সাজ্জাদ আহমেদ মাসুদ, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর গলাচিপা রাবনাবাদ নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে ডাকুয়া ইউনিয়নের মূল সড়কসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে তিন গ্রাম। প্রতিনিয়ত ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন কাটায় ডাকুয়া, তেঁতুলতলা ও হোগলবুনিয়া এ তিন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। এখানকার কৃষিজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ দীর্ঘদিন ধরে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। ফলে সড়কটির বর্তমান ঝুঁকিপ‚র্ণ অবস্থা তাদের জন্য চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিকাদারের গাফলতির কারণে সড়কের কাজে ধীরগতি বলে মন্তব্য করেন উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার না হওয়াএবং নদীভাঙনের তীব্রতার কারণে সড়কটি এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত তিনটি গ্রাম বিলীনের ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এবং জোয়ারের পানির চাপে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ অনেক মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত ও ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে এবং কিছু অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের কারণে সড়কের প্রস্থ কমে গিয়ে যান চলাচল ঝুঁকিপ‚র্ণ হয়ে পড়েছে। রাবনাবাদ নদীর তীব্র ভাঙ্গনে অনেক কৃষিজমি, বাড়ি-ঘর ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীগর্ভে বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে প্রয়াত সাংবাদিক নেতা আলতাফ মাহমুদের কবরস্থান, ডাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, তেতুলতলা বাজার, মসজিদ, মন্দির, জমিদারবাড়ি, স্কুলসহ নানা স্থাপনা।
তেতুলতলা গ্রামের বাসিন্দা সৌরভ রায় বলেন, ‘এই সড়কটি আমাদের চলাচলের একটি প্রধান সড়ক। অনেক বছর ধরে আমরা এর মেরামতের অপেক্ষায় আছি। সড়কের অবস্থা এতটা খারাপ হয়ে যাওয়ায় আমাদের দৈনন্দিন যাতায়াতে অনেক ঝুঁকিপ‚র্র্ণ পরিস্থিতি ও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। মেরামতের কাজ শুরু হওয়ার কথা শুনলেও এখনও কোনো কাজ শুরু হয়নি।’
স্থানীয় ফারুক মিয়া বলেন, ‘এই সড়কের সঙ্গে ডাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি গ্রাম সংযুক্ত রয়েছে। সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সড়কের সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানসহ গ্রামগুলোও বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। দ্রæত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা অনুরোধ জানাই।’ তারা দাবি করেন, অতি দ্রæত প্রতিরোধম‚লক ব্যবস্থা গ্রহণএবং সড়কের মেরামতের কাজ না করা হলে শুধু সড়কই নয়, বরং সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা কয়েকটি গ্রামও ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিদিনের চলাচলের জন্য এই সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্র্ণ, তাই অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে।
এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এই সড়কের টেন্ডার গত মার্চ মাসে অনুমোদন হয়েছে। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি। ঠিকাদার জ্বালানি সংকটের কথা বলে বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছে। ঠিকাদারকে ফোন করলে কাজ শুরু করবে কি করবেনা তার ঠিক ঠিকানা নেই অথচ এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্র্ণ একটিসড়ক।’