নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় দ্রুতগামী ট্রাকের চাপায় রিতা হালদার (৪৭) নামে এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করলেও, জব্দকৃত ট্রাক থেকে মালামাল (সিমেন্ট) সরিয়ে ফেলার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বামী।
বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে বন্দর থানাধীন নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিতা হালদার ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রিতা হালদারের গ্রামের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কাঠিরা গ্রামে। তার স্বামী খোকন বাড়ৈ ‘ঢাকা লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল’ নামক একটি এনজিওর নারায়ণগঞ্জ জেলার ফিল্ড সুপারভাইজার। স্বামীর কাছে ছুটি কাটাতে নারায়ণগঞ্জের নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হাবিব মিয়ার ভাড়া বাড়িতে এসেছিলেন ওই স্বাস্থ্যসেবিকা।
জানা গেছে, সকালে স্ত্রীকে তার কর্মস্থলে যাওয়ার বাসে তুলে দেওয়ার জন্য নিজের মোটরসাইকেলে (ঢাকা মেট্রো-হ-৫১-৭১৬২) করে বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন স্বামী খোকন বাড়ৈ। পথে পেছন থেকে ‘মাহবুবা এন্টারপ্রাইজ’-এর একটি দ্রুতগামী সিমেন্টবোঝাই ট্রাক (যশোর-ট-১১-৫৭০২) তাদের মোটরসাইকেলে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। স্বামী খোকন বাড়ৈ অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেও স্ত্রী রিতা চলন্ত ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর বন্দর থানা পুলিশ ঘাতক ট্রাক ও ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটি জব্দ করে। এ ঘটনায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়। তবে, পুলিশি হেফাজতে থাকা জব্দকৃত ট্রাক থেকে মালামাল (সিমেন্ট) সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বামী খোকন বাড়ৈ।
ক্ষোভ ও কান্নায় ভেঙে পড়ে খোকন বাড়ৈ বলেন, “পুলিশ মালসহ গাড়িটি জব্দ করেছিল। কিন্তু কিভাবে তারা সেই মালগুলো মালিকপক্ষকে দিয়ে দিল? আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি, আমার জীবনে আর কিছু নেই। আমি এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ট্রাক থেকে মালামাল ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা ঘাতক গাড়িটি জব্দ করে থানায় রেখেছি, তবে গাড়ির মালামাল দিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
জব্দ হওয়া আলামত থেকে মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই মালামাল ছেড়ে দেওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝেও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।