Dark Mode
  • Wednesday, 01 December 2021
মহিপুরে মাদ্রাসা'র অধ্যক্ষের শিক্ষা সনদ ও বয়স জালিয়াতি

মহিপুরে মাদ্রাসা'র অধ্যক্ষের শিক্ষা সনদ ও বয়স জালিয়াতি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) উপজেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন মোয়াজ্জেমপুর ছালেহিয়া আলিম মাদ্রাসা'র অধ্যক্ষ এ, কে, এম আবু বকর ছিদ্দিকির জাতীয় পরিচয়পত্রের নির্ধারিত বয়সের সাথে, তার কর্মস্থলে দায়েরকৃত শিক্ষা সনদে উল্লেখিত বয়সের অমিল ও জাল শিক্ষা সনদ ব্যবহার বর্তমান কর্মস্থলে পদোন্নতি। কাম্য যোগ্যতা না থাকায় শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার নোটিশ অমান্য করে পদোন্নতিসহ কর্মস্থানে বহাল থাকার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
অভিযোগ সূত্রে অনুসন্ধান করে জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী এ, কে, এম, আবু বকর ছিদ্দিকি জন্মগ্রহণ করেন ১ লা মার্চ ১৯৬৪ ইং (০১/০৩/১৯৬৪) তারিখ। কিন্তু তার কর্মরত প্রতিষ্ঠানে দায়েরকৃত শিক্ষা সনদ অনুযায়ী, গত ১৯৭৪ ইং সালে তিনি দাখিল পরিক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন, তথা মাত্র দশ (১০) বছর বয়সে তিনি দাখিল পাশের সনদ লাভ করেন।অপরদিকে ১৯৭৬ ইং সালে আলিম পরিক্ষা (রোল নং-১৯৫১) অংশগ্রহণ করেন এবং তৃতীয় বিভাগ এ উত্তীর্ন হন, তথা মাত্র বারো (১২) বছর বয়সে তিনি আলিম পাশের সনদ লাভ করেন। ১৯৮০ ইং সালে তিনি কামিল পরিক্ষায় ( হাদিস)  তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন বলে তার শিক্ষা সনদে তথ্য পাওয়া যায়। তার চাকুরির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে দুর্নিতি ও জালিয়াতির  সন্ধান মিলে। তিনি আলিম পরিক্ষায় (তৃতীয়'র) পরিবর্তে দ্বিতীয় বিভাগ ও কামিল (হাদিস এ তৃতীয়'র) পরিবর্তে, (ফিকাহ) পরিক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ,পাশের সন- ১৯৯৬ ইং জালিয়াতি করে, মোয়াজ্জেমপুর ছালেহিয়া আলিম মাদ্রাসায় গত ০১লা জুন ১৯৮০ ইং তারিখে যোগদান করেন। এবং এই জাল সনদ ব্যবহার করে গত ১ লা সেপ্টেম্বর ১৯৮৫ ইং তারিখে এম, পি, ও ভুক্ত হন। এভাবে প্রতিটি স্থানে রয়েছে তার বয়স ও শিক্ষা সনদ জালিয়াতির ধুম্রজাল।
 
বেসরকারী মাদ্রাসা শিক্ষা কর্মচারী বেতন সহকারি অংশ ও জনবল কাঠামো- ১৯৯৫ এর শিক্ষা মন্ত্রানলয়ের শাখা ১১ এর পরিপত্র মোতাবেক সকল পরিক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ বাধ্যতামুলক। এই অধ্যক্ষ এ,কে এম আবু বকর ছিদ্দিকির চাকুরিতে দাখিল করা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে একমাত্র দাখিল পরিক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ, এবং বাকি সনদগুলো তৃতীয় বিভাগ থাকা সত্ত্বেও, তিনি ২৩ শে জুন ২০০৮ ইং তারিখে উক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেই তিনি মহা পরিচালক বরাবর এম,পি,ও সংশোধনের জন্য আবেদন করেন। গত ২৩ শে নভেম্বর ২০০৮ ইং তারিখে মহাপরিচালকের পক্ষে, অধ্যক্ষ ও শিক্ষক হিসেবে তাহার কাম্য যোগ্যতা না থাকায়, আবেদন  নাখোচ করা হয়। এরপরেও অদৃশ্য শক্তির তবিয়তে এখনো তিনি উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ হিসেবে বহাল রয়েছেন। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ এ কে এম আবুবক্কর সিদ্দিকি'র সাথে তার বর্তমান কর্মস্থলে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোন (০১৭১৮৮৫৩১৭৯) নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন তুলেননি।
শেয়ার করুন :

মন্তব্য করুন

You May Also Like