শুক্রবার , ফেব্রুয়ারি ২৮ ২০২০
সংবাদ শিরোনাম
Home / উন্নয়ন / শতভাগ ডিজিটাল হচ্ছে শেরপুর খাদ্য বিভাগ

শতভাগ ডিজিটাল হচ্ছে শেরপুর খাদ্য বিভাগ

শেরপুর প্রতিনিধিঃ ‘দিন যায় কথা থাকে’ সুবির নন্দী কন্ঠে বিখ্যাত এই গানের সুরে সুর মিলিয়ে বলা যায় সরকারের সব দপ্তরেই- একজন যায়, একজন আসে। কিন্তু ব্যতিক্রম হিসাবে থেকে যায় তার কর্মকান্ড। তেমনই একজন কর্মচঞ্চল ও কাজ পাগল মানুষ হলেন শেরপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফরহাদ খন্দকার। জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে শেরপুরে জেলা খাদ্য বিভাগের অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়। তারপর থেকে অনেক কর্মকর্তা এখানে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি ৩৪তম বিসিএস খাদ্য ক্যাডারের নবীন সদস্য মো. ফরহাদ খন্দকার মুন্সীগঞ্জ জেলায় সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করায় শেরপুর জেলা খাদ্য বিভাগের দায়িত্ব পান। তিনি যোগদান করার পর পরির্বতন শুরু হয় জেলার খাদ্য বিভাগে। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের অংশীদার হিসেবে পরিবর্তন নিয়ে আসেন জেলার খাদ্য বিভাগের প্রতিটি সেক্টরে। তিনি যোগদানের পরই ই-নথি লাইভ সার্ভারে নিয়ে আসেন এবং অফিস স্টাফদের নিজেই প্রশিক্ষণ দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তীতে ই-নথির মাধ্যমে জেলার সকল চিঠিপত্র প্রেরণসহ মিল মালিকদের সরকারি গুদামে চাল সরবরাহের বরাদ্দপত্রও ই-নথির মাধ্যমে প্রেরণ করা হচ্ছে। ফলে ঘরে বসেই তারা ই-মেইলে চালের বরাদ্দপত্র পাচ্ছেন। সকল তথ্য খাদ্য বিভাগ শেরপুরের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করে দেন। ফলে প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্যে সেবা গ্রহীতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না। এ জেলার চালের সুনাম সারা দেশব্যপী। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, সাভার ও জয়দেবপুর সেনানিবাসের সকল চাল শেরপুর খাদ্য বিভাগ থেকে সরবরাহ করা হয় এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নতমানের চাল প্রেরণ করা হয়। চালের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে জেলার সকল গুদামে সংগ্রহ মৌসুমে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে উৎকৃষ্টমানের চাল সংগ্রহ নিশ্চিত করেন। গত বোরো মৌসুমে ঝিনাইগাতী উপজেলা গুদামে নিম্ন মানের চাল সংগ্রহের কারণে দায়ী গুদাম কর্মমকর্তা ও জড়িত সিন্ডিকেট মিলারদের শাস্তির আওতায় আনেন এবং একই সাথে নিম্ন মানের চাল পরিবর্তন করিয়ে ভাল মানের চাল জনস্বার্থে গুদামে মজুত করেন। এর ফলে তিনি যেমন সুনাম কুড়িয়েছেন তেমনি ব্যক্তি স্বার্থে আঘাত লাগায় তার বিরুদ্ধে উক্ত সিন্ডিকেট উঠেপড়ে লেগেছে।
জেলার একাধিক মিল মালিক জানান, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ১৯৪৩ সালের আইনে প্রদত্ত জড়াজীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে আসছিলেন। বিষয়টি তার দৃষ্টিগোচর হলে তিনি মিলের তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং পাক্ষিক ক্ষমতা নির্ণয়ের জন্য অনলাইন সফটওয়্যারের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে মিলের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরী করে ফেলেন। পরবর্তীতে সফটওয়্যারের তথ্যের ভিত্তিতে ২৩০ টাকা সরকারি ফি নিয়ে নতুন লাইসেন্স প্রদান করেন। একই সাথে সফটওয়্যার মিলিং তথ্য মোতাবেক সকল মিলারদের প্রাপ্য চালের বরাদ্দ প্রদান করেন এবং বন্ধ মিলগুলোর লাইসেন্স বাতিল করে দেন। এর ফলে জেলার চাল সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা ডিজিটালযুগে পদার্পণ করে। কৃষকদের নিকট থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের জন্য তিনি গুদামে কৃষক, মিলার ও সেবা প্রার্থীব্যতিত অন্য সকলের প্রবেশ সংরক্ষিত করাসহ নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রেখেছেন এবং লটারি করে সকল উপজেলার কৃষক নির্বাচন নিশ্চিত করেছেন। ফলে অবৈধ সুবিধাভোগীদের দৌরাত্ম বন্ধ হয়েছে। আগামি বছর বোরো সংগ্রহ মৌসুমে পুরো জেলায় অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন এ নির্বাচনের মাধ্যমে ধান ক্রয়ের পরিকল্পনা শেরপুরে শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া শেরপুর পৌরসভা এলাকায় প্রতিদিন (সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি ব্যতীত) ০৫ মে.টন আটা প্রতি কেজি ১৮ টাকা দরে ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রয় করা হয়।ডিলারদের কোথাও কোন অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না ফলে ডিলারগণও জনগনকে সঠিক সেবা দিতে কার্পণ্য করছে না। তার উদ্ভাবিত ‘ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে খাদ্য বিতরন ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সফটওয়্যারটি বাস্তবে রুপদানের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিক রূপলাভ করবে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ হবে। অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, খাদ্য অধিদপ্তর প্রণিত অডিট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়ারের মাধ্যমে জেলার সকল অডিট আপত্তি গুলো ক্রাশ প্রেগামের মাধ্যমে নিস্পত্তির কাজ চলমান রয়েছে। তিনি স্বল্প সময়ে উন্নত মানের সেবা প্রদান এবং কর্ম পরিবেশ উন্নীত করার জন্য, অফিস ভবন ও দীর্ঘদিনের পুরাতন গুদাম মেরামতকরণের কাজে হাত দিয়েছেন। অফিসের জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটার, প্রিন্টার, আইপিএস, সিসি ক্যামেরা, আসবাবপত্র এবং বইপত্র ক্রয় করেছেন। ঝিনাইগাতী উপজেলা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসলাম মিয়া জানান, আগের তুলনায় বর্তমানে জেলা ও উপজেলা খাদ্য বিভাগের কাজকর্ম অনেক সহজ হয়েছে। এখন মিলমালিকরা চাইলেই অনলাইনের মাধ্যমে তাদের মিলের যাবতীয় বিষয় জানতে পারে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফরহাদ খন্দকার বলেন, ‘আসলে জেলা খাদ্য বিভাগের যে পরিবর্তন আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, তা আমার একার পক্ষে করা সম্ভব হয়নি। আমার আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মহোদয় জামাল হোসেন স্যার আমাকে নিয়মিত পরার্মশ ও উপদেশ দিয়ে সহায়তা করেছেন, জেলা প্রশাসন নিয়মিত সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, জেলা ও উপজেলা মিল মালিক সমিতি সরকারী নীতিমালা বাস্তবায়নে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমার সকল কর্মমকর্তা ও কর্মচারীগন আন্তরিকতার সাথে নিরলস পরিশ্রম করে সরকারি সিন্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। ধীরে ধীরে বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পুরনের লক্ষ্যে আধুনিক ও ডিজিটাল খাদ্য ব্যবস্থাপনার দিকে খাদ্য বিভাগ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

আরও সংবাদ

গলাচিপায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দ্বীতল ভবনের উদ্বোধন

জসিম উদ্দিন (গলাচিপা) পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগ এর প্রধান কার্যালয়ের দ্বীতল ভবনের ভিত্তি …