Dark Mode
  • Saturday, 16 October 2021
নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম, জানেনা আজমেরী ওসমান

নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম, জানেনা আজমেরী ওসমান

শিক্ষা তথ্যঃ

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বরাবর আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে থাকে ওসমান পরিবার। বছর জুড়েই স্থানীয়দের মুখে থাকে তাদের নাম, স্থানীয় গণমাধ্যমর প্রথম পাতায়ই থাকেন তারা। কখনো ইতিবাচক খবরের শিরোনাম আবার কখনো নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হয় ওসমান পরিবার।


তবে টাউট, বাটপারদের কারণেও তাদের নিয়ে প্রায়ই গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। সমাজের একশ্রেণীর মানুষ আছে যারা ওসমান পরিবারকে ভালোবাসে, একশ্রেণীর লোক আছে যারা ভালোবাসে না আবার এক শ্রেণীর লোক আছে যারা এ পরিবারটিকে ভয় পায়, একথা সকলেরই জানা। আর এই ভয়কেই পুজি করে কতিপয় টাউট-বাটপাররা গুন্ডামি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, ধান্ধাবাজি, লুটপাত, ভুমিদস্যূতা করে বেড়ায়। যদিও ওসমান পরিবারের কেউ এসকল অপকর্ম সমর্থন করে না বলে বারবার বক্তব্য রাখেন পরিবারটির সদস্য এমপি শামীম ওসমান, এমপি সেলিম ওসমান, প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমান ও শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান।


ওসমান পরিবারের নাম ভাঙ্গালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে ওসমান পরিবারের পক্ষ থেকে এমন হুশিয়ারী ইতিপূর্বে স্থানীয় বেশকয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও এ পরিবারের সদস্যদের নাম ভাঙ্গিয়েই যাচ্ছে একটি চক্র। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমানের নামে। যদিও আজমেরী ওসমান ঘনিষ্ঠদের দাবি, নাসিম ওসমান ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা। তার একমাত্র পুত্র বাবার দেখানো পথেই মানুষের সেবায় কাজ করছে এবং আমৃত্যু মানুষের সেবায় কাজ করতে চায় বলে দাবি তার ঘনিষ্ঠদের।


শুধু তাই নয়, এর আগে যারা নাম ভাঙ্গাতে চেষ্টা করেছিলো তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিয়েছেন আজমেরী ওসমান। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য এক সময় তার ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত ফুডল্যান্ডের হাবিব। যিনি আজমেরী ওসমানের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন্ অপকর্ম করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিলো, এমনকি নাসিকের ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তার বিরুদ্ধে আজমেরী ওসমানের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন। কিন্তু আদতে সেই বিষয়ে কিছুই জানতো না আজমেরী ওসমান, শুধু সেই ঘটনা নয় কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অপকর্মকারীদের প্রশ্রয় দেননা তিনি এমনটাই দাবি তার ঘনিষ্ঠদের। সেই ঘটনার পর থেকে ফুডল্যান্ডের হাবিবকে দুরে সরিয়ে দেন আজমেরী ওসমান।


এছাড়াও তরিকুল ইসলাম লিমন নামটি নারায়ণগঞ্জের সর্বশ্রেণীর মানুষের কাছে পরিচিত একটি নাম। কেননা এই লিমনকে সবাই চিনতো আজমেরী ওসমানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠজন হিসাবে। তবে নানা অপকর্মের দায়ে তাকেও দুরে সরিয়ে দেন সাংসদ পুত্র। শুধু তাই নয়, অনেকের বিচারের দাবির প্রেক্ষিতে তাকে আইনের আওতায় আনতে সহযোগীতাও করেছেন আজমেরী ওসমান এমনটাই জানান তার ঘনিষ্ঠরা। নাম ভাঙ্গালে বা কোনো অপকর্ম করলে কঠিন পদক্ষেপ নেন আজমেরী। এই যখন চিত্র, ঠিক তখনই এক শ্রেণীর অপকর্মকারীরা বার বার তার নাম ভাঙ্গিয়ে দেদারছে করে যাচ্ছে অপকর্ম।


এদের মধ্যে অন্যতম নগরীর দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হাজী রিপন, যার বিরুদ্ধে আজমেরী ওসমানের নাম ভাঙ্গিয়ে নিতাইগঞ্জ ট্রাক স্ট্যান্ড থেকে চাঁদাবাজীসহ বহু অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। গত মার্চ মাসে দায়িত্বপালন কালে এক সাংবাদিককে পিটিয়ে রক্তাত্ব করে দুর্ধর্ষ হাজী রিপন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।


গোদনাইল এলাকার কাজী আমির, প্রয়াত সাংসদ পুত্রের নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধভাবে নদী তীরের মাটি কেটে নেয়া, মাদক বিক্রি, এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমসহ তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী। এলাকাবাসীদের মধ্যে ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে সাহস পায়না বলেও জানা যায়।

এছাড়াও ইস্কা রাসেল, রবিন, মামুন, রফিকসহ তার অনেক সহযোগী রয়েছে বলেও জানা যায়। এলাকাবাসী বলে, ইদানিংকালে আজমেরী ওসমানের সাথে প্রায়ই দেখা যায় এ আমিরকে। তারা আরও বলে, আমিরের এই সকল অপকর্মের নিশ্চয়ই আমাদের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান পুত্র আজমেরী কিছুই জানেনা। যদি জানতো তাহলে আমিরকে কখনোই তিনি প্রশ্রয় দিতেন না এমন দাবি করেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, আমরা জানি নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমান কোনো অপরাধীদের প্রশ্রয় দেননা।


ইদানিং কালে নাম শোনা যাচ্ছে মনির হোসেন নামে এক নয়া এক মাস্তানের। শহরের মোড়ে মোড়ে দেখা যায়, আজমেরী ওসমানের ছবি ব্যবহার করে মনিরের ছবি ও নাম দিয়ে বিভিন্ন দিবসে পোষ্টার সাটানো হয়েছে।

মাঝে মাঝে আজমেরী ওসমানের বিভিন্ন আনন্দ র‌্যালিতেও তাকে দেখা যায় এক শ্রেণীর ভাড়া করা কর্মী নিয়ে হাজির হন মনির। সম্প্রতি স্থানীয় একটি শীর্ষ দৈনিক পত্রিকায় “ নয়ামাটির নয়া মাস্তান মনির” নামে সংবাদও প্রকাশ হয়েছিলো। ঐ পত্রিকার বরাত দিয়ে এবং নয়ামাটি ও আশেপাশের এলাকার হোসিয়ারী ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, মন্ডলপাড়া এলাকা থেকে ২নং রেল গেইট, নয়ামাটি, থানা পুকুর পাড়, সনাতন পাল লেনসহ আশেপাশের এলাকায় রয়েছে বিশাল হোসিয়ারী পল্লী।

আর এসব হোসিয়ারী থেকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার ঝুট বের হয়। কথিত রয়েছে, আগে এই ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রন করতো দারুন নামে একজন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর গতবছর থেকে এই ঝুট সেক্টরের নিয়ন্ত্রণ নেয় মনির হোসেন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এছাড়াও জিমখানা বস্তিসহ আসেপাশের এলাকায়ও রয়েছে তার নিয়ন্ত্রণ।

এখানেই শেষ নয়, গত কোরবানির ঈদে আজমেরী ওসমানের নাম ব্যবহার করে দুটি হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন এই মনির হোসেন। তখন একটি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত একজন চেয়ারম্যানকেও বার বার দেখা গেছে, হাজী সাবের লোক আসছে, হাজী সাবের লোক আসছে বলে মনিরকে সম্বোধন করতে। যদিও আজমেরী ঘনিষ্ঠদের দাবি, মনির হোক আর যেই হোক অপকর্মকারীদের কোনো প্রশ্রয় নেই আজমেরী ওসমানের কাছে। এছাড়া স্কুলের গন্ডি না পেরোলেও মনির একসময় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক শীর্ষ নেতার বদৌলতে ছাত্রলীগের একটি পদ বাগিয়ে এনেছিলেন বলেও জানা যায়।


এছাড়াও জল্লারপাড় এলাকার সজিব, সৈকত, সাবু, হাজী রিপনের ছেলে সীমান্তসহ আরো অনেকেই আছেন যাদের দলীয় বা রাজনৈতিক কোনো পদ-পদবী নেই কিন্তু আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠজন পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম করে থাকে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। কিন্তু তাদের ভয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে না।

শেয়ার করুন :

মন্তব্য করুন