হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, স্যাংকচুয়ারি সিটি হিসেবে পরিচিত শহরগুলো আর কোনো ফেডারেল অর্থায়ন পাবে না। ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে কোন কোন খাতে বা ঠিক কোন শহরগুলো কীভাবে প্রভাবিত হবে- সে বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই।খবর আইবিএননিউজ । সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “যদি কোনো স্টেট স্যাংকচুয়ারি সিটি রাখতে চায়, তাহলে তার খরচ তাদেরই বহন করতে হবে।” দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনেও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। এর আগে এক বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, স্যাংকচুয়ারি শহরগুলো কার্যত ‘অপরাধীদের আশ্রয়স্থল’ হয়ে উঠেছে।
তার ভাষায়, “এগুলো অপরাধীদের রক্ষা করছে। যাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া দরকার, তাদেরই তারা আড়াল দিচ্ছে।” তাই এসব শহরে ফেডারেল অর্থ দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ব্যবস্থাপনা ও বাজেট অফিস বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে যেসব স্টেটে অতীতে তহবিল ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর অর্থ ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বিচারকরা ফেডারেল তহবিল কেটে নেওয়াকে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে বরাবরই সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। তবুও ট্রাম্প স্থায়ীভাবে স্যাংকচুয়ারি সিটি ব্যবস্থা বন্ধে আইন প্রণয়নের জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো শহরের নাম বলেননি, মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে বর্তমানে ১৮টি স্যাংকচুয়ারি শহরের তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, ফিলাডেলফিয়া ও সিয়াটলের নাম উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই অর্থায়ন বন্ধ হলে আবাসন, জনস্বাস্থ্য, জরুরি ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা খাত সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অভিবাসী ও শরণার্থী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, এমন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কমিউনিটিতে জননিরাপত্তা দুর্বল করবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। এদিকে স্যাংকচুয়ারি শহরগুলোকে ঘিরে এই ফেডারেল অবস্থান নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও কেন্দ্রÑস্টেট সম্পর্ক নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক উসকে দিচ্ছে।