বন্দর প্রতিনিধি: বন্দরে একটি বিদেশী রিভালবার ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ ২২টি মামলার আসামী শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজনসহ ২ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১ সিপিএসসি আভিযানিক দল। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর এলাকার কানা মতিন মিয়ার ছেলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সুজন (২৯) ও একই এলাকার মৃত আলী মিয়ার ছেলে অপর সন্ত্রাসী রুবেল (৩৫)। এ ব্যাপারে র্যাব-১১ বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করার প্রস্তুুতি চলছে। গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারী) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় বন্দর উপজেলার মদনপুর চাঁনপুরস্থ ধৃত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজনের বসত বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত অস্ত্র উদ্ধারসহ এদেরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। র্যাব-১১ তথ্য সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন ও তার বাহিনী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড মাধ্যমে আতংকের জনপথ তৈরী করে রেখেছে। সুজনের বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি, জমিদখল ও আধিপত্য বিস্তারসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মদনপুর ও চাঁনপুরসহ এর আশেপাশের এলাকায় যেকোনো নতুন স্থাপনা নির্মাণের সময় তার বাহিনীকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং মারধরের ঘটনা ছিল নিয়মিত। শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে তার বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ আদায় করার ও অভিযোগ রয়েছে। সুজন তার বাহিনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পৈতৃক জমি ও ভিটেমাটি জোরপূর্বক দখল করে। ভুক্তভোগীদের ভয় দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি লিখে নেওয়া অথবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে উচ্ছেদ করার ঘটনায় সে এলাকায় কুখ্যাত। আধিপত্য বজায় রাখতে সুজন প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে আসছিল। সুজন বাহিনীর ছত্রছায়ায় মদনপুর ও বন্দর এলাকায় মাদকের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠে। তার সরাসরি তত্ত্বাবধান এলাকায় গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল কেনাবেচা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন ও তার সহযোগীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আনতে র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। এর ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় র্যাব-১১, সিপিএসসি এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানার চাঁনপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১টি বিদেশী রিভালবার ও ০৭ রাউন্ড গুলিসহ বন্দরে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন ও তার সহযোগী রুবেলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। ধৃত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সুজনের বিরুদ্ধে বন্দর থানাসহ বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, ডাকাতি, খুন সহ অন্তত ২২ টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।