তপু রায়হান রাব্বি ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধিঃ হাড়কাঁপানো তীব্র শীত উপেক্ষা করে বাংলাদেশ দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায়ধীন কম্বল বিতরণে গত ডিসেম্বরের শুরু থেকে দিনে ও রাতে শীর্তাত অসহায় মানুষের খোঁজে বেরিয়ে পড়লেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম সীমা। মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ময়মনসিংহের ফুলপুরে মাদ্রাসার কোমলমতি শিশু, হাসপাতালে রোগী ও ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন উপজেলা প্রশাসন। তার পাশাপাশি তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থা সহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমেও বিভিন্ন এলাকা থেকে খোঁজখবর নেন শীর্তাত মানুষের।
পরে তার তালিকা তৈরি করে কম্বল পৌঁছে দেয় তাদের হাতে। তিনি নিজেও অফিসের ফাঁকে দিনে ও গভীর রাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিকুল ইসলাম, পিআইও বেগম শাহীন, সমাজসেবা অফিসার শিহাব উদ্দিন খান সহ উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে ফুলপুর পৌরসভা সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজারো অসহায়, দু:স্থ ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র দেন। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, রাস্তার ধারে অবস্থানরত ছিন্নমূল মানুষ, ভ্যান ও রিক্সা চালক, বৃদ্ধ, মানসিক ভারসাম্যহীন ও মাদ্রাসায় থাকা কোমলমতি শিশুদের খোঁজ-খবর নেন এবং তাদের হাতে তুলে দেন এ উষ্ণ কম্বল।
প্রচণ্ড শীতে যখন ঘরহীন মানুষের রাত কাটে চরম কষ্টে, ঠিক তখনই প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা নিজে মাঠে নেমে তাদের পাশে দাঁড়ান। শুধু কম্বল বিতরণেই থেমে থাকেননি জনবান্ধব কন্যা, ইউএনও সাদিয়া ইসলাম সীমা, তিনি প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলে তাদের পারিবারিক অবস্থা, জীবনযাপন ও প্রয়োজনের কথা শোনেন। ইউএনও সাদিয়া ইসলাম সীমা সংবাদকর্মী তপু রায়হান রাব্বিকে বলেন, প্রচণ্ড শীতে যেন একজন মানুষও কষ্ট না পায়, এই ভাবনা থেকেই গভীর রাতে বের হয়েছি।
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সরকারের সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা সর্বোচ্চসংখ্যক শীতার্ত মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই। তিনি আরও জানান, শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী আগামীতেও এই কম্বল বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের এই সময়োচিত ও মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, গভীর রাতে মাঠপর্যায়ে ইউএনও’র এমন উপস্থিতি শীতার্ত মানুষের জন্য শুধু সহায়তাই নয়,ভরসা ও আশার আলো হয়ে উঠেছে।