মোহাম্মদ আবুল হাশেম বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার আলী আকবারের বিরুদ্ধে অভিনব কৌশলে একের পর এক নিরীহ ও সাধারণ মানুষের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। আর এসব দখলদারিত্ব বজায় রাখতে গিয়ে এলাকায় জন আতঙ্কে পরিণত হয়েছেন আলী আকবরগং। সরেজমিন গিয়ে ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী ক্ষমতাধর চেয়ারম্যান নূর হোসেন এর ছত্রছায়ায় রাজনৈতিক ক্ষমতা ও পেশিশক্তি প্রদর্শন করে নিরীহ মানুষের ভিটেমাটি দখলে মরিয়া ছিলেন আলী আকবর। এজন্য কোন আইন বা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা দখল করে রেখেছেন নিজস্ব বাহিনী দিয়ে আলী আকবার।
প্রাণভয়ে এলাকার অসহায় ও নিভৃতচারী মানুষেরা একপ্রকার চুপ থাকতে বাধ্য হন। তবে অধিকারসচেতনরা তার কারসাজী মেনে না নিয়ে প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে কেউকেউ আইনগত পদক্ষেপ নিলেও অনেকই টাকার অভাবে তা পারছেনা। মৃত সোলতান আহমদের (আর/৮০১ নং) খতিয়ানের জায়গা দখলের অভিযোগ এনে ওয়ারিশ আব্দুল হামিদ বলেন, আমরা গরীব, দিনে এনে দিনে খাই। বাবা মারা যাওয়ার পর আলী আকবার আমাদেরকে জায়গার লাগিয়ত দেবে বলে সে ভোগ করে। পরে লাগিয়ততো দেয়নি, জায়গাও দখল করে ফেলেছে এবং আমাদের ঘর ভেঙ্গে সে নিজে ঘর নির্মাণ করেছে।
দখলদার আলী আকবার পরিষদের দফাদার হওয়ায় আমাদের বিচার কোন মেম্বার-চেয়ারম্যান করেনি। আরেক ভুক্তভোগী শাহ আলম জানান, (আর/২৯ নং হোল্ডিং) আমার বাবার জায়গা আজ ১৫ বছর যাবত অন্যায় ভাবে ক্ষমতা দেখিয়ে দফাদার আলী আকবার জোরপূর্বক দখল করে আছেন। ওয়ারিশ হিসেবে জায়গা দাবি করলে আমাদের জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয় সে। এমনকি বিচার নিয়ে সেনাবাহিনীর কাছে গিয়েও কোন পরিত্রাণ পায়নি। আরেক ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন (আর/২৭) হোল্ডিং এর জায়গা দখলের অভিযোগ এনে দখলদার আলী আকবার এর শাস্তি দাবি করেন। ইতিমধ্যে আর/২৮ নং হোল্ডিংয়ের জমি দখল করে নেওয়ায় দফাদার আলী আকবারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন মাহবুবুল আলম নামে এক ভুক্তভোগী পরিবার।
জানতে চাইলে দফাদার আলী আকবার বলেন, আনোয়ার হোসেনকে চিনি বাকীদের আমি চিনিনা। এদের যায়গা আমার দখলে নাই। তবে এরা ১৫ সাল থেকে আমার নামে ক্যান্টনমেন্ট সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করে আসছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লামা ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রুবায়েত আহমেদ বলেন, প্রশাসকের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব খাটনোর বিষয়টি সত্যতা পেলে এবং দখলের বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।