রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা এলাকার খরবোনা নদীর ধার বসতিতে এক ভ্যান চালকের বাড়িতে ভয়াবহ হামলা, লুটপাট ও অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
র্যাবের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মামলার আসামি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. সৈকত পারভেজ জামিনে মুক্তি পেয়েই এই তাণ্ডব চালিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন।
৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) রাজশাহী নগরীর অনুরাগ কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ভ্যান চালক মো. মুস্তাকিন জানান, গত রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান সৈকত পারভেজ। জেল থেকে বেরিয়েই তিনি তার সহযোগী মো. আলীসহ প্রায় ৩৫-৪০ জন অস্ত্রধারী নিয়ে এলাকায় মহড়া দেন। মুস্তাকিনের ভাই আলামিন আগে তাদের সাথে চলাফেরা করলেও বর্তমানে সৎ পথে মিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাকে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়াতে চাপ দেন সৈকত ও আলী। এতে রাজি না হওয়ায় এবং দাবিকৃত ১০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় এই হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগীর লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যায় দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সৈকত বাহিনী মুস্তাকিনের বাড়িতে হামলা চালায়। প্রধান ফটক কুপিয়ে ভেতরে ঢুকতে না পেরে দেয়াল টপকে তারা ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা বাড়িতে থাকা একটি সুজুকি জিকসার মোটরসাইকেল কুপিয়ে তছনছ করে।
সবচেয়ে অমানবিক বিষয় হলো, সৈকতের নির্দেশে তার সহযোগী আলী মুস্তাকিনের ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শারমীনকে লাথি ও ঘুষি মেরে আহত করে। পরে আলমারি ভেঙে বিয়ের দেড় ভরি স্বর্ণালংকার (মূল্য প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা), একটি ৩২ ইঞ্চি স্মার্ট টেলিভিশন এবং ঘর থেকে ৪০ জোড়া কবুতর লুট করে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, দিবাগত রাত ৩টার দিকে মুস্তাকিনের পিতার গোয়াইল ঘর থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ২৬ হাজার টাকা মূল্যের দুটি ছাগলও ছিনিয়ে নেয় তারা।
ভুক্তভোগী মুস্তাকিন অভিযোগ করেন, হামলার সময় তিনি ৯৯৯-এ দুবার ফোন করেন। ৯৯৯ থেকে বোয়ালিয়া থানার ডিউটি অফিসারের সাথে কথা বলতে বলা হয়। তিনি আটবার ডিউটি অফিসারকে ফোন দিলেও পুলিশ ফোন রিসিভ করেনি।
বোসপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ঘটনাস্থল মাত্র ৩-৪ মিনিটের পথ হলেও পুলিশ আসতে সময় নেয় ৪০ মিনিট। ততক্ষণে হামলাকারীরা সব লুট করে পালিয়ে যায়।
হামলায় আহত অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শারমীনকে সোমবার সকালে গোপনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে মুস্তাকিন ও তার ভাই আলামিনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।