Dark Mode
  • Wednesday, 01 December 2021
বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি কেনো ভেঙে ফেলা হলো শীতলক্ষ্যার তীরে ইজারা নেওয়া ভববানগঞ্জ ফেরিঘাট

বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি কেনো ভেঙে ফেলা হলো শীতলক্ষ্যার তীরে ইজারা নেওয়া ভববানগঞ্জ ফেরিঘাট

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

বিআইডব্লিউটিএ-এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শোভন রাংসার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবৈধ উচ্ছেদ পরিচালিত হয়। উক্ত অভিযান চলাকালীন সময়ে উপস্থিত ছিলেন- বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল, উপ-পরিচালক ইসমাইল হোসেন, সীমানা পিলার এবং ওয়াকওয়ে প্রকল্প পরিচালক শাহনেওয়াজ কবির, মেডিকেল অফিসার জাকিরুল হাসান ফারুকসহ প্রমুখ। এ অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানে নগরীর নিতাইগঞ্জ, আল আমিন নগর ও সৈয়দপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে গড়ে উঠা একটি তিনতলা ভবনসহ ৭টি কাঁচা-পাকা ২৬টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ আড়াই একর ভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে-এমনটাই জানা যায় ।

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেন বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ।

উক্ত উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশে সিএস জরিপ অনুযায়ী নতুন সীমানা পিলার স্থাপনের কাজ চলছে। পাশাপাশি শীতলক্ষ্যার উভয় তীরেই ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজও শুরু হবে। বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে নতুন সীমানা পিলার স্থাপন নিয়ে জটিলতা ছিলো। সেগুলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরসন করা হচ্ছে। পাশাপাশি নদী তীরের ভূমি উদ্ধার করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজও যাতে দ্রুত শুরু করা যায় সে লক্ষ্যে নদীর দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, নদী দখলমুক্ত রাখতে এ উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।


এদিকে, গতকাল বিআইডব্লিউটিএ এর অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানে বৈধ ইজারার স্থান ভাঙচুর ও উচ্ছেদের নাটকীয়তার কারণে নৌ পারাপারে সাধারণ যাত্রীসহ ইজারাদারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এমনটাই লক্ষ্য করা যায়।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় যে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর, নারায়ণগঞ্জ নথি নং ১৮.১১.৬৭৫৮.০৬৭.০২.০১০.১৬ (ভগবানগঞ্জ ফেরিঘাট) ৩১৫৩, প্রধান দপ্তরের স্মারক নং-১৮.১১.০০০০.০৬৩.২০.০০৮.২১(ইঃসাঃ)/১০৪০তারিখ ২৯/০৬/২০২১ অনুপাতে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রাধীন "ভগবানগঞ্জ ফেরীঘাট (যাত্রী ছাউনীসহ)টি ২০২১-২০২২ অর্থ বৎসরের (০১/০৭/২০২১খ্রিঃ হতে ৩০/০৬/২০২২খ্রিঃ) জন্য ইজারার নিমিত্ত ২৭/০৬/২০২১ তারিখে ২২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইজারা প্রদান করা হয়। নৌ পারাপারে সাধারণ মানুষের জন্য বৈধ এ ইজারা ঘাটটিকে সেদিন অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানে কেনো ভেঙে ফেলা হলো এ বিষয়টি ইজারাদারসহ সাধারণ নৌ চলাচল যাত্রীদের মাঝে প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর শাখার যুগ্ম - পরিচালক (বন্দর) শেখ মাসুদ কামাল এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা যাত্রী ছাউনি ভাঙ্গীনি, আমরা টুল ঘর ভেঙ্গেছি আমাদের বিভাগীয় কতৃপক্ষের উপস্থিতিতে।


গোপন সূত্রে জানা যায় য়ে, যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল ও নারায়ণগঞ্জ শাখার জাতীয় শ্রমিকলীগের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ শ্রমীক কর্মচারি ইউনিয়ন রেজিঃ নং বি২১৭৬-এর ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম তারা উভয়ের পদপদবীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং নিজেদের প্রভাব দেখিয়ে নিজস্ব দপ্তরের টেন্ডার পাইয়ে দেয়ার নাম করে, অবৈধ বলগেট চলাচলে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সেই সাথে নদীপথে যত্রতত্র জাহাজ নোঙ্গর করে নদীর গতিপথকে বাধাগ্র¯থ করা নৌ যানবাহনের প্রতি তাদের সবসময়ই উদাসীনতা দেখিয়ে অবৈধ এসব কাজে সহযোগিতা করে দীর্ঘ বৎসর যাবৎ মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে পকেট ভারি করে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন :

মন্তব্য করুন