স্টাফ রিপোর্টার: হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা ও নিম্ন আদালতের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগরে শিক্ষক পরিবারের সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করার পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দিয়ে শিক্ষক পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ভূক্তভোগী দালালবাজার ডিগ্রি কলেজের সাবেক প্রভাষক মো: খোকন আলম ও দক্ষিন চররুহিতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দিল আফরোজের শিক্ষক পরিবার জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারসহ সেনা ক্যাম্পের ইনচার্জের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা যায়, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাঞ্চানগর মৌজার আর.এস ৭৯৮৩ নং খতিয়ানভূক্ত ১২৭৩০ দাগের ৫ শতক ভূমির মালিক বাঞ্চানগর গ্রামের মো: খোকন আলমের সাথে বিক্রির উদ্দেশ্যে বায়না চুক্তি হয় মতলবপুর গ্রামের মো: ফরিদ হোসেনের সাথে। ১৬/৭/২০২৪ তারিখে সাব-রেজিস্টার কার্যালয়ে সম্পাদিত ৪৪০৫ নং বায়নাপত্রের আলোকে সম্পত্তির দাম ৪৫ লক্ষ টাকার মধ্যে ১০ লক্ষ টাকা বায়না হিসেবে দেওয়া হয়।
বাকী ৩৫ লক্ষ টাকা ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধের শর্ত উল্লেখ করা হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ান্তে টাকা পরিশোধে মো: ফরিদ হোসেনকে তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি টাকা পরিশোধ ও জমি রেজিস্ট্রি না নেওয়ায় উকিল নোটিশ প্রদান করেন মো: খোকন আলম। উকিল নোটিশের জবাবে সম্পত্তি বুঝিয়ে না দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও খোকন আলমের ভাই হারুনুর রশিদ খুঁটি দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করার কথা জানিয়েছেন। সরেজমিনে গেলে জানা যায়, খোকন আলমদের পারিবারিক সম্পত্তি কেন্দ্রীক ৯ শতক জমির জাল দলিল সৃজন করার অভিযোগে মামলা চলমান থাকা জনৈক আনোয়ার হোসেনের আত্মীয় ফরিদ হোসেনদের উপর আনোয়ার হোসেনের প্রভাব ৫ আগষ্ট পট পরিবর্তন পরবর্তী বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্পত্তি রেজিস্ট্রি কেন্দ্রীক জটিলতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া মসজিদ কমিটির অনুদান কেন্দ্রীক সভাপতির সাথে সহ-সভাপতি হিসেবে সংসদ সদস্যের সাথে একটি ছবিকে পুঁজি করে মো: খোকন আলমকে রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া হয় ও তা ফেইসবুকে প্রচারও করা হয়। ছবি প্রচার ও রাজনৈতিক ট্যাগ সম্পত্তি জবরদখলের হীন উদ্দেশ্য- একই সূত্রে গাঁথা বলে ভূক্তভোগী মো: খোকন আলম জানিয়েছেন।
এদিকে সম্পত্তি রেজিস্ট্রির সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ না করে আত্মীয় আনোয়ার হোসেনের জাল দলিলকে পুঁজি করে ফরিদ হোসেনের স্বজনরা সম্পত্তি বিরোধীয় দাবী করে দখলের পায়তারা করায় মো: খোকন আলমের ২৪/০৩/২০২৫ তারিখের মিছ ২১১/২০২৫ মূলে ১৪৪ ধারা জারি করে বিজ্ঞ আদালত। অন্যদিকে এই সম্পত্তির উপর হাইকোর্টের ২৩/১০/২০২৪ তারিখের একটি স্থিতাবস্থার আদেশ রয়েছে। যা সিভিল রিভিশন ৫৪২/২০২৪ সূত্রে জানা যায়। হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা ও নিম্ন আদালতের ১৪৪ ধারার প্রেক্ষিতে মো: ফরিদ হোসেন সম্পত্তিতে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় মামলা দিয়ে হয়রানির সুযোগ খু্জতে থাকে ফরিদের স্বজনরা। তারই আলোকে স্পর্শকাতর বিষয় মহিলার হাত ভাঙ্গার ইস্যু সাজিয়ে সাজানো মামলা দায়ের করে খোকন আলমদের এলাকা ছাড়ার কৌশল নেয় বলে খোকন আলমের স্ত্রী সহকারী শিক্ষক দিল আফরোজ আক্তার জানান।
দিল আফরোজ আক্তার আরো বলেন, সেনাবাহিনীর শান্তিপ্রিয় সদস্যদের ভুল বুঝিয়ে আমার বাসায় ও নালিশীয় সম্পত্তিতে পাঠানো হয়েছে। আবার আমার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি সম্পত্তি জবরদখল হওয়ার আশংকা করে সেনা ক্যাম্পেও আবেদন করেছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপসহ ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করছেন এই শিক্ষক পরিবার। যদিও সর্বশেষ মামলাকে শিক্ষক দিল আফরোজ আক্তার সাজানো বলে দাবী করায় মামলার বাদী রুবিনা ইয়াসমিনের (মো: ফরিদ হোসেনের স্ত্রী) বক্তব্যের জন্য ফোন দেওয়া হলেও তিনি মোবাইলে কোন বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।