বুধবার , এপ্রিল ৮ ২০২০
সংবাদ শিরোনাম
Home » জনদূর্ভোগ ও অধিকার » সিরাজগঞ্জের চর নাকালিয়া খালের নরবরে বাঁশের সাঁকো এখন মরণ ফাঁদে পরিণত

সিরাজগঞ্জের চর নাকালিয়া খালের নরবরে বাঁশের সাঁকো এখন মরণ ফাঁদে পরিণত

সেলিম রেজা, নিজস্ব প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জঃ সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের রেহাইপুখুরিয়া-বিনানই সড়কের চর নাকালিয়া পূর্বপাড়া খালের উপর নির্মিত নরবরে বাঁশের সাকোটি এখন এলাকাবাসির মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংষ্কারের অভাবে সেতুটি এখন আর এলাকাবাসির কোন কাজেই আসছে না। বর্ষায় সেতুটির নিচ দিয়ে নৌকায় পাড় হতে হয়। আর শুষ্ক মৌসুমে এ খালে পানি শুকিয়ে গেলে পায়ে হেটে পাড় হতে হয়। সেতুটির বাশঁ-খুটি পচে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক স্থানের পচা বাঁশ খোষে পড়েছে। সেতুতে উঠলে থরথর করে কাঁপতে থাকে সেতু। ফলে এ সড়ক দিয়ে যানবহণ তো দূরের কথা মানুষজনই চলাচল করতে পারে না। এ বিষয়ে চর নাকালিয়া গ্রামের নূর আলম, রওশন আলী মাস্টার, আনোয়ার হোসেন ও জুলহাস মোল্লা জানান, ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের এ সড়কটির চর নাকালিয়া খালের উপর নির্মিত বাশেঁর সাকোটি নরবরে হয়ে যাওয়ায়, এ সড়ক দিয়ে কোন মালামাল পরিবহণ করা যায় না। জমি থেকে ফসল আনতে হয় মাথায় করে। এ ছাড়া ঘরবাড়ি ও সেনিটারি সামগ্রী পরিবহণ কষ্ট সাধ্য হওয়ায় অনেকের সামর্থ থাকলেও বাড়িতে ভাল ঘর ও সেনিটারিল্যাট্রিন তৈরী করতে পারে না। ফলে তাদের বাধ্য হয়ে কাঁচা পায়খানায় কাজ সারতে হয়। এ কারণে এ এলাকার পরিবেশ হুমকির মধ্য পড়েছে। শিশুদের নানা অসুখ বিসুখ লেগেই আছে। এখানে সেতুর অভাবে এ গ্রাম সহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে চরম কষ্ট পোহাতে হয়। এখানে জরুরী ভিত্তিতে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণ খুবই জরুরী প্রয়োজন। এ ছাড়া বিনানই নদীর উপর নির্মাণাধীন কংক্রিট সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রæত শেষ হলে ঢাকার সাথে চৌহালি সদরের সড়ক যোগাযোগ উন্নত হবে। এর পাশাপাশি ঢাকায় যাতায়াতের জন্য প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ কমে যাবে। এতে চৌহালীর মানুষ সকালে ঢাকায় পৌছে হাতের কাজ সেরে আবার বিকালে বাড়ি ফিরতে পারবে। এতে তাদের যাতায়াত খরচও অর্ধেক কমে যাবে। তারা আরো জানান,এলাকাবাসি দীর্ঘদিন ধরে এ খালের উপর একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের জোরদাবী জানালেও স্থানীয় প্রশাসনের এদিকে নজর না থাকায় তাদের দূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। তারা অবিলম্বে এখানে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের জোরদাবী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুস সাত্তার জানান,এ খালের উপর বাঁশের সাকোটি ২০১৮ সালের বর্ষায় নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ ২ বছরেও এর কোন সংষ্কার না করায় সাকোটি নরবরে হয়ে গেছে। ফলে এখন আর এ সাকো দিয়ে পাড় হওয়া যায় না। এখানে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের অভাবে এলাকাবাসি খুবই দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। তাই এলাকাবাসির এই দূর্ভোগ লাঘবে এখানে জরুরী ভিত্তিতে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের এদিকে নজর নেই। তাদের বারবার বলেও কোন কাজ না হওয়ায় এখন বলাই বাদ দিয়েছি। এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী জানান, এখানে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের দাবী জানিয়েছি। কিন্তু খালের প্রসস্ততা বেশি হওয়ায় প্রায় ৮০ ফুট দৈর্ঘের উপরে সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। তাই সেতুটি নির্মাণ দেরী হচ্ছে। তবে আশা করছি এ বছরের মধ্যেই হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। কিন্তু সেতু নির্মাণে কোন বরাদ্দ না থাকায় সেখানে সেতু নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। তারপরেও একটি প্রস্তাব পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রস্তাবটি পাশ হলেই ওখানে সেতু নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেওয়ান মওদুদ আহাম্মেদ বলেন, ওখানে অচিরেই একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।

আরও সংবাদ

ইউনিয়ন ও পৌর দিনমজুরদের ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন এমপির প্রতিনিধি বায়েজীদ ভূঁইয়া

 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ   মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  নির্দেশনা সারা দেশে যখন লকডাউন পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তখন …