রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্যপদ ও সাধারণ সদস্যপদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম।
শনিবার (৪ এপ্রিল) এক লিখিত পত্রের মাধ্যমে তাঁরা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
পত্রে রেজাউল করিম উল্লেখ করেন, গত ৩০ মার্চ রাজশাহী প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছিল, তিনি একটি মানববন্ধন থেকে প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে ‘সম্মানহানিকর’ বক্তব্য দিয়েছেন। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
রেজাউল করিম বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে মানববন্ধন করা ও দাবি উপস্থাপন করা তাঁর সাংবিধানিক ও নৈতিক অধিকার। তাঁর ওপর সংঘটিত হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত ওই মানববন্ধনে কেবল ন্যায়বিচার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছিল। সেখানে প্রেসক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি বলে তিনি পত্রে উল্লেখ করেন।
চিঠিতে রেজাউল করিম প্রশ্ন তোলেন, তাঁর ওপর হামলার ঘটনায় প্রেসক্লাবের অবস্থান কী এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না। একই সঙ্গে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক দাপ্তরিক পদক্ষেপ না নেওয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় বহাল রাখাকে গঠনতন্ত্রবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পত্রে অভিযোগ করেন, প্রেসক্লাবের বর্তমান কার্যক্রমে গঠনতন্ত্রের যথাযথ অনুসরণ নেই এবং একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নীতিগত অবস্থান থেকে তিনি কার্যনির্বাহী সদস্য ও সাধারণ সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পত্র প্রাপ্তির পর থেকে রাজশাহী প্রেসক্লাবের সঙ্গে তাঁর কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক থাকবে না বলেও তিনি জানান।
যোগাযোগ করা হলে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, “আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে আমার ওপর সন্ত্রাসী হামলার বিচার দাবি করেছি। সেখানে কোনোভাবেই প্রেসক্লাবের সম্মানহানিকর বক্তব্য দেইনি। নোটিশটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও একপাক্ষিক বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার ওপর হামলার ঘটনায় ন্যায়বিচার চাওয়াই যদি অপরাধ হয়, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। বরং প্রশ্ন হচ্ছে—সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না। তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো আমাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, মো. রেজাউল করিম বর্তমানে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সঙ্গে একই সিদ্ধান্তে একাত্মতা প্রকাশ করে পদত্যাগ করেছেন সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলামও।