আসিফ জামান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “আমাকে মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব বললেন যে এই এলাকার এয়ারপোর্টটার কাজ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। ইনশাআল্লাহ বিএনপি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে সরকার গঠন হলে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই এলাকার এয়ারপোর্ট ইনশাআল্লাহ চালু করব।”
শনিবার সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “আমরা আন্দোলন করেছি, আমরা একাত্তর সালে যুদ্ধ করেছি, আমরা এই দেশকে স্বাধীন করেছি। ২০২৪ সালে আমরা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দিয়ে এই দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করেছি। এখন আমাদেরকে দেশকে গঠন করতে হবে।
“এখন আমাদের এই দেশকে তৈরি করতে হবে— এই দেশের অর্থনীতিকে, এই দেশের গণতন্ত্রকে আমাদের মজবুত করে গড়ে তুলতে হবে যাতে এই দেশের মানুষের সামনে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ তৈরি হতে পারে।”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “একাত্তর সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, তখন আমরা দেখিনি কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ, কে হিন্দু, কে খ্রিস্টান। আমরা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যখন রাজপথে সারা বাংলাদেশের মানুষ নেমে এসেছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে; আমরা দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান।
“প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই দেশে হাজার বছর ধরে প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ আমরা শান্তিতে বসবাস করেছি। আগামী হাজার বছরেও আমরা চাই প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ শান্তিতে এই দেশে বসবাস করবে। যে যার যোগ্যতার ভিত্তিতে, যে যার মেধার ভিত্তিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। প্রত্যেককে বিচার করা হবে তার যোগ্যতা, তার মেধার ভিত্তিতে— ধর্ম দিয়ে কোনো বিচার করা হবে না তাকে।”
‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে ধানের শীষের পক্ষে জনগণের সমর্থন চান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “আমরা জনগণের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি, আমরা জনগণের সমর্থন নিয়ে জনগণের ভালোবাসা নিয়ে জনগণের শক্তিতে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে চাই।
“যেই বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ, খেটে-খাওয়া মানুষ নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করতে পারবে, যেই বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য চাকরি-বাকরি করতে পারবে, যেই বাংলাদেশে মা-বোনেরা নিরাপদে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে, নিরাপদে পথে চলাচল করতে পারবে, যেই বাংলাদেশে বাংলাদেশের শিশুরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা সুন্দরভাবে করতে পারবে|
“যাতে করে তারা মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে, যেই বাংলাদেশে তরুণ সমাজেরা যুব সমাজের সদস্যরা তাদের লেখাপড়ার পরে কোন না কোন একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে।”
তারেক রহমান বলেন, “তাদেরকে বেকার থাকতে হবে না, যেই বাংলাদেশে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশে মানুষ অন্তত ন্যূনতম চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না।”
নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া ক্ষুদ্র ঋণ সরকারিভাবে পরিশোধের ব্যবস্থাসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
‘এবার দেশ গড়ার নির্বাচন’
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “এইবারকার নির্বাচন শুধু দেশের জনপ্রতিনি নির্বাচিত করার নির্বাচন নয়, এবারকার নির্বাচন হবে আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করার নির্বাচন। গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ তাদের যেমন রাজনৈতিক অধিকারকে প্রয়োগ করতে পারে নাই, তারা কথা বলার স্বাধীনতা পায় নাই, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অধিকার থেকেও অনেক পিছিয়ে গিয়েছে, দেশে আমাদের তরুণদের যুবকদের যে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হওয়ার দরকার ছিল সেই ব্যবস্থা হয়নি।
“দেশের নারীদের মা-বোনদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার কথা ছিল, সেটি হয় নাই… দেশের কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড সহযোগিতা করার জন্য অর্থনৈতিকভাবে যে সহযোগিতা করা উচিত ছিল, সেই কাজটিও করে নাই বিগত স্বৈরাচার সরকার।
তিনি বলেন, “আজ সময় এসেছে। আমরা ১২ তারিখের নির্বাচনে যেমন জনগণের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করব। একইভাবে আমরা দেশ পুনর্গঠনের কাজে হাত দেব।”
‘জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে হবে’
বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলেন, “জনগণকে সাথে নিয়ে দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে আমরা এখন দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, আমরা আমাদের দেশকে খাদ্যে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই, আমরা আমাদের বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। আমরা আমাদের মা-বোনদেরকে শিক্ষিত এবং তার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই।
‘‘এই কাজগুলো যদি করতে হয় তাহলে কী করতে হবে? এই দেশের মালিক কারা বলেন তো? জনগণ হচ্ছে এই দেশের মালিক। সেই জনগণের সেই মালিকের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের পক্ষে এই কাজগুলো সম্ভব নয় এবং সেজন্যই আজকে এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি আপনাদের কাছে আপনাদের সহযোগিতা চাচ্ছি, আপনাদের সমর্থন চাচ্ছি, আপনাদের কাছে ধানের শীষের জন্য ভোট চাইছি। যাতে করে যেই পরিকল্পনার কথা আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরলাম সেই পরিকল্পনাগুলো যেন আমরা দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য বাস্তবায়ন করতে চাই।”
তারেক রহমান ঠাকুগাঁও ও পঞ্চগড়ের দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে ধানের শীষে ভোট চান। প্রার্থীরা হলেন— ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও -৩ আসনে জাহিদুর রহমান জাহিদ, পঞ্চগড়-১ আসনে নওশাদ জমির, পঞ্চগড়-২ আসনে ফরহাদ হোসেন আজাদ, পঞ্চগড়-৩ আসনে মনজুরুল ইসলাম রয়েছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের নির্বাচনি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।
ঠাকুরগাঁয়ের সমাবেশ শেষ করে বিএনপি চেয়ারম্যান হেলিকপ্টারে চেপে রওনা হন নীলফামারীর উদ্দেশে। সেখান থেকে যাবেন দিনাজপুরের বিরামপুরের নির্বাচনি জনসভায়।