পবিত্র মাহে রমজানের আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ক্ষমার মহিমাকে সামনে রেখে কারাবন্দী সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, রমজান মাস মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও সহমর্মিতার বার্তা বহন করে। এ মাসে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে উদারতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার চর্চা আরও জোরদার হওয়া উচিত। বৃহস্পতিবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিএমএসএফের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকরা নানা হয়রানি, মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন অবস্থায় কারাবন্দী থেকে তাদের পরিবার মানবিক সংকটে পড়েছে।
সংগঠনটির মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি। সংগঠনের মনিটরিং তথ্যানুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্থানে অগণন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন। বিগত অন্তবর্তী সরকার আমলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিক একই ধরনের হয়রানি, মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন বলে সংগঠনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। সাংবাদিকদের প্রতি অযৌক্তিক হয়রানি ও গ্রেপ্তার স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মাহে রমজান আমাদের ধৈর্য, সহনশীলতা ও ক্ষমার শিক্ষা দেয়। এই পবিত্র মাসে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় নিয়ে কারাবন্দী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে ন্যায়সংগত সমাধান নিশ্চিত করা উচিত।
যেসব সাংবাদিক শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কারাবন্দী রয়েছেন, তাদের মুক্তি প্রদান সময়ের দাবি। বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর ও সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “সাংবাদিকরা রাষ্ট্র ও সমাজের দর্পণ। তাদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা না গেলে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। পবিত্র মাহে রমজানের পবিত্রতা ও মানবিক আবেদন বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের জোর দাবি কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তি দিয়ে তাদের পরিবারের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।” নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, ন্যায় ও মানবিকতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।