Dark Mode
  • Monday, 27 September 2021
অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছেনা বীর মুক্তিযোদ্ধার!

অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছেনা বীর মুক্তিযোদ্ধার!

অলিউল্লাহ ইমরান, বরগুনাঃ
বরগুনা জেলার মুক্তিযোদ্ধা এবং  এলাকায় সবাই তাকে চিনে গেরিলা আমীর নামে। ভালো নাম আমীর হোসেন খান(৬৫)। 
 
 
মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর হেড কোয়ার্টার বরগুনার  বুকাবুনিয়ার অধীনে যুদ্ধ করেছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। বামনা থানা হানাদার আক্রমনের সময় থানার ভিতরে জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে তিনি দুটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বামনা থানা মুক্তকরেন। সেই থেকে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সবাই গেরিলা আমীর নামে ডাকেন। তাঁর বাড়ী বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা গ্রামে। মহান মুক্তিযুদ্ধের গেজেট নম্বর- ৭৭২ ও লাল মুক্তিবার্তা নম্বর ১০৪০০০১২৫৮। 
 
 
তিনি শুধু বামনা থানা হানাদার মুক্তকরাই নয় মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাথরঘাটা, ফুলঝুড়ি ও বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় হানাদার ও রাজাকারদের বিরুদ্বে  লড়াই করেন।  
 
 
বর্তমানে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনিস্টিটিউট হাসপাতালের নিউরোসার্জন চিকিৎক ডা. জুলফিকার আলী’র তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি শুধু হৃদযন্ত্রের রোগেই ভুগছেন না বিগত বছরে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্থ্য হয়ে দির্ঘদিন রংপুর  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। 
 
 
বর্তমানে গত ১ জুলাই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনিস্টিটিউট হাসপাতালের ভর্তি হন। সেখানে তিনি দির্ঘ একমাস যাবৎ ৫তলার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ৪৯ নম্বর বেডে ভর্তি রয়েছেন। ৩১ জুলাই তার হার্টে প্রেসমেকার ও কার্ডিও কন্ট্রোল মেশিন(সিপিএম) বসানো হয়েছে। এই বীর মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসায় ইতিমধ্যে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ১০ বছর পূর্বে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা ছাড়া আর কোন সহায়তা আজ পর্যন্ত তাকে দেয়া হয়নি বলে জানান তিনি। এমন অবস্থায় তাঁর পরিবার চিকিৎসা ব্যায় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা সমাজের বিত্তবানদের কাছে তাঁর চিকিৎসার জন্য কিছুটা সহায়তার হাত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। 
 
 
বীর মুক্তিযোদ্ধা আমীর হোসেন খান বলেন, আমি একজন সাবেক সেনা সদস্য। সেনাবাহিনীতে যোগদানের পরে আমি সেখান থেকে পালিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করি। আমার জীবনের তোয়াক্কা না করে আমি এই দেশ স্বাধীনকরার একজন গর্বিত অংশীদার। বর্তমানে আমি প্রায় ১মাস ধরে হাসপাতালে ভর্তি। অর্থাভাবে আমার চিকিৎসা হচ্ছেনা। পরিবারে আমার স্রী ও দুটি মেয়ে রয়েছে।  অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে গেছি।
 
 
৩/৮/২১,বরগুনা।
শেয়ার করুন :

মন্তব্য করুন