নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ (কেন্দ্রীয় কমিটি) আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা–২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজধানীর শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে। শনিবার (৪ এপ্রিল) আয়োজিত এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশব্যাপী বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী বাসুদেব ধর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করে। ধর্মীয় চর্চা ও সংস্কৃতি বিকাশে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গীতা মানুষের নৈতিকতা, মানবতা ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়, যা সমাজ গঠনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় বর্মা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হামিদুর রহমান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রী তপন চন্দ্র মজুমদারসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শ্রী জয়ন্ত কুমার দেব, ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী দ্বীপেন্দ্রনাথ চ্যাটার্জী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রী সন্তোষ শর্মা, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পালসহ আরও অনেকে।
এ অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে বিশাল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়। জেলার প্রতিটি থানা, উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতৃত্ব দেন জেলা সভাপতি সাংবাদিক শংকর কুমার দে এবং সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন। মহানগর কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন সভাপতি শ্রী বিষ্ণুপদ সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সুশিল দাস। এসময় সহ-সভাপতি তিলোত্তমা দাস, প্রদীপ সরকারসহ জেলা ও মহানগরের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এক বিবৃতিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন বলেন, “আজকের এই মহাসমাবেশ সফল করতে জেলার প্রতিটি থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ যে আন্তরিকতা ও শ্রম দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ আয়োজন সফল হয়েছে। এজন্য আমি সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐক্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত রাখতে এ ধরনের জাতীয় আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে।”
অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায় এবং পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।