Dark Mode
  • Tuesday, 30 November 2021
পটুয়াখালীর মাদ্রাসা সুপার সহ তিন জনের বিরুদ্ধে জ্বাল জ্বালিয়াতির মামলা

পটুয়াখালীর মাদ্রাসা সুপার সহ তিন জনের বিরুদ্ধে জ্বাল জ্বালিয়াতির মামলা

স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার এ বি এম আঃ গনির শিক্ষানবিশ জীবনের মাদ্রাসা সার্টিফিকেট ও নিয়োগ নিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করার প্রতিবাদে 
 
'ক' তফসিল মাদ্রাসার 'খ' তফসিল পরিচয়ে পদ সমূহের নিয়োগ বে-আইনী, বে-ধারা, ভূক্ত ম্যালাফাইডি সাব্যস্তে বাতিলের ডিক্রী দানের প্রার্থনায় দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ১ আদেশের ৮ নিয়ম ও ১৫১ ধারা বিধান মোতাবেক গত ২৮ অক্টোবর ২০২১ইং গলাচিপা বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে মামলা দ্বায়ের করেন মোঃ ওয়াদুদ মুন্সী এক ব্যাক্তি।
 
 
মামলা সূত্রে জানা যায়, যুগির হাওলা এলাকার নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার এম এ আঃ গনি ' ক' তফসিল পরিচয়ের মাদ্রাসা'টি প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বর্তমানে কর্মরত।
 
সুপার আঃ গনি ১ জানুয়ারী ১৯৬২ইং সালে জন্ম গ্রহন করে ১৯৭১ইং সালে দাখিল পাশ করেছেন বলে সরকারের কাছে অসত্য শিক্ষানবিশ কালের নথি প্রত্র জমা দেন। যে খানে মাত্র নয় বছরে দাখিল, ১৯৭৩ সালে মানে এগারো বছর বয়সে আলীম, ১৯৭৫ সালে ১৩ বছর বয়সে ফাজিল এবং ১৯৭৭ সালে কামিল পাশ করে ১৯৮০ইং সালে অত্র মাদ্রাসায় যোগদান করেন।
 
শুধু তাইনয় এক'ই ভাবে সহকারি শিক্ষক বর্তমান (অবসর প্রাপ্ত) আবু বকর ছিদ্দিক ১মার্চ ১৯৬১ সালে জন্ম গ্রহন করে ১৯৭০ সালে মাত্র নয় বছর বয়সে দাখিল, ১৯৭২ সালে আলিম এবং ১৯৭৪ সালে ফাজিল পাশ দেখিয়ে  ১৯৮০ইং সালে মাদ্রাসায় যোগদান করে এমপিও ভূক্ত হয়ে সরকারি বেতনভোগ করেন। 
 
অপর দিকে এক'ই মাদ্রাসার অবসর প্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আঃ ছালাম ১ মার্চ ১৯৬১ সালে জন্ম গ্রহন করে ১ জানুয়ারী ১৯৮৮ইং সালে দাখিল পাশ করে পুনোরায় ১ জানুয়ারি ১৯৮০ইং সালে যোগদান করেন।
 
যাহাতে সুপার আঃ গনি  ৯ বছরে দাখিল এবং ১৫ বছর বয়সে কামিল পাশ, আবু বকর ৯ বছরে দাখিল এবং আঃ ছালাম ১৯৮৮ইং সালে এবতেদয়ী ক্বারি হিসেবে যোগদান করেন। অর্থাৎ ১৯৮০ ইং সনে যোগদান এবং ১৯৮৮ সনে দাখিল পাশ করেন। যা আশ্চর্যজনক ও কাল্পনিক।
 
সূত্রে আরে জানা যায়, বর্তমান সুপার আঃ গনি, সহ (আবস) আবু বকর এবং আঃ ছালাম নিতান্ত অন্যায়ভাবে জ্বাল- জ্বালিয়াতি করে কাগজপত্র দাখিল করে সরকারের নিকট হতে বেতন ভাতাদিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা গ্রহন করে আসছেন। যাহাতে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধিত হয়। 
 
প্রকৃত পক্ষে বর্তমান সুপার আঃ গনি এবং অবসর দুই'জনের কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদপত্র না থাকা সত্বেও ভূয়া জ্বালিয়াতি কাগজপত্র দেখিয়ে বে-আইনী কাগজ পত্রের ভিত্তিতে স্ব-স্ব পদে কর্মরত থেকে সরকার হতে বেতন ভাতাদিসহ যাবতীয় সুবিধা ভোগ করেছেন।
 
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, পরিচালক মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এর Manthly Payment Order (MPO) তে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ প্রতি আদেশ ভূলক্রমে বেশি প্রদত্ত টাকা ষ্ট্যাম্প প্যাটানের অতিরিক্ত বরাদ্দকৃত ও দুই বছর ফলাফল নাই এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অর্থ বিতরণ করা হলে, প্রতিষ্ঠান প্রধান দায়ী থাকবে।
 
ভূয়া কাগজপত্র এবং জ্বাল-জ্বালিয়াতির বিষয়ে সরেজমিনে নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার এ,বি, এম, আঃ গনি'র মতামত জানতে চাইলে গনমাধ্যমের উপস্থিতি টের পেয়ে গাঁ ঢাকা দেন। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। 
 
এসকল অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে এক'ই মাদ্রাসার সহ- সুপার মকবুল মাউলানা, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা জাহাঙ্গীর হোসেন সহ অনেকের মতামত, সুপার আঃ গনি এবং অবসর দুইজন শিক্ষকের শিক্ষানবিশ এর কাগজ পত্র অনুযায়ী যথেষ্ট সন্দেহ মনে হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে মাদ্রাসা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন।
 
এবিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা এ্যাকাডেমী শিক্ষা অফিসার এবং (ভারপ্রাপ্ত) মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অনাদী কুমার বাহাদুর বলেন, সুপার আঃ গনিসহ অবসরপ্রাপ্ত আবু বকর সিদ্দিক ও আঃ ছালামকে বহুবার কল করার পরেও তাদের কোন প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট দেখাতে পারেননি। 
 
এছাড়া তার নথি পত্র দেখে যেটা মনে হচ্ছে, মাত্র 'নয়' বছর বয়সে দাখিলসহ দুই বছর পর পর আলিম, ফাজিল ও কামিল পাশ করা, কোন প্রকারে সম্ভব নয়। 
 
তাছাড়া উপরোক্ত বিষয়ে  মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
শেয়ার করুন :

মন্তব্য করুন

You May Also Like