আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার গোছখালী বাঁধঘাট এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় দেড় ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হওয়া দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে- মোশারফ হোসেনের ‘ছাত্র বন্ধু লাইব্রেরি’, খোকন হাওলাদার ও ইদ্রিস মোল্লার দুটি মুদি মনোহারি দোকান এবং আবু তাহেরের ওষুধের দোকান। এছাড়া যুগল বাবুর দোকানটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আবু তাহের কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “প্রতিদিনের মতো রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাই। রাতে খবর পাই দোকানে আগুন লেগেছে। এসে দেখি সব শেষ। এক টাকার মালামালও বের করতে পারিনি। আমি এখন নিঃস্ব।”
গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, চারটি দোকান সম্পূর্ণ এবং একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউজম্যান মো. হানিফ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ইউনিট পাঠানো হয়েছে। তাদের প্রাথমিক তদন্তে আগুনের কারণ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বলে মনে হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের হিসেবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধরা হলেও ব্যবসায়ীদের দাবি এটি ৪০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি আমরা জেনেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”