মোহাম্মদ আবুল হাশেম বান্দরবান প্রতিনিধি: ন্দরবান জেলার লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জড়িয়ে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও’কে পুঁজি করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র লামা উপজেলা প্রশাসনকে বিতর্কিত করার জন্য একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি চক্র সুবিধা না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সরকারী একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য ও ভূক্তভোগীদের দেওয়া বক্তব্য থেকে জানাগেছে, এ চক্রটি চাঁদাবাজী, সাধারণ মানুষদেরকে হয়রানী, সুযোগ নিয়ে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়, ফাঁদে ফেলে ব্যক্তিগত ভাবে লাভবান হওয়া সহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধের সাথে জড়িত।
সম্প্রতি মোঃ মামুন নামক এক ব্যক্তির নিজেকে ফাইতং ইউনিয়নের রাইম্যাখোলা ইউএমবি ইটভাটার মালিক দাবী করে দেওয়া একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। এই ভিডিওতে পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, কক্সবাজার পুলিশ সুপার, লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ কয়েকজন সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দেওয়া হয়।এ ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই মোঃ মামুন ফেইসবুকে আরেকটি ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে জানান, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। একটি ঘরোয়া পরিবেশে কয়েকজন সাংবাদিক নিয়ে তিনি গল্প করছিলেন। তার এই গল্পটিকে এ-আই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিকৃত ভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মোঃ মামুন দাবী করেন, তিনি চরম ভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাকে সামাজিক ভাবে ও প্রশাসনিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য একটি চক্র এই কাজটি করেছেন। তিনি আরও জানান, ইউএমবি ইটভাটার মালিক তিনি নন। লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন ও অফিস সহায়ক মো. সোহেল’কে কখনো কোন বিষয়ে তিনি টাকা প্রদান করেননি। একটি সূ্ত্র জানায়, মো. মঈন উদ্দিন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদানের পর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পাহাড় কাটা, পরিবেশের বারোটা বাজিয়ে অবৈধ ইটভাটা স্থাপনেসহ জনস্বার্থে নানা অভিযান পরিচালনা করেন। পাশাপাশি জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদান করেন অভিযুক্তদের। এসব অভিযানে তিন কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়। এছাড়া ৭ টি অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এতে একটি চক্র অবৈধ কাজে লিপ্তদের সাথে সিন্ডিকেট করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। ব্যার্থ হয়ে জনৈক ব্যক্তিকে ইটভাটা মালিক সাজিয়ে “এ আই’ এর মাধ্যমে বক্তব্য বিকৃত করে দাপ্তরিকভাবে নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিনসহ অফিস সহায়ক সোহেলকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মূলত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও হয়রানি করছে। যা মোটেও কাম্য নয়। নির্বাহী অফিসারের এমন সাহসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়ে সচেতন মহল বলেন, কাজ করলে অনেক বাধা আসবে, ষড়যন্ত্র হবে। এতে থেমে গেলে চলবেনা।এগিয়ে যেতে হবে। অফিস সহকারী সোহেল জানিয়েছেন, সুবিধা না পেয়ে পরিকল্পিত অপপ্রচার করে আমাকে ও ইউএনও স্যারকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে একটি চক্র। বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং- ১৩১৯১/২২ এর তথ্যমতে ইউএমবি ইটভাটার মালিক মকছুদ আহাম্মদ।
ইটভাটার মালিক সমিতির সভাপতি মোক্তার আহাম্মদ জানান, প্রশাসনের সাথে ইটভাটার মালিকদের একটি সংঘাত সৃষ্টির জন্য একটি চক্র কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানায়, লামা উপজেলা ও বান্দরবান জেলা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তার সাথে ইটভাটা মালিকদের অনৈতিক সম্পর্ক নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। এ দিকে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন জানান, কোন ইটভাটা মালিকের সাথে তার কোন অনৈতিক লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না। তিনি আরো জানান, ইটভাটা মালিকদের সাথে অনৈতিক লেনদেন হলেত ইটভাটা মালিকদের একের পর এক জরিমানা, কারাদণ্ড ও ইটভাটা ধংস করা হতনা। অবৈধ ইটভাটার বন্ধে মোবাইল কোর্ট সহ প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন,যতই ষড়যন্ত্র করা হউক না কেন, জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ সকল অবৈধ কাজ বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে