পটুয়াখালীর কলাপাড়া উজেলার চাকামাইয়া ইউনিয়নের আনিপাড়া গুচ্ছগ্রামের দুলাল হাওলাদারের ছেলে জাহাঙ্গীর হাওলাদার। প্রায় ৪ বছর আগে পার্শ্ববর্তী নীলগঞ্জ ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামের ইউসুফ আকনের কন্যা খালাতো বোন নুপুর আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পরই তাদের কোলজুড়ে আসে এক কন্যা সন্তান। তবে বিয়ের পর থেকেই নুপুর একের পর এক পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ জাহাঙ্গীরের। সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ গভীর রাতে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সৌদি প্রবাসী এক ছেলেকে ভিডিও কলে রেখে গ্রুপ কলে কথা বলেন তারা তিনজন।
এসময় নুপুর তার পরকীয়া প্রেমিকের কথা মতো ওই ভিডিও কলে জাহাঙ্গীরকে মুখে তালাক দেন এবং জাহাঙ্গীরও তাকে তালাক বলে ঘোষনা দেন। স্ত্রীর ভালোবাসা না পেয়ে এবং খালার মমতা থেকে বঞ্চিত হয়ে মাসনিক ভাবে ভেঙে পড়েন জাহাঙ্গীর। তাই দ্বিতীয় বার আর স্ত্রীকে ঘরে তুলবেনা মর্মে শপথ করে বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকবাসীকে স্বাক্ষী রেখে তিনি আধা মন দুধ দিয়ে গোসল করেন। তার অভিযোগ নুপুরের পরকীয়ার বিষয়টি তার খালা-খালুকে জানালেও প্রতিকারের পরিবর্তে পেয়েছেন তিরষ্কার।
স্হানীয় বাসিন্দা বাহাদুর বলেন, বিয়ের পর থেকেই ওর বউর সঙ্গে ওর মধ্যে ঝাগড়াঝাটি লেগেই রয়েছে।ওর বউকে ও আনার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু গতকাল ওর বউ বলেছে সে আর ওর সঙ্গে থাকবেনা। ওর বউ নাকি পরকীয়ায় লিপ্ত। তাই জাহাঙ্গীরও আর ওর বউকে ঘরে তুলবেনা বলে দুধ দিয়ে গোসল করে প্রতিজ্ঞা করেছেন। অপর বাসিন্দা রুবেল, ফেরদৌস, কালা মিয়া ও মিন্টু মিয়াও একই কথা বলেছেন।
জাহাঙ্গীর বলেন, আমি ছোট থেকেই অভাগা। মা হারিয়েছি ৮ বছর বয়সে। মায়ের মমতা পাওয়ার জন্য খালাতো বোনকে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু কপালের সুখ জোটেনি। বিয়ের পর থেকেই আমার বউ পরকীয়ায় লীপ্ত হয়ে যায়। কয়েকটির প্রমানও আমার কাছে আছে। আমি বহুবার খালা খালুকে জানিয়েছি কিন্তু তারা কোনো প্রতিকার করেনি। উল্টো আমার খালু আমাকে মারধরও করেছে।আমার স্ত্রী নুপুর বর্তমানে সৌদি প্রবাসী এক ছেলের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত। গত ২৭ মার্চ রাতে আমি, স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিক গ্রুপ কথা বলি। সেখানে আমার স্ত্রী তার সঙ্গে প্রেম করে বলে জানায় এবং আমাকে বেশ কয়েকবার মৌখিকভাবে তালাক দেয়। তখন আমিও ওকে মৌখিক তালাক দেই। তাকে আর ঘরে তুলবোনা বলে আজ সবার সম্মুখ্যে দুধ দিয়ে গোসল করলাম।
এ বিষয়ে জানতে নুপুরের ফোনে একাধিকার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার বাবা ইউসুফ আকন বলেন, জাহাঙ্গীর নেশা করার পাশাপাশি তার মেয়েকে মারধর করে এবং সকল দোষ তার। তবে পরকীয়ার বিষয়টি তিনি জানেননা।সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনারা সরেজমিনে এসে দেখুন।আমি আমার মেয়ের সুষ্ঠু সমাধান চাই।
কলাপাড়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই, তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বব্যস্থা গ্রহন করা হইবে।