‌যুদ্ধের সময় মরি নাই, এখন কি ভাঙ্গা ঘরের চাপায় মরবো?

জেলার খবর - শিক্ষা তথ্য

‌যুদ্ধের সময় মরি নাই, এখন কি ভাঙ্গা ঘরের চাপায় মরবো?
সেলিম রেজা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জ শহরের মুক্তারপাড়া নিবাসী নারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারা বেগম (৭১) স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যার পাশাপাশি একটি মাত্র বসবাসের ঘরটি ভেঙ্গে পড়ে দূর্ঘটনার স্বীকার হওয়ায় আশংকায় আতংকিত দিন যাপন করছেন। বাসা মেরামতের আর্থিক সহায়তার
আবেদন করে ৪ বছরেও মেলেনি সহায়তা অনেক কষ্টে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব উপস্থিত হয়ে অশ্র“সিক্ত কণ্ঠে জানালেন ১৯৭১ এ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর অসমানুষিক নির্যাতনেই মরি নাই, কিন্তু এখন অসুস্থ্য ভাঙ্গাঘরের চাপায় কি মরে যাব? সিরাজগঞ্জ শহরের অভিজাত এলাকা মুক্তারপাড়া, স্টেশন লেনে স্বামী মরহুম এ.কে.এম আহসান উল্লা-লেবুর রেখা যাওয়া প্রাচীন ভিটাবাড়ীতে ১ মেয়ে ও ১পুত্রকে নিয়ে বসবাস করেন নারী মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারা বেগম। আর অপর ৩ পুত্র দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূত্রে বসবাস করেন। স্বামী একজন সরকারি কর্মচারী ছিলেন। শ্বশুর আবুল হোসেন ব্রিটিশ শাসন আমলের একজন ডিএসপি ছিলেন। অভিজাত পরিবারে সদস্য হয়েছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মুক্তিযোদ্ধাদের আগ্নেয়াস্ত্রে এই বাসাতেই রাখা হত। তিনি নিজেই অস্ত্রাগারের পাহারাদার ছিলেন। যুদ্ধের কয়েক মাস পরে পাক হানাদার বাহিনীরা জানতে পারেন এই অস্ত্রাগারের খবর এবং একদিন আনোয়ারা বেগমকে রাজাকারদের মাধ্যমে ধরে নিয়ে গিয়ে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে এবং বন্দুক দিয়ে পিটিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে গুরুত্বর যখম করেন তাকে, বেয়নেটের আগাতে ক্ষত নিয়ে আজ দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত কষ্ট করে যাচ্ছেন আনোয়ারা বেগম। স্বামী আহসান উল্লাহ-লেবু ২০১২ সালে ৩রা জানুয়ারী মৃত্যু বরণ করার পর অনেক দুঃখ কষ্ট সহ্য করে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে জীবন নির্ভাহ করেছেন। বর্তমান সরকার এই নারী মুক্তিযোদ্ধার জন্য মাসিক ভাতা ১২,০০০/- (বারো হাজার) টাকা বরাদ্দ করেছেন, এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের কাছে তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। কিন্তু এখন কোমর ব্যাথা দু’পা ফুলে শক্ত হয়ে গেছে বসলে উঠতে পারে না একনকি দুইটি চোখই প্রায় বিনষ্ট হওয়া পথে। শরীরের নানা রোগের জন্য সু-চিকিৎসার প্রয়োজন এবং যে ঘরে বসবাস করেন সেটি ব্রিটিশ আমলে তৈরি ঘর। এখন মাঝে মাঝে চুঁন শুরকি প্লাস্টার খোসে পড়ে। যে কোন সময় ছাঁদ ধসে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে, এই আসংকায় অনেক রাত-বিনিদ্রা পার করেন তিনি। এই নারী মুক্তিযোদ্ধা কালীন অবদানের কথা জানতে পেরে সিরাজগঞ্জ এর সাবেক জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা গত ২০১০ সালের ১৩ই মার্চ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর একটি পত্র দিয়ে তাতে এই নারী মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মানজনক উপাধী প্রদানসহ বিধবা হওয়ায় চিকিৎসা এবং বাসা মেরামতের আর্থিক সহায়তার আবদেন করেছিলেন, কিন্তু দীর্ঘ ৪ বছর পার হতে চললেও কিছু পাননি। এখন এই নারী মুক্তিযোদ্ধা তার চিকিৎসা সেবা ও বসত বাড়ী ঘর নির্মাণে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।