসহ দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেই ক্ষান্ত হন নাই ইউপি সদস্য সেলিম। মসজিদ ও মাদ্রাসার টাকাও আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পূর্ব জাঙ্গালিয়া আলিমুল কুরআন কাওমী মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য স্থানীয় হাজী নাজির আহম্মদ ৫০ হাজার টাকা দান করলেও কয়েক বছর যাবত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে টাক
চাইলেও টাকা ফেরত না দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সেলিম বলেন,নাজির আহম্মদ তো বেঁচে আছেন। তিনি তো কিছু বলেন না? আলী আকব্বর মুন্সি জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্ধ হলেও অফিস ঘুষ বাবত ১ লাখ ১১ হাজার টাকা বাদ দিয়ে মসজিদের ফান্ডে ৬৯ হাজার টাকা জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সেলিমের বিরুদ্ধে। মসজিদ পরিচলনা কমিটির সহ-সভাপতি ইউসুফ মাঝিকে ক্যাশিয়ার আল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এই অভিযোগ অস্বীকার করে সেলিম জানান,টাকার পরিমান না বলে ভ্যাট বাদ দিয়ে বাকি টাকার কাজই করা হয়েছে। এতো সব অনিয়ম করে তার অনুশোচনা না থাকায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ এবং তার খুঁটির জোর নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ করার দাবী জানিয়েছেন।
আগামী সংখ্যায় থাকবে- কৃষি কার্ডে নিজের পিতা-মাতা ও স্ত্রীর নাম সংযোজনসহ ইউপি সদস্য সেলিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের আরো নানা অভিযোগ।

আরও সংবাদ

ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন – মাকছুদুর রহমান 

শিক্ষা তথ্যঃ পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষ্যে লক্ষ্মীপুর জেলাবাসীকে শুভেচ্ছা  জানিয়েছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার  ১৩নং …