শনিবার , সেপ্টেম্বর ১৯ ২০২০
সংবাদ শিরোনাম
Home » জাতীয় » মাদ্রাসার সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে জেনারেলদের নিয়োগের যৌক্তিকতা- ফিরোজ আলম

মাদ্রাসার সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে জেনারেলদের নিয়োগের যৌক্তিকতা- ফিরোজ আলম

শিক্ষা বিষয়ক প্রতিনিধি- সাম্প্রতিকালে মাদ্রাসার সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক চলছেই।জেনারেল শিক্ষিতদের হাইকোর্টে করা রিটের কারনে মহামান্য হাইকোর্ট তিন মাসের জন্য মাদ্রাসার সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ স্থগিত ও করেছেন। জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি এএমএম বাহাউদ্দিন ও মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন,মাদ্রাসায় সহকারী লাইব্রেরিয়ান ও ক্যাটালগার পদে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিপ্লোমাধারী গ্র্যাজুয়েটরাই উপযুক্ত। শুধু জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিতদের নিয়োগ করা হলে মূল দায়িত্ব তারা পালন করতে পারবেন না। কেননা, মাদ্রাসার বিষয়াদি তাদের পক্ষে বুঝা সম্ভব নয়।

তাই এ নিয়ে বিকল্প চিন্তা বাস্তবসম্মত নয়। অন্যদিকে মাদ্রাসার বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ মাদ্রাসা জেনারেল টিচার্স এসোসিয়েশন সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে জেনারেল শিক্ষিতদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে একাধিকবার যুক্তি উপস্থাপন করছেন।এখন দেখার বিষয় হল আসলেই কি সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে জেনারেলদের চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা আছে কিনা।

এবার আলোচনায় আসি জেনারেল শিক্ষত কারা? জেনারেল শিক্ষিত পাঁচ রকমের।

এক.যারা আরবি ভালভাবেই পড়তে পারে। কিন্তু এস এস সি,এইচ এস সি এবং উচ্চ শিক্ষা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়েছেন।

দুই•যারা মাদ্রাসায় দশ বছর তথা দাখিল তথা এস এস সি পরীক্ষা পাস করার পর মাদ্রাসায় লেখা পড়া না করে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করেছেন।

তিন•যারা মাদ্রাসায় ১২ বছর পর্যন্ত তথা আলিম তথা এইচ এসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন।তারপর কলেজ -বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখা পড়া শেষ করেছেন।

চার•যারা কোন মতেই আরবি পারেন না। শুধু কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছেন।

পাঁচ•যারা মাদ্রাসাায় ১২ বছর লেখাপড়া করেছেন তথা আলিম পাসের পর কোন কলেজ- বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়ালেখা না করে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃত মাদ্রাসাতেই জেনারেল বিষয়ে যথা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি কিংবা আইসিটি বিষয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স এ লেখা পড়া শেষ করেছেন।
এই পাঁচ শ্রেণীর জেনারেল বর্তমানে দেখা যায়।

এবার আলোচনায় আসি সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে জেনারেল শিক্ষিতদেরকে কেন জমিয়াতুল মোদার্রেসিন বিরোধিতা করছেন। তাদের যুক্তি হল মাদ্রাসায় বিভিন্ন আরবি বই থাকে ,যার নাম হয়ত জেনারেলরা পড়তে পারবেনা।একটি আরবি বইয়ের কথা বললে যদি আরেকটি বই নিয়ে আসে তাতে ঝামেলা বাড়বে।কিন্তু উপরের পাঁচ শ্রেণীর জেনারেলদের মধ্যে চার শ্রেণীর জেনারেল ই জমিয়াতুল মোদার্রেসিন এর যুক্তি অনুযায়ী আরবি ভাষা জানে এবং আরবি বইয়ের নাম সহজেই পড়তে পারবে।

তাহলে পাঁচ শ্রেণীর চার শ্রেণীর জেনারেলই যেখানে সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদের জন্য যোগ্য তাহলে সেই জেনারেল শিক্ষিতদেরকে সহ কারি লাইব্রেরিয়ান থেকে বঞ্চিত করা সংবিধান বিরোধী।এখানে উল্লেখ করা সমীচীন যে,সহকারি লাইব্রেরিয়ানের কাজ কিন্তু আরবি বিষয়ে পাঠদান করা নয়।বরং লাইব্রেরী রক্ষনাবেক্ষন।

এবার আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করি,সহকারি লাইব্রেরিয়ানের কাজ বর্তমানে শুধু দাখিল তথা মাধ্যমিক পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।কারন প্রত্যেক আলিম,ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা মাদ্রাসা জনবল কাঠামো ২০১৮ মতে লাইব্রেরিয়ান পদ পাওয়ার যোগ্য। তাই এই আলিম,ফাজিল,কামিল মাদ্রাসায় সহকারি লাইব্রেরিয়ানের কাজ থাকার কথা না।কারন ঐ পর্যায়ে লাইব্রেরিয়ান ই তা ব্যবস্থাপনা করবেন।

সুতারাং দেখা গেল সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে জেনারেলদের বিরোধীতাকারিদের দাবি অযৌক্তিক এবং নিতান্তই হাস্যকর।এবার আরেকটি যুক্তিতে আসি,দাখিল তথা মাধ্যমিক পর্যন্ত যতগুলি আরবি বই থাকে তার ৯৫% বইয়ের গায়ে বইয়ের নাম আরবির পাশাপাশি বাংলাতে ও লিখা থাকে।কারন এতে ছাত্রছাত্রীদের বই খুজতে সহজ হয়।এটি সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও বটে।তাই সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে জেনারেলদের নিয়োগ দিলে তাতে কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নাই বললেই চলে।তাই বলবো সহকারি লাইব্রেরিয়ান পদে কামিল পাসের পাশাপাশি জেনারেল শিক্ষিতদের (পূর্বে উল্লেখিত চার শ্রেণীর জেনারেল )সুযোগ দেওয়াই হবে যুক্তি সংগত ন্যায় বিচার।মাদ্রাসা জনবল কাঠামো ২০১৮তে বিভিন্নভাবে সংবিধান লংঘন করে জেনারেল শিক্ষিতদের যেভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে তা মোটেও গ্রহনযোগ্য নয়,বরং নিন্দিত ক্ষমাহীন অপরাধ যোগ্য কাজ ।

লেখক-
শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট
ফিরোজ আলম,বিভাগীয় প্রধান,আয়েশা ( রাঃ) মহিলা অনার্স কামিল মাদ্রাসা, সদর, লক্ষীপুর।
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক,কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটি এবং সাধারন সম্পাদক লক্ষীপুর জেলা শাখা,বিএমজিটিএ।
ইমেইল[email protected]

আরও সংবাদ

প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব যা বললেন

মো: শাহাদাত হোসাইন শিমুল, শিক্ষা বিষয়ক প্রতিনিধি- করোনাকালে প্রাথমিক বিদ্যালয় খুললে ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণসহ …