বাউফল প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী–২ (বাউফল) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বাংলাবাজারস্থ উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। ঘোষিত ইশতেহারে বাউফলের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ৮ দফা অঙ্গীকার এবং ইউনিয়নভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে রয়েছে— ৬০ দিনের মধ্যে মাদক নির্মূল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠন এবং ৯০ দিনের মধ্যে সকল প্রকার দুর্নীতি নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। বগা সেতু বাস্তবায়ন, কালাইয়া–পটুয়াখালী–বগা–বাহেশ্বর সড়ক টু-লেনে উন্নীতকরণ, নদী তীরবর্তী এলাকায় স্থায়ী সিসি ব্লক ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদী ভাঙন প্রতিরোধের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এছাড়া বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করে পর্যায়ক্রমে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, ক্রীড়ামোদী যুবসমাজের জন্য একটি আধুনিক মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, দখলকৃত সকল খাল দখলমুক্তকরণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে নৌ চলাচলের সুবিধার্থে খাল খননের উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়।
বেকারত্ব দূরীকরণে স্থানীয় শিল্পকারখানা স্থাপন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কাঁচা ও ভাঙা সড়ক সংস্কার, কালিশুরী অঞ্চলসহ উত্তর বাউফলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি ও ফায়ার স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নাজিরপুর, কেশবপুর ও ধুলিয়া নদী ভাঙন কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পুনর্বাসন, ডিজিটাল ট্যাক্স ব্যবস্থা, নাগরিক সেবা অ্যাপ ও অনলাইন অভিযোগ গ্রহণের মাধ্যমে বাউফল পৌরসভাকে আধুনিক ও স্মার্ট শহরে রূপান্তরের কথাও তুলে ধরা হয়। গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য সাংবাদিক তহবিল গঠন, চিকিৎসা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য শ্মশানঘাট নির্মাণ, মন্দির সংস্কার ও স্থাপন, ‘স্বাবলম্বী নারী—সমৃদ্ধ বাউফল’ স্লোগানে নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ পরিকল্পনা, জেলে সম্প্রদায়ের জীবিকা ও নিরাপত্তা, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং বাউফলকেন্দ্রিক ট্যুরিজম উন্নয়নে পৃথক কর্মপরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়। সবশেষে ‘শাসন নয়, সেবা’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থব্যয় জনগণের সামনে প্রকাশ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
ইশতেহার ঘোষণাকালে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা সহকারী সেক্রেটারি এবিএম সাইফুল্লাহ, বাউফল উপজেলা আমির মাওলানা মো. ইসহাক মিয়া, খিলাফত মজলিসের প্রতিনিধি আইউব বিন মুসা, এবি পার্টির অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল গনি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি, বাউফলের সাতজন শহীদ পরিবারের সদস্য, ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দসহ জেলা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।