নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্সে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে। এতে অ্যাম্বুলেন্স চালকসহ দুজন দগ্ধ হয়েছেন। আড়াই বছরের এক অসুস্থ শিশুকে ঢাকায় স্থানান্তরের প্রস্তুতির সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রাত আটটার দিকে একটি বেসরকারি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্স রোগী নিয়ে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। চালক ৩০ বছর বয়সী বিজয় ইঞ্জিন চালু করতেই স্পার্ক থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে জমে থাকা গ্যাসের কারণে আগুন ধরে যায়। আগুনের শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে চালক বিজয় এবং রোগীর এক স্বজন, ৫০ বছর বয়সী রোজিনা বেগম, দগ্ধ হন।
দগ্ধ রোজিনার বোন ফরিদা বেগম জানান, তাঁর আড়াই বছরের নাতি আয়ান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শীতলক্ষ্যা নদী পেরিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আয়ানকে ঢাকার বিশেষায়িত একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছিল। ফরিদা বলেন, “অ্যাম্বুলেন্সে ওঠার আগেই হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে। প্রচন্ড তাপে আমরা সবাই ছোটাছুটি করে পালাই। কিন্তু কাছাকাছি থাকায় রোজিনার পা ঝলসে গেছে।” আগুনের খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিনের নেতৃত্বে মন্ডলপাড়া স্টেশনের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভায়।
আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই দগ্ধ চালক বিজয়কে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। দগ্ধ রোজিনা নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে, আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পুরো হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। হাসপাতালের ভেতরে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে আসেন। গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি শারমিন আক্তার বলেন, “ভয়ে আমরা তাড়াহুড়া করে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসি। বেরিয়ে দেখি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন জ্বলছে। আতঙ্কে আমরা রাস্তায় অবস্থান নেই।” এই ঘটনায় হাসপাতালে সাময়িক সময়ের জন্য অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।