শিক্ষা খাত উপেক্ষিত এবারের বাজেট চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান অন্তরায়

জাতীয় - শিক্ষা তথ্য

শিক্ষা খাত উপেক্ষিত এবারের বাজেট চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান অন্তরায়
শিক্ষা খাত উপেক্ষিত এবারের বাজেট চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান অন্তরায়

ফিরোজ আলম:- ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শিরোনামে আজ ৩ জুন ২০২১ রোজ বৃহস্প্রতিবার দেশের ৫০ তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ২১ তম এবং বর্তমান অর্থমন্ত্রীর তৃতীয় বাজেট ঘোষিত হয়েছে। আজ ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেটে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে জীবন ও জীবিকা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৃষি খাত। অন্যদিকে এবারের বাজেটে উপেক্ষিত শিক্ষা খাত।গত একযুগ ধরেই বাজেটে উপেক্ষিত শিক্ষা খাত।গত বার বছরের শিক্ষা বাজেট বিশ্লেষনে দেখা যায় 2011-2012 সালে মোট বাজেট ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা, তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ১৯৮১০ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১২.১১শতাংশ 2012-2013সালে মোট বাজেট ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮কোটি টাকা তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ২১৪১৭ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১১.১৭শতাংশ, 2013-2014সালে মোট বাজেট ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ২৫০৯৬ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১১.২৮শতাংশ 2014-2015সালে মোট বাজেট ছিল ২লাখ ৫০ হাজার ৫০৬কোটি টাকা তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ২৯২০৮ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১১.৬৬শতাংশ, 2015-2016 সালে মোট বাজেট ছিল ২লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ৩১৬০৫ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১০.৭১শতাংশ, 2016-2017 সালে মোট বাজেট ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা, তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ৪৯০১২ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১৪.৩৯শতাংশ,এটিই গত দশ বছরে আনুপাতিক হারে সর্বচ্চো শিক্ষা বাজেট । 2017-2018সালে মোট বাজেট ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা ,তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ৫০৪৩৩ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১২.৬৬শতাংশ।2018-2019সালে মোট বাজেট ছিল ৪লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩কোটি টাকা, তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ৫৩০৫৪ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১১.৫৩শতাংশ, 2019-2020সালে মোট বাজেট ছিল ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০কোটি টাকা, তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ৬১১১৮ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১১.৭৪শতাংশ। 2020-2021সালে মোট বাজেট ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা, তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে ৬৬৪০১কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১১.৬৯ শতাংশ। 2021-2022 সালে মোট বাজেট ৬ লাখ তিন হাজার ছয় শত একাশি (৬০৩৬৮১) কোটি টাকা, তার মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে একাত্তর হাজার নয় শত পঞ্চান্ন কোটি টাকা (৭১৯৫৫) টাকা যা মোট বাজেটের ১১.৯১ শতাংশ।এটি গত বছরের বাজেটের তুলনায় টাকার অংকে ৫৫৫৪ কোটি টাকা এবং শতকরা হারে ০.২২ শতাংশ বেড়েছে কিন্তু 2016/2017 বাজেটের তুলনায় ২.৪৮ শতাংশ কমেছে এবং 2017/2018 বাজেটের তুলনায় 0.৭৫ কমেছে। এবারের বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৬৪৮৬ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ৬.০৪ শতাংশ এবং মোট শিক্ষা বাজেটের ৫০.৭০ শতাংশ।এটি গত বছর ছিল ৩৩১১২ কোটি টাকা।টাকার অংকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক খাতে এবার বাজেট বেড়েছে আগের বছরের তুলনায় ৩৩৬৮ কোটি টাকা যা শতকরা হারে ০.৫৩ শতাংশ। এবারের বাজেটে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৬৩১১ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ৪ .৩৫ শতাংশ এবং মোট শিক্ষা বাজেটের ৩৬.৫৬ শতাংশ।এটি গত বছর ছিল ২৪৩৩৭ কোটি টাকা।টাকার অংকে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা খাতে এবার বাজেট বেড়েছে আগের বছরের তুলনায় ১৩৭৪ কোটি টাকা। আর শতকরা হারে ০.৩১ শতাংশ কমেছে। এবারের বাজেটে মাদ্রাসা ও কারিগরি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯১৫৪ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১.৫১ শতাংশ এবং মোট শিক্ষা বাজেটের ১২.৭২ শতাংশ।এটি গত বছর ছিল ৮৩৪৫ কোটি টাকা।টাকার অংকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক খাতে এবার বাজেট বেড়েছে আগের বছরের তুলনায় ৮০৯ কোটি টাকা যা শতকরা হারে যা বেড়েছে ০.১৫ শতাংশ। বাজেটে তুলনামূলকভাবে কারিগরি ও মাদ্রাসায় বরাদ্দ কম ই রাখা হয়েছে।আর মাদ্রাসার বরাদ্দতো তো সর্বনিন্ম যা মাদ্রাসার টেকসই ও মান সম্মত শিক্ষার প্রসারে প্রধান বাধা হবে সন্দেহ নাই। এবারের বাজেটে শিক্ষাখাত উপেক্ষিত হয়েছে সন্দেহ নাই।যার ফলে শিক্ষকদের কাঙ্খিত জাতীয়করন,শতভাগ উৎসব ভাতা,সন্মানজনক বাড়ি ভাড়া,উপযুক্ত চিকিৎসা ভাতা,পেনশন ভাতা সহ ন্যায্য অধিকারের লাভের পথ আর রইল না।সাথে সাথে শিক্ষা নিয়ে সরকারের সূদূরপ্রসারী দীর্ঘ মেয়াদি ভাবনা,পরিকল্পনা এবং পদক্ষেপ যে নেই তা স্পস্ট হল। শিক্ষা খাতে সাড়া ও আশাজাগানিয়া বাজেট ও বিনিয়োগের কৃপনতার কারনে প্রবৃদ্ধির আশাজাগানিয়া উন্নতির সুফল দীর্ঘ মেয়াদে পাওয়া যে সম্ভব হবেনা তা এবারের শিক্ষা বাজেট থেকে স্পস্ট। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের আজকের এই সময়ে দক্ষ ও সৃজনশীল জনবল অপরিহার্য।অথচ এবারের শিক্ষা বাজেট এখানেই ব্যর্থ। আজকের বাংলাদেশে যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হল জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত,নৈতিক শিক্ষায় বলিয়ান, দক্ষ, কর্মঠ,সৃজনশীল, প্রগতিশীল ও উদ্ভাবনী চেতনার এমন মানবসম্পদ সৃষ্টি করা, যারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে এদেশের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে।কিন্তু এবারের ২০২১/২০২২ অর্থ বাজেটে শিক্ষা খাতে যে হারে বরাদ্দ রেখেছে তাতে উপরিউক্ত ফলাফল অর্জন আদৌ সম্ভব হবে না। তাই বলবে শিক্ষা বাজেট অনতিবিলম্বে পরিবর্তন করুন। টাকার অংকে বাজেট বেশি দেখিয়ে শিক্ষক সমাজকে বিভ্রান্ত করবেন না,শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করবেন না।বরং মোট বাজেটের আনুপাতিক হারে ২০ শতাংশ শিক্ষা বাজেটে বরাদ্দ রেখে শিক্ষকদের কাঙ্খিত জাতীয়করন,শতভাগ উৎসব ভাতা,সন্মানজনক বাড়ি ভাড়া,উপযুক্ত চিকিৎসা ভাতা,পেনশন ভাতা সহ ন্যায্য অধিকারের লাভের পথ উন্মুক্ত করুন। না হলে এদেশ ,এজাতি যেমনি জ্ঞানপাপী অধিকার হরনকারী শোষকদের ক্ষমা করবেনা,বিদ্যার আধারিদের বঞ্চনার কারনে তেমনি মেধা আর জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়বে পুরো বাংলাদেশ। লেখক ও কলামিস্ট :- ফিরোজ আলম বিভাগীয় প্রধান (অনার্স.এম.এ শাখা),আয়েশা( রা:) মহিলা কামিল(অনার্স,এম.এ) মাদ্রাসা,সদর,লক্ষীপুর। সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি