বাউফল, প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর বাউফলের সাবেক বিএনপি নেতা জায়েদ মাহমুদের এক কর্মকাণ্ড ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের সন্তান সাইফ মাহমুদ (১৬) ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাতে তুলে দেন। জানা গেছে, জায়েদ মাহমুদ বাউফল সদর ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বাউফল উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শাজাহান মিয়ার সন্তান। দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি সম্প্রতি দলটি ত্যাগ করেন। পরে জামায়াতে ইসলামী নেতা ও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের হাত ধরে তিনি জামায়াতে যোগদান করেন।
দলীয় সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাউফল উপজেলা ছাত্রশিবিরের কার্যালয়ে বাউফল উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমির ইসহাক মাওলানার উপস্থিতি জায়েদ মাহমুদ তার সন্তানকে বাউফল পৌর ছাত্র শিবিরের সভাপতি নাহিদ সহ সংগঠনটির দায়িত্বশীলদের কাছে তুলে দেন। ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় বিএনপির একাংশ এ ঘটনাকে রাজনৈতিক আদর্শ পরিবর্তনের প্রকাশ্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, জামায়াত ও ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্টরা এটিকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম বলে মন্তব্য করছেন। এ বিষয়ে সাবেক বিএনপি নেতা জায়েদ মাহমুদ বলেন,আজ আমি আমার সন্তানকে বাউফল পৌর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সোপর্দ করে দিয়ে গেলাম। এই পথের জিহাদে আমি জয়ী হব কিনা, তা আমি জানি না আল্লাহই ভালো জানেন।
তবে আমি বিশ্বাস করি, আমি যদি এই পথে নাও থাকি, ইনশাআল্লাহ আমার সন্তান এই আদর্শ ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে। এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি লিমন হোসেন বলেন, একজন বাবা তার সন্তানকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আদর্শিক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের কাছে নিয়ে এসেছেন। তবে এটি তাৎক্ষণিক কোনো পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব বা সদস্যপদ নয়। বর্তমানে সে সমর্থক পর্যায়ে রয়েছে।ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী, সমর্থক পর্যায়ে নিয়মিত রিপোর্ট রাখতে হয়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হয় এবং কোরআন তিলাওয়াতসহ ইসলামী অনুশীলনে অংশ নিতে হয়। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ধাপে ধাপে তাকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।