বুধবার , মে ২৭ ২০২০
সংবাদ শিরোনাম
Home » জাতীয় » শতবর্ষী বৃদ্ধা মা’কে রাস্তায় ফেলে গেলো সন্তানেরা, পাশে দাঁড়ালো পুলিশ

শতবর্ষী বৃদ্ধা মা’কে রাস্তায় ফেলে গেলো সন্তানেরা, পাশে দাঁড়ালো পুলিশ

সাইদুজ্জামান রেজা, পঞ্চগড়ঃ শতবর্ষী বৃদ্ধা ইশারন নেছা পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর এলাকার বাসিন্দা। স্বাধীনতার পরপরই হারিয়েছেন স্বামী মজত আলীকে।নিজের চার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে স্বামী বিয়োগের পর থাকতেন সৎ ছেলের কাছে। সৎ ছেলে মারা গেলে সর্বস্ব বিক্রি করে চলে যান একই ইউনিয়নের পাখরতলা গ্রামে মেয়ে আজিমার বাড়িতে। ১৫-১৬ বছর ধরে সেখানেই রয়েছেন। ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বয়সের ভাড়ে এখন তেমন হাঁটতেও পারেননা। এর মধ্য গত এক মাস আগে এক মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পড়ে পায়ে আঘাত পান তিনি। এর পর থেকে চলাচল করতে পারেন না এই বৃদ্ধা। এই অবস্থায় শয্যাশায়ী মা’কে দেখভালে অসুবিধা হওয়ায় মেয়ে আজিমা তাকে রেখে আসে সৎ ভাই জাহিরুলের বাড়িতে। জাহিরুল ও তার ছেলে সলেমান বৃদ্ধাকে এক মাস দেখাশুনা করার পর তাকে আবার রেখে যান আজিমার বাড়ি। কয়েকদিন পর আজিমা আবার রেখে আসে জাহিরুলের বাড়ি। এভাবে এক পর্যায়ে তাঁরা গত বুধবার সন্ধ্যায় তাদের মা’কে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে রেখে চলে যায়। রাত হলেও তাকে কেউ বাড়িতে নেয়ার উদ্যোগ নেয়নি। স্থানীয়দের নজরে এলে কয়েকজন যুবক বৃদ্ধার খাবারের ব্যবস্থা করেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা তার মেয়ে আজিমার বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে আজিমা আবারও তার মাকে মির্জাপুর উত্তরা বাজারের একটি দোকানের সামনে রেখে চলে যায়। সেখানে বসে বসে কাঁদছেন ওই বৃদ্ধা। সন্ধ্যায় ঝড় বৃষ্টি শুরু হলেও কোনো সন্তানই তাকে ফিরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়নি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ। এরপর মির্জাপুর বাজারের মাদ্রাসার বারান্দা থেকে বৃদ্ধা ইশারন নেছাকে উদ্ধার করে মেয়ে আজিমা বেগমের বাড়িতে তুলে দেন তাঁরা। পরে শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যাদি পৌঁছে দেয়া হয় ইশারন নেছার কাছে। বৃদ্ধা ইশারন নেছা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার কেউ নেই। প্রয়োজনে আপনারা আমার স্বামীর ভিটায় একটা ঘর তুলে দিন। আমি সেখানেই যেন মরতে পারি। মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর আলী বলেন, ওই বৃদ্ধা তার সবকিছু বিক্রি করে সব টাকা পয়সা নিয়ে মেয়ে আজিমার বাড়িতে উঠেন। ভিক্ষা করে যা পেতেন সব মেয়েকে দিয়ে দিতেন। পায়ে আঘাত পেয়ে এখন ভিক্ষা করতে পারেন না তাই তাকে তার মেয়ে আর রাখতে চাইছে না। আমরা প্রয়োজনে সহযোগিতা করতে পারি কিন্তু দেখভালের দায়িত্বতো তাদেরই নিতে হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, প্রতিটি মানবিক কাজ এগিয়ে যাওয়া পুলিশের দায়িত্ব। তাই খবর পেয়ে পুলিশ বৃদ্ধা ইশারন নেছার পাশে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের পক্ষ হতে ওই বৃদ্ধার সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হবে। পূণরায় তার সাথে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।

আরও সংবাদ

পটুয়াখালীর ৫৬৫৬টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান প্রদান 

মোয়াজ্জেম হোসেন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণকে সহায়তার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী …