শেখ মোঃ সাইফুল ইসলাম, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃআওয়ামী লীগকে যে প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তা আইন ও সংবিধানসম্মত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি বলেন, দেশের একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হলে তা কখনোই নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হতে পারে না। এতে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র দুটিই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গতকাল রোববার বিকেলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের খামার মনিরাম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লাঙ্গল প্রতীকের নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী আরো বলেন, একজন আইনজীবী হিসেবে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই—রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থেকে একটি বড় দলকে বাদ দেওয়া মানে নির্বাচনী নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। এর ফলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক চর্চা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন শুধু ভোট গ্রহণের নাম নয়, এটি জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের বিষয়। বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে জাপা মহাসচিব বলেন, সরকার ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলছে। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নির্বাচনে নেমেছি। জনগণকেও সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। এই নির্বাচনে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা রয়েছে, যা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে সারাদেশে বিভিন্নভাবে কোণঠাসা করার অপচেষ্টা চলছে। একটি পূর্বপরিকল্পিত ও পূর্বনির্ধারিত নির্বাচন আয়োজনের আলামত দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এটি একটা ইঞ্জিনিয়ারড ও ম্যানুফ্যাকচারড নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, যেখানে জনগণের ভোটাধিকার গুরুত্বহীন হয়ে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, যদি এই নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় জাতীয় পার্টি আপসহীন থাকবে। দেশে সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জাতীয় পার্টিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে বহুল আলোচিত যশোর কারাগারে বন্দী এক ছাত্রলীগ নেতার হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বামীর জামিন না পাওয়ায় সন্তানকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন এক গৃহবধূ।
কারাবন্দী সেই ছাত্রলীগ নেতা আইন অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার কথা। সেখানে মৃত স্ত্রী-সন্তানকে জেল গেটে দশ মিনিট দেখার সুযোগ পেয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। এসব ঘটনা সমাজ ও গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। পথসভায় উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির উপজেলা সহসভাপতি- আনছার আলী সরদার, জহুরুল হক বাদশা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মন্ডল, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন সভাপতি রেজাউল হক রেজা, সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন মুক্তি প্রমূখ।