আসিফ জামান,প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি বহু আগে ক্রিকেট খেলতাম, ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের মেম্বার ছিলাম। এখন ক্রিকেট খেলি না রাজনীতি করি। তো এই ক্রিকেটের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক রাজনীতি স্পষ্ট জড়িত আছে। আমাদের দেশের সম্মান আছে। আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে। আমরা মনে করি এটা আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমি মনে করি ক্রিকেট বোর্ডের যে সিদ্ধান্ত সে সিদ্ধান্ত সঙ্গে আমরা একমত কিন্তু একই সঙ্গে আবার এটাও মনে করি ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে সমাধান করাই হচ্ছে বেটার।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা খুব উদ্বিগ্ন, আমি মনে করি সরকারের এটা ব্যর্থতা। এখন পর্যন্ত তারা অস্ত্র উদ্ধারগুলো করতে পারেনি এবং এখন পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিস্থিতি সে রকম একটা উন্নত হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। তবে আমি আশাবাদী নির্বাচন চলাকালীন সময়ে সেটা ইমপ্রুভ করবে আরও। ভালো অবস্থায় আসবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বড় দুটি দল আওয়ামী লীগের ভোট টানতে চেষ্টা করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বড় দু’টি দল বলতে কোন দু’টি দলকে বুঝাচ্ছেন? আমরা তো যতদিন দেখে আসছি বড় দুইটি দল বলতে আওয়ামী লীগ, যেটা এখন নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। আমি মনে করি সবার বেলা প্রযোজ্য না। আমরা জনগণের কাজে যাচ্ছি, পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল বিএনপি। এদেশে যা কিছু ভালো সবকিছুই কিন্তু বিএনপির অর্জন এবং যে সংস্কার একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আসা প্রেসিডেন্সি ফর্ম থেকে পার্লামেন্টের ফর্মে আসা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা সবই বিএনপি করেছে। অতীতেও করেছে।
বিএনপি ৩১ দফার মধ্য দিয়ে আরও নিশ্চিত করেছে এবং এখন যে সংস্কারগুলো সংস্কার কমিশনার মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে তার সবই বিএনপি’র কমিশনের মধ্যে আছে, একটা প্রস্তাবের মধ্যে আছে। বিএনপি অতীতে এককভাবে সরকার চালিয়েছে, সরকারে ছিল এবং সবচেয়ে ভালো কাজগুলো বিএনপি করতে সক্ষম হয়েছে।
দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি অবশ্যই উত্তরাঞ্চলে আসবেন। উত্তরাঞ্চল তার পিতৃভূমি-বগুড়া, দিনাজপুর তার নানীর বাড়ি। রংপুরে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। পাশাপাশি এই অঞ্চলের অন্যান্য শহিদদের কবরেও তিনি শ্রদ্ধা জানাবেন।
নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে মহাসচিব বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালোই মনে হচ্ছে। এ বছরের পরিবার ভালো মনে হবে যখন শুরু হবে প্রচারণা। তার আগেই বোঝা যাবে না। এখন সবাই যে যার সাংগঠনিক ব্যাপারগুলো গোছাচ্ছে। মনোনয়নের ব্যাপারগুলো গুছাচ্ছে। নির্বাচনের প্রকৃত অবস্থা আপনি বুঝতে পারবেন প্রচার শুরু হওয়ার পরে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোন ভোট প্রচারে বিএনপির দায়িত্ব না। জনগণের দায়িত্ব ভোট দেওয়া। গণভোটে যদি হ্যা বা না আছে। জনগণ যা করবে তাই তাই হবে। যারা সব সময় ফ্যাসিস্টদের ভয়ে থাকে, নিজেরা কোন কাজ করে না। বিদেশে থেকে বড় বড় কথা বলে তাদের কাছে এগুলা মনে হয়। আমাদের কাছে বলে মনে হয় না। ফ্যাসিস্টকে আমরা তাড়াতেও জানি, মারতেও জানি, মার খেতেও জানি।
তিস্তা ইস্যুতে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের কমিটমেন্ট আছে, আমরা তিস্তা, পদ্মা এবং অভিন্ন নদী যতগুলো আছে সবগুলোর ব্যাপারে আমরা ভারতের সঙ্গে এঙ্গেস্ট করব এবং তাদের কাছ থেকে পানি হিস্যা আদায় করব। একটা দেশ আরেকটা দেশের সঙ্গে যে মিউচুয়াল এক্সপেক্ট, পারস্পারিক যে সম্মান সব রকমের আমার দাবি আদায় করার চেষ্টা করব। আমরা যদি তাদের সাথে সঠিকভাবে ডিপ্লোমেটিক আচরণ করতে পারি তাহলে তাদেরও বিরুপ আচরণ কমে যাবে।