Dark Mode
  • Saturday, 16 October 2021
নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না চিনি

নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না চিনি

বাংলাদেশ সুগার রিফাইনারস অ্যাসোসিয়েশন গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চিনির খুচরা বিক্রি দাম নির্ধারণ করে। খোলা চিনি কেজি ৭৪ টাকা আর প্যাকেটজাত চিনি কেজি সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার, সুপারশপ ও পাড়া-মহল্লার দোকানে ঘুরে এই নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি হতে দেখা যায়নি।

রাজধানীর বাজারগুলোতে খোলা চিনি ৭৮ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর প্যাকেটজাত চিনি গায়ে উল্লিখিত দাম অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ যে প্যাকেটে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ৮৪ টাকা কিংবা ৮৬ টাকা আছে, তা ওই দামই নিচ্ছেন বিক্রেতারা। কেউ কেউ অবশ্য ক্রেতাদের খুশি রাখতে এক টাকা ছাড়ে বিক্রি করেন। নতুন দামের কোনো প্যাকেটজাত চিনি গতকাল পর্যন্ত বিক্রি হতেও দেখা যায়নি।

মহাখালী কাঁচাবাজারের নূর স্টোরে গতকাল খোলা চিনি ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। দোকানের মালিক মো. আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গত মাসের ১৬ তারিখে প্রতি কেজি ৭৬ টাকা দরে ৫০ কেজির চিনির বস্তাটি ৩ হাজার ৮০০ টাকায় কিনেছেন তিনি। নির্ধারিত দামে চিনি বেচলে তাঁর লোকসান হবে।

এই বাজারের মেসার্স কে জি স্টোরে দুটি কোম্পানির প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি করা হচ্ছে। একটির প্যাকেটে এমআরপি ৮৬ টাকা, যার উৎপাদনের তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর। অন্যটির মূল্য ৮৪ টাকা, যেটি গত ২৪ আগস্ট প্যাকেটজাত করা হয়েছে।

গুলশান-২ নম্বরের একটি সুপারশপের আউটলেটে বিক্রির জন্য রাখা একটি কোম্পানির এক কেজির প্যাকেটজাত চিনির বিক্রয়মূল্য ৮৪ টাকা এবং আরেকটি কোম্পানির প্যাকেটজাত চিনির বিক্রয়মূল্য ৮৬ টাকা উল্লেখ রয়েছে। দুই কোম্পানির চিনিই গত ২৯ আগস্ট প্যাকেটজাত করা হয়েছে।

ওই আউটলেটের ব্যবস্থাপক প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন নির্ধারিত দামের চিনির প্যাকেট আমাদের হাতে আসেনি। তাই প্যাকেটের গায়ে যে দাম দেওয়া থাকে, ওই দামেই বিক্রি করা হচ্ছে।’ তবে খোলা চিনি নির্ধারিত ৭৪ টাকা কেজি দরেই বিক্রি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

কারওয়ান বাজারেও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামেই চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, পরিবেশকদের কাছ থেকে এখনো বেশি দাম দিয়েই তাঁদের কিনতে হচ্ছে। কেনা দাম ধরে কিছু লাভ রেখে তা বিক্রি করছেন তাঁরা।

কারওয়ান বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির সয়াবিন তেল, চিনি বিভিন্ন পণ্যের পরিবেশক মেসার্স ছিদ্দিক এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু বকর ছিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কোম্পানির কাছ থেকে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনি ৩ হাজার ৭৩৫ টাকায় কিনতে হয়। তাতে এক কেজির দাম পড়ে পৌনে ৭৫ টাকা, যা সরকার–নির্ধারিত খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি। কোম্পানিগুলো এখনো নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি করছে না।

তবে দেশের শীর্ষস্থানীয় চিনি বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা প্রতিদিন সরকার–নির্ধারিত দামে চিনি বিক্রি করছেন। সেই প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়।

টিসিবির ট্রাকের জন্য অপেক্ষা

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ভ্রাম্যমাণ ট্রাকগুলো থেকে কিছুটা সাশ্রয়ী দামে নিত্যপণ্য কিনতে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেকেই নির্ধারিত পয়েন্টে টিসিবির ট্রাক পৌঁছানোর অনেক আগে থেকে এসে সেখানে অপেক্ষা করেন।

পণ্য কিনতে আসা অপেক্ষমাণ একাধিক ব্যক্তি জানান, দেরি করে এলে অনেক সময় লাইনের পেছনে দাঁড়াতে হয়। তখন পণ্য বিক্রি হয়ে যায়। তাই লাইনে যাতে আগে দাঁড়ানো যায়, সে কারণেই আগেভাগে আসা।

টিসিবির ট্রাক সেলে সয়াবিন তেল, ডাল ও চিনি বিক্রি করা হয়। তাতে সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা, ডাল ও চিনি ৫৫ টাকা কেজি নির্ধারিত। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার তেল ও দুই কেজি করে ডাল ও চিনি কিনতে পারেন। সে হিসেবে মোট খরচ হয় ৪২০ টাকা। অথচ সাধারণ বাজার থেকে এই পণ্যগুলো কিনতে খরচ হয় প্রায় ৬০০ টাকা।

শেয়ার করুন :

মন্তব্য করুন