শামছুল হুদা, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেছেন, “আমি নিজের পকেট ভারী করতে বা ব্যক্তিগত স্বার্থে এমপি হতে আসিনি। সারাজীবন সততার সাথে চলেছি, ভবিষ্যতেও সেই সততা ধরে রেখে জনগণের পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই।” সম্প্রতি একটি বক্তব্যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসন থেকে নিজের প্রার্থিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি কয়েকটি পয়েন্টে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নই মূল লক্ষ্য: নান্দাইলের বর্তমান শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, “আশির দশকে নান্দাইল থেকে ১০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতো, আর এখন সেই সংখ্যা ৪-৫ জনে নেমে এসেছে।
এটি আমাদের জন্য লজ্জার। নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে নান্দাইলের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজানো।” দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: নির্বাচনী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে দুর্নীতিরোধে তিনি একটি বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “এমপি নিজে চাঁদাবাজ না হলে এলাকা দুর্নীতিমুক্ত রাখা সম্ভব। যেকোনো প্রকল্পের কাজের বিবরণ, বরাদ্দ ও সময়সীমা বিলবোর্ড আকারে জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নিজেই কাজের মান তদারকি করতে পারে।” বেকারত্ব দূরীকরণে নতুন উদ্যোগ: নান্দাইলের যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
আমি উদ্যোগ নেব যাতে এলাকার বেকার যুবকরা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করে নামমাত্র খরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।” ‘জনগণ হবে এমপি, আমি পাহারাদার’: নিজের স্লোগান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভোট দিয়ে জনগণ আমাকে বিজয়ী করলে তারাই হবে প্রকৃত মালিক। আমি কেবল তাদের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের পাহারাদার হিসেবে কাজ করব। আমি নির্বাচিত হলে কোনো রাজনৈতিক বৈষম্য থাকবে না; নান্দাইলই হবে আমার একমাত্র দল।” উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনে বিডিপি চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে নান্দাইলের প্রায় প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় গণসংযোগ সম্পন্ন করেছেন এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।