নিজস্ব সংবাদদাতা: ফতুল্লার রূপায়ন টাউনে আধিপত্য বিস্তার করে জোর পূর্বক রূপায়ন টাউন জামে মসজিদের খতিবকে অপসারণকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত এম. এ. হোসাইন রাজ ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেও পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার না করায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আসামীদের গ্রেফতার ও নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপার বরাবর ভুক্তভোগীর অভিযোগ দায়ের। গতকাল শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকাল ৩টায় আসামীদের গ্রেফতার ও নিরাপত্তা চেয়ে রূপায়নবাসী ও বাদী এম. এ. হোসাইন রাজ পুলিশ সুপার বরাবর এ অভিযোগ দায়ের করেন।
হুবহুব অভিযোগ তুলে ধরা হলোঃ
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি এম. এ. হোসাইন রাজ (৩৬), পিতা সরাজ উদ্দিন আহমেদ, সাং-ভূইগড় রূপায়ন টাউন, থানা- ফতুল্লা, জেলা- নারায়ণগঞ্জ। এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করিতেছি যে, আমি স্ব-পরিবারে দীর্ঘদিন যাবৎ ফতুল্লা থানাধীন ভূইগড় রূপায়ন টাউন সোসাইটিতে ফ্ল্যাট মালিক হয়ে বসবাস করিয়া আসিতেছি। আমি রূপায়ন টাউনের একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক এবং রূপায়ন টাউন সোসাইটির প্রস্তাবিত কমিটির আহ্বায়ক। আমরা রূপায়ন টাউনবাসী বিগত ৫ আগষ্টের পর হইতে রূপায়ন টাউন এর ভিতরে বহিরাগত স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দ্বারা আদিপত্য বিস্তার, হুকুমজারী, চাঁদাবাজী, রাহাজানি এবং দখল দারিত্বের স্বীকার হয়ে আসিতেছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কতিপয় সন্ত্রাসী আমার উপর ক্ষিপ্ত হইয়া বিভিন্ন সময় আমাকে আওয়ামী ট্যাগ লাগিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি দেয় এবং ৫,০০,০০০ টাকা চাঁদা দাবি করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ইং-০৮/০২/২০২৫ ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করি এবং বিষয়টি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে অবহিত করি। উক্ত ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ইং-০১/০৩/২০২৫ সন্ধ্যা অনুমান-০৭.০০ ঘটিকার সময় রূপায়ন টাউন ২৫নং বিল্ডিংয়ে আমার অফিসে অবস্থানকালে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের নেতা (১) কাজী মাজিদুল হক, পিতা-মৃত কালা চাঁন মেম্বার এবং (২) তোফায়েল হোসেন লিটন, পিতা- মৃত আলী হোসেন এদের পক্ষে ০৩ জন আমার নিকট হইতে ১,০০,০০০ টাকা চাঁদা নিয়া যায়। এই বিষয় গোপন না রাখিলে আমাকে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়ায় আমি নিশ্চুপ থাকিতে বাধা হই। পরবর্তীতে গত ইং-২০/০৩/২০২৫ তারিখে রূপায়ণ টাউন জামে মসজিদের ভিতরে তারাবির নামাজ শেষে মাজিদের সম্মানিত খতিব সাহেবকে অপসারণের অযুহাতে উক্ত সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চাঁদার দাবীতে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া মারধর করিয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম সহ হাড় ভাঙ্গা জখম, চুরি ও ভয়ভীতি হুমকি প্রদান করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাদী হইয়া উক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় ইং-২২/০৩/২০২৫ তারিখে একটি মামলা দায়ের করি, যাহার মামলা নং- ৪১ (০৩)২৫, ধারা- ৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩৮৫/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/৩৪ পেনাল কোড। আমি বহিরাগত স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে উক্ত মামলা দায়ের করার পরও উক্ত সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ভাবে আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়া আসিতে থাকাবস্থায় গত ইং-২৪/০৩/২০২৫ তারিখ দুপুর অনুমান-০১.৪৫ ঘটিকার সময় পুনরায় রূপায়ন টাউন ২৫নং বিল্ডিংয়ে আমার অফিসে অবস্থানকালে উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের নেতা (১) কাজী মাজিদুল হক, পিতা-মৃত কালা চাঁন মেম্বার এবং (২) তোফায়েল হোসেন লিটন, পিতা মৃত আলী হোসেন’র নির্দেশে কতিপয় সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া বে-আইনী জনতাবদ্ধে অনাধিকারে আমার অফিস কক্ষের ভিতের প্রবেশ করিয়া তাহাদের পূর্বের দাবীকৃত ৫,০০,০০০ টাকা চাঁদার দাবীর পরিবর্তে ১০,০০,০০০ টাকা চাঁদা দাবী করে।
আমি বিবাদীদের দাবীকৃত চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করিলে বিবাদীরা আমাকে মারধর করার জন্য উদ্যত হয় এবং আমার অফিসের ড্রয়ারে থাকা নগদ-১,২০,০০০ টাকা চাঁদা স্বরূপ নিয়া নেয় এবং বলে যে, তাহাদের দাবীকৃত বাকী চাঁদার টাকা রাত্র ১০ ঘটিকার মধ্যে না দিলে আমাকে সহ আমার পরিবারের লোকজনকে প্রাণে শেষ করিয়া ফেলিবে নচেৎ আমাকে সহ পরিবারের লোকজনকে রূপায়ন হইতে জোড়পূর্বক বাহির করিয়া দিয়া আমার ফ্ল্যাট দখল করিয়া নিবে মর্মে হুমকি দিয়া চলিয়া যায়। এই ঘটনার পরবর্তীতে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম সাহেবকে জানালে উনি তাৎক্ষণিক টহল টীম পাঠান এবং আমাদের বয়ান লিপিবদ্ধ করে নিয়ে যান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইং-২৭/০৩/২০২৫ ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করি।
উক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ায় তাহারা একের পর এক সন্ত্রাসী কার্যক্রম, হুকুমজারী, চাঁদাবাজী, রাহাজানি এবং দখল দারিত্ব সহ আদিপত্য বিস্তার করে আসিতেছে, যাহার পরিপ্রেক্ষিতে আমি, আমার পরিবার ও রূপায়ণ টাউনবাসী সারাক্ষণই জান-মালের নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। অতএব, প্রার্থনা উল্লেখিত ঘটনা সমূহের বিবেচনায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের এবং মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার সহ ন্যায় বিচারের লক্ষ্যে কঠিন থেকে কঠিনতর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করিতে জনাবের মর্জি হয়।
অভিযোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এম. এ. হোসাইন রাজ জানান- রূপায়নে আধিপত্য বিস্তার করতে বিএনপি নামধারী মাজেদুল ও লিটন’র নির্দেশে মসজিদের খতিবকে অপসারণের চিঠি দেয় আমি প্রতিবাদ করায় আমাকেসহ কয়েকজনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। এবিষয় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করি কিন্তু আসামীরা বীরদর্পে ঘুরছে হুমকি দিচ্ছে অথচ পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। এর ফলে আসামীরা আমার অফিসে এসে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয় অফিসে ড্রয়ারে রাখা ১ লক্ষ বিশ হাজার টাকা নিয়ে নেয় এবং আরো ১০ লাখ টাকা দিতে হবে নাহলে আমার ও আমার পরিবারকে হত্যাসহ রূপায়ণ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
তাই আজ রূপায়ন টাউনবাসী ও মুসুল্লিদের নিয়ে পুলিশ সুপার মহোদয় বরাবর আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার ও আমাদের নিরাপত্তা চেয়ে অভিযোগ দায়ের করি। এসপি সাহেব আমাদের অভিযোগ আমলে নেন এবং তৎক্ষনাৎ ফতুল্লা মডেল থানার ওসি সাহেবকে ফোন করে আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করার নির্দেশ দেন এবং এবিষয় তিনি নিজে দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ ফতুল্লার রূপায়ন টাউনে আধিপত্য বিস্তার করে জোড়পূর্বক রূপায়ন টাউন জামে মসজিদের খতিব সায়েখ জামাল উদ্দিন (৫০) কে অব্যাহতি ও লাহ্নিত করাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলায় খতিবসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- খতিব সায়েখ জামাল উদ্দিন (৫০), এম. এ. হোসাইন রাজ (৩৬) ও আঃ হান্নান (৪০)।
এ ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৭/৮ জনকে অভিযুক্ত করে শুক্রবার সকালে ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন হামলায় আহত এম. এ. হোসাইন রাজ। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০ টার দিকে রূপায়ন টাউনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।