নিজস্ব সংবাদদাতা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এক প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা এ ভুলের অজুহাতে এ-ই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ-ই সিদ্ধান্তকে ‘সামান্য কারিগরী ত্রুটি’ উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রার্থী সেলিম আহমেদ।
শনিবার (৩ জানুয়ারী) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় এ ঘটনাটি ঘটে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান- দাখিলকৃত হলফনামার নির্দিষ্ট স্থানে প্রার্থীর স্বাক্ষর না থাকায় আইনানুযায়ী মনোনয়ন পত্রটি বৈধ ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সেলিম আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন- “আমার দাখিলকৃত সকল নথিপত্র এবং তথ্যাদি সঠিক ছিল। অত্যন্ত তাড়াহুড়ো এবং ভিড়ের মধ্যে দাখিল করার সময় অসাবধানতাবশত হলফনামার এক জায়গায় স্বাক্ষরটি বাদ পড়ে যায়। এটি একটি অনিচ্ছাকৃত করণিক ভুল (Clerical Error) মাত্র।”
তিনি আরও বলেন- “একজন নাগরিকের নির্বাচনে অংশগ্রহণের গণতান্ত্রিক অধিকার সামান্য একটি স্বাক্ষরের জন্য খর্ব হতে পারে না। আমি ইতিমধ্যে যথাযথভাবে স্বাক্ষরিত নতুন হলফনামা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করব। আমার বিশ্বাস, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে আমাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেবেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এ-ই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন- তথ্যে বড় কোন গড়মিল বা তথ্য গোপন না থাকলে, শুধুমাত্র স্বাক্ষরের মতো কারিগরী ত্রুটির কারণে সাধারণত উচ্চ আদালত বা নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার নজির রয়েছে।
এখন সবার দৃষ্টি নির্বাচন কমিশনের শুনানির দিকে। “আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত” সমর্থিত “বৃহত্তর সুন্নী জোটের” অন্যতম শরীক দল বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) এর প্রার্থী সেলিম আহমেদ (মহাসচিব-বিজেডি)। তিনি কি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াইয়ে ফিরতে পারবেন? তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।