বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ- পটুয়াখালীর বাউফলে এইচএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ায় এক শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করতে রাজি না হওয়ায় শিক্ষকদের হুমকি, অসদাচরণ ও মব সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে এক যুব অধিকার পরিষদের নেতার বিরুদ্ধে। ওই নেতার নাম মো. হাসান মাহমুদ। সে বাউফল উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। বুধবার (১এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের নতুন ভবনের হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়াতে হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে কলেজ অধ্যক্ষ এনায়েত হোসেন বলেন,‘ গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে মো. সাব্বির নামে ২০২২-২৩ শিক্ষা বর্ষের একজন শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সুপারিশ নিয়ে আসেন যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় হাসান মাহমুদ। ওই শিক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি এবং সে ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করার পর ২০২৫ সালের পরীক্ষায়ও অংশ নেয়নি। যে কারণে আমরা তার ফরম পূরণ করতে রাজি হয়নি। এতে করে ওই যুব অধিকার পরিষদের নেতা ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে অসদাচরণ ও মব সৃষ্টি করেন। কমিটির কক্ষে বসে কোনো রকম অনুমতি না নিয়ে ফেসবুক লাইভ করেন এবং ওই লাইভে ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার হচ্ছে বলে মিথ্যা প্রচার করেন। কলেজ অধ্যক্ষ আরও বলেন, ফেসবুক লাইভে দাবি করে ফরম পূরণের জন্য ৫ হাজার টাকা করে নেওয়ার যে দাবি করা হয়েছে তা সর্ম্পূণ মিথ্যা। সরকার নির্ধারিত ফরম পূরণের ফি এবং দুই বছরের বেতন সহ ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও বেতন, টিউশন ফি নিয়ে আরও বেশি টাকা হয়। মানবিক বিবেচনায় ৫ হাজার টাকার কমেও ফরম পূরণ করে থাকি। এ ঘটনায় কলেজের মান সম্মানহানি, মিথ্যা তথ্য জড়ানো ও শিক্ষকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ওই যুব অধিকার পরিষদের নেতার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ। এদিকে, একই দিন বেলা ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলন করে ফরম পূরণের অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাসান মাহমুদ। তিনি দাবি করেন- নির্বাচনী পরীক্ষা অংশ না নেওয়ার পরেও অনেকের ফরম পূরণ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় সাব্বিরের ফরম পূরণ করেছেনা কলেজ কর্তৃপক্ষ। বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি সালেহ আহমেদ বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।