বন্দর প্রতিনিধিঃ
সামাজিক যোগাযোগ ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়ে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক, সেই সুবাদে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার যুবতীকে ধর্ষনের ঘটনায় আদালতে মামলা। নারায়ণগঞ্জ বন্দরের সোনাকান্দা পশ্চিম হাজিপুর এলাকার নাসির মিয়ার যুবতী মেয়ে(২৫) নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য দায়িত্বভার দেন নারায়ণগঞ্জ পিবিআইকে। এদিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণের মামলা করায় বাদী যুবতী ও তার পরিবারের সদস্যরা আসামী ও তার স্বজনদের হুমকির শিকার হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মামলার বিবরণে ও বাদির সুত্রে জানা গেছে, বন্দরের সোনাকান্দা এনায়েত নগর এলাকার সবির আহাম্মদের ছেলে মোঃ আবুল হাসান শ্যামল প্রবাস দুবাইয়ে থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় ঘটে বন্দরের সোনাকান্দা পশ্চিম হাজিপুর এলাকার নাসির মিয়ার যুবতী মেয়ের (২৫) সাথে। ২০১৭ সাল হতে প্রবাসে থেকে শ্যামল মোবাইলে যুবতীর সাথে এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে দুবাই থেকে দেশে আসে শ্যামল। বাদী যুবতী প্রেমিকার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিবাদী শ্যামল বাদীর বাড়ি সহ বিভিন্ন জায়গায় বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার প্রেমিকা বাদী যুবতীকে ধর্ষন করে। আসামি প্রেমিক শ্যামল প্রায় আড়াই মাস বাংলাদেশে অবস্থান করে যুবতীর সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে কোন কিছু না বলে আবারো দুবাই চলে যায। পুনরায় ২০২৪ ইং জুন মাসে প্রেমিক শ্যামল বাংলাদেশে আসে। এসে বাদী যুবতী প্রেমিকাকে ঢাকা মোহাম্মদপুর এলাকার একটি কাজী অফিসে নিয়ে মিথ্যা বানোয়াট ও বুয়া কাবিননামা তৈরি করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এরপর বাদীর মনে বিবাহের বিশ্বাস তৈরি করে সিলেট, কক্সবাজার সহ বিভিন্ন জায়গায় হোটেলে নিয়ে ধর্ষন করে। মিথ্যা প্রেম, ভুয়া কাবিননামা ও অসংখ্যবার দেহ ভোগ করে অবশেষে গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে প্রেমিকা স্ত্রীকে না জানিয়ে গোপনে দুবাই চলে যায় লম্পট প্রতারক শ্যামল। দুবাই চলে যাওয়ার পর প্রেমিক লম্পট প্রতারক শ্যামলের মাধ্যমে ও বিভিন্ন পন্থায় প্রেমিকা যুবতী জানতে পারে তার সাথে ভালোবাসা প্রেম বিবাহ সবাই ছিল মিথ্যা বানোয়াট ও ভুয়া। দেহ ভোগ করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল লম্পট শ্যামলের। এ ব্যাপারে শ্যামলের পরিবারকে জানালে তারা নানাভাবে যুবতী ও তার পরিবারকে হুমকি সহ বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখায়। কোন উপায় না পেয়ে সুবিচারের আশায় প্রতারণা শিকার হয়ে যুবতী প্রেমিকা আদালতে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি নারায়ণগঞ্জ পিবিআই সাব ইন্সপেক্টর রোকন উদ্দিনের কাছে তদন্তাধীন আছে।