Dark Mode
  • Wednesday, 01 December 2021
সী-প্লেনের আদলে হোভারক্রাফট তৈরি করেছেন ক্ষুদে বিজ্ঞানী শাওন

সী-প্লেনের আদলে হোভারক্রাফট তৈরি করেছেন ক্ষুদে বিজ্ঞানী শাওন

মোয়াজ্জেম হোসেন, পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ সী-প্লেনের আদলে হোভারক্রাফট তৈরি করে রীতিমতো কৌতূহল সৃষ্টি করেছেন কলাপাড়ার ক্ষুদে বিজ্ঞানী মাহবুবুর রহমান শাওন। প্রায় নয় মাস অক্লান্ত পরিশ্রমের পর এ হোভারক্রাফটি তৈরী করেছেন তিনি। এটি নদী পথে চলবে জ্বালানী তেল বিহীন। সৌর বিদ্যুতের সহায়তায় ঘন্টায় দৌড়াবে ৪০ কিলোমিটার বেগে। তার এ নতুন আবিষ্কারে চমক লেগেছে এলাকাজুড়ে। তবে সরকারী সহায়তা পেলে বানিজ্যিকভাবে হোভারক্রাফট বাজারজাত করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
 
স্থানীয় এবং পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের মোয়াজ্জেমপুর সালেহিয়া আলিম মাদ্রাসার করনিক নাসির উদ্দিনের ছেলে শাওন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ প্ল্যানেটর কলেজের রোবোটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ছোট বেলা থেকেইে একের পর এক নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করছে শাওন। ২০১৯ সালে হোভারক্রাফট আবিষ্কারের চিন্তা মাথায় আসে শাওনের। পরে তার বাবার সহায়তায় সী-প্লেনের আদলে হোভারক্রাফট আবিষ্কারে সফল হন তিনি। সম্পূর্ন ফাইভার ও এ্যালোমিনিয়াম দিয়ে তৈরী করা হয়েছে এর অবকাঠামো। এটি জ্বালানী তেল বিহীন সম্পূর্ন সোলার সিস্টেমে তিনজন যাত্রী নিয়ে নদী পথে চলাচল করতে পারবে। হোভারক্রাফটিতে ব্যবহার করা হয়েছে আরও নতুন প্রযুক্তি। অতিরিক্ত যাত্রী বহন করলে এটি সিগন্যাল দিবে এবং অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এই এলাকায় হাইভোল্টেজ ব্যাটারি না থাকায় বর্তমানে এটি চলছে ইঞ্জিনের মাধ্যমে। এই হোভারক্রাফট তৈরীতে শাওনের ব্যয় হয়েছে ৪ লাখ টাকা। বর্তমানে তিনি এটি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের বিনোদনে ব্যবহারের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে সরকারী সহয়তায় বানিজ্যিকভাবে হোভারক্রাফট তৈরী করতে চায় শাওন। 
 
২০১৮ সালে জ্বালানি ও চালবিহীন গাড়ি ও বাতাসের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বেশ কিছু নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাকে নিয়ে গর্ববোধ করছে এলাকাবাসী। শাওনের এই নতুন আবিষ্কার হোভারক্রাফট সরকারী সহয়তার মাধ্যমে পৌছে যাক সারা বিশ্বে এমন প্রত্যাশা এলাকার সাধারন মানুষের। মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো.মাসুম বিল্লাহ জানান, হোভারক্রাফটি শাওন আমাদের চালিয়ে দেখিয়েছে। এবং আমরা একসঙ্গে চারজন এই হোভারক্রাফটিতে উঠেছি। নদী পথে চলতে বেশ ভালই লেগেছে। অপর বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন জানান, শাওন একটার পর একটা নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করছে। এই ক্ষুদে বিজ্ঞানী আমাদের এলাকার গর্ব। শাওনের পিতা মো.নাসির উদ্দিন জানান, ছোট বেলা থেকেই শাওনের খেলার সঙ্গী ছিলো ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি। চতুর্থ শ্রেনীতে পড়াকালীন সময়ে সে বাতাসের সাহয্যে বিদ্যুৎ তৈরী করেছে। এবং সেই বিদ্যুৎ দিয়ে আমরা মোবাইল চার্জ দিয়েছি। সপ্তম শ্রেনীতে পড়াকালীন সময়ে শাওন সিকিউরিটি এ্যালারাম তৈরী করেছে। যেটা দিয়ে আমরা চোর ধরতে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া জ্বালানী ও চালক বিহীন গাড়ী এবং এবার সে হোভারক্রাফট তৈরী করেছে। আমি আসলে এসব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে জমি বিক্রি করেও শাওনকে উৎসাহ যুগিয়েছি।
 
ক্ষুদে বিজ্ঞানী শাওন জানান, দীর্ঘ নয় মাস দিন রাত কঠোর পরিশ্রমের পর এটা তৈরী করতে সক্ষম হয়েছি। আমি এ জন্য জীবন রক্ষাকারী দুটি প্রযুক্তি ব্যাবহার করেছি। অতিরিক্ত লোড নিলে একটি ডিভাইসের মাধ্যমে সংকেত পাওয়া যাবে। এছাড়াও নৌযানের তলা ছিদ্র হয়ে গেলেও যাতে ভিতরে পানি প্রবেশ করতে না পারে সেই ব্যাবস্থা রাখা হয়েছে। এটার এখন লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারী দরকার। যেটা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে আমদানী করতে হবে এবং ইতিমধ্যে অর্ডার করা হয়েছে। বর্তমানে হোভারক্রাফটি আমি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের বিনোদনে ব্যবহার করতে চাই। 
 
কলাপাড়া সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান প্রভাষক মো.ইউসুফ আলী জানান, শাওনের উদ্ভাবন পরিবেশ বান্ধব এবং ফুয়েল সাশ্রয়ী। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ওর হোভারক্রাফট বানিজ্যিক ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে বলে আমি মনে করি। 

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড.এসএম তাওহীদুল ইসলাম জানান, ছেলেটির উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সে যেভাবে কাজ করছে সে সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান থাকা দরকার। সেই সাথে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রগ্রামে অংশ নিতে হবে। ওকে আমাদের সকলকে বেশি করে উৎসাহ দেওয়া দরকার। আর বেশি করে স্টাডি করতে হবে, নতুবা কিছু সময় পরে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। জেলা উপজেলাসহ জাতীয় পর্যায়ে শাওনের উদ্ভাবন সম্পর্কে অবহিত করতে পারলে আশার আলো দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান,  ক্ষুদে বিজ্ঞানী শাওন এর আগেও বেশ কিছু প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। তার সকল উদ্ভাবন প্রশংসনীয়। তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহায়তা করা হবে বলে তিনি জানান।
শেয়ার করুন :

মন্তব্য করুন