গভীর রাতে ধানখেতে মার্কিন হেলিকপ্টার

আন্তর্জাতিক - শিক্ষা তথ্য

গভীর রাতে ধানখেতে মার্কিন হেলিকপ্টার
গভীর রাতে ধানখেতে মার্কিন হেলিকপ্টার

জাপানের ওকিনাওয়ার ছোট দ্বীপ সুকেন। মূল দ্বীপ থেকে এর দূরত্ব চার কিলোমিটারের মতো। মোট জনসংখ্যা মাত্র ৩৮০ জন। পর্যটন মৌসুমে অনেকেই এই দ্বীপ ভ্রমণে যান। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দ্বীপটি এখন অনেকটাই নীরব।

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার এসে পড়ে দ্বীপটিতে। মার্কিন বাহিনীর রাতের প্রশিক্ষণে এ ধরনের সামরিক হেলিকপ্টার আসা-যাওয়া করে। দ্বীপবাসী এ রকম শব্দদূষণ নিয়ে অভিযোগ করেছেন।

সুকেন দ্বীপের অধিবাসীদের প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষিকাজ ও মাছ ধরা। ছোট এই দ্বীপের অনেকটাজুড়েই আছে ধানখেত। ধান কাটার মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন সেগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। গতকাল মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার পড়ার পর দ্বীপবাসীর একজন রাত ১১টার দিকে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সুকেন দ্বীপের ধানখেতে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করেছে। ফুতেনমা বিমানস্টেশন থেকে পাঁচজন ক্রু নিয়ে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরে ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় হেলিকপ্টারটি দ্রুত ধানখেতে অবতরণ করে।

দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারের কোনো ক্রু আহত হননি। ওই এলাকার কোনো স্থাপনাতেও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে দ্বীপবাসী মনে করছেন, হেলিকপ্টার অস্ত্রসজ্জিত অবস্থায় থাকলে বড় ধরনের অঘটন ঘটে যেতে পারত। জাপানের পার্লামেন্টেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে।

উচ্চকক্ষের এক কমিটির বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নোবুও কিশি বলেছেন, নিজস্ব সামরিক সম্পদের পরিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়েছেন। ঘটনা তদন্তে জাপান সরকার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কেবিনেট অফিসকে অন্তর্ভুক্ত রেখে টাস্কফোর্স গঠন করেছে।

ওকিনাওয়ার গভর্নর ড্যানি তামাকি সাংবাদিকদের বলেছেন, এভাবে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।

মার্কিন মেরিন বাহিনীর ফুতেনমা বিমানস্টেশন নিয়ে ওকিনাওয়ার জনগণের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। ওকিনাওয়া দ্বীপের বেশির ভাগ মানুষ চাইছেন বিমানস্টেশনটি যেন বন্ধ করে দেওয়া হয় কিংবা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে দিলে ফুতেনমা বিমানস্টেশন বন্ধ করে দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দ্বীপবাসী।

সুকেন দ্বীপের ধানখেতে হঠাৎ গভীর রাতে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারের অবতরণ নিয়ে ওকিনাওয়াবাসীর ক্ষোভ বাড়তে পারে।

জাপানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির জন্য ব্যবহৃত মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৭০ শতাংশ ওকিনাওয়া দ্বীপে।