সাজ্জাদ আহমেদ মাসুদ, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। আমি ইসলামের পক্ষে একটি ‘বাক্স’ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, সেই বাক্স তৈরি হয়েছিল এবং দেশের মানুষের মধ্যে আশা-আকাঙ্খা জেগে উঠেছিল। কিন্তু যখন সারা দেশের মানুষ জেগে উঠেছে, তখন এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী ও ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী সেই আশা বিসর্জন দিয়ে গোপনে আমেরিকা ও ভারতের সঙ্গে বৈঠক করে ক্ষমতার স্বার্থে ইসলামকে জলাঞ্জলি দিয়েছে। তাদের সঙ্গে আমরা থাকতে পারিনি, তাই আমরা ভিন্ন হয়ে গেছি। এ মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতার লোভে নয়, বরং ইসলামের কল্যাণ, দেশ ও মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করে।
শনিবার দুপুরে পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌর শহরের হাইস্কুল খেলার মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রেজাউল করীম আরো বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের কোনো সংসদ সদস্য না থাকলেও সুযোগের অভাব ছিল না। আমরা চাইলে এমপি-মন্ত্রী হতে পারতাম। কিন্তু কোনো চাঁদাবাজ, জালেম, খুনি কিংবা এ দেশের টাকা বিদেশে পাচারকারী এবং বিদেশের তাবেদারি করা শক্তির সহযোগী হতে আমরা রাজি হইনি। সে কারণেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করেনি। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হিন্দুরা তাদের জানমাল ও ইজ্জত রক্ষার জন্য আমাদের বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। আবার বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামীলীগ নির্যাতনের শিকার হলে তাদের নেতারাও আমাদের বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছে। আবার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে বিএনপির নেতারাও আমাদের বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছে।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিজয়ী হলে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, হিন্দুসহ সব ধর্ম ও মতের মানুষ নির্বিঘেœ এ দেশে বসবাস করতে পারবে। কাউকে পালাতে হবে না। সভায় তিনি পটুয়াখালী-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মুফতি আবু বকর সিদ্দিককে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গলাচিপা উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুফতী আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মো. মাহাবুবুর রহমান, আলহাজ¦ হযরত মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ, কেন্দ্রীয় সহকারী প্রচার ও দাওয়াত বিষয়ক সম্পাদক কেএম শরীফাতুল্লাহ, পটুয়াখালী জেলা সভাপতি হাওলাদার মোহাম্মদ সেলিম মিয়া, সেক্রেটারি মো. আব্দুল হালিম প্রমুখ।